Advertisement
E-Paper

ভরণপোষণ দেওয়ার সময় প্রমাণ ছাড়া স্ত্রীকে উপার্জনক্ষম বলে ধরে নেওয়া যাবে না! জানিয়ে দিল দিল্লি হাই কোর্ট

মহিলার স্বামীর দাবি, তাঁর স্ত্রী একটি নার্সারি স্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু স্ত্রীর উপার্জনের কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৬

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ দেওয়ার সময় কোনও প্রমাণ ছাড়া স্ত্রীকে উপার্জনকারী অথবা উপার্জনক্ষম বলে ধরে নেওয়া যাবে না। এ বার এমনটাই জানিয়ে দিল দিল্লি হাই কোর্ট।

পারিবারিক আদালতের মাসিক ২,৫০০ টাকা অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ দেওয়ার আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক মহিলা। সেই আবেদনের শুনানিতেই সোমবার এমনটা জানিয়েছেন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা। মহিলার স্বামীর দাবি, তাঁর স্ত্রী একটি নার্সারি স্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু স্ত্রীর উপার্জনের কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। অন্য দিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই মহিলা মাত্র একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ফলে তাঁর স্বামী যতই স্ত্রীকে উপার্জনক্ষম বলে দাবি করুন, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া এ ক্ষেত্রে কোনও লাভ হবে না।

এর পরেই হাই কোর্ট জানিয়েছে, অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ দেওয়ার সময় স্ত্রীকে উপার্জনকারী বা নিজের ভরণপোষণে সক্ষম বলে ধরে নেওয়া যাবে না। ২০২১ সালে বিয়ে হয়েছিল ওই দম্পতির। স্ত্রীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হত। ২০২২ সালে তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বার করে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মহিলার আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বামীকে প্রতি মাসে অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ বাবদ ২,৫০০ টাকা স্ত্রীকে দেওয়ার নিদান দেয় পারিবারিক আদালত। পরে ভরণপোষণের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবিতে উচ্চ আদালতে যান ওই মহিলা। তাঁর যুক্তি ছিল, তাঁর স্বামী স্নাতক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তিনি একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষক হিসাবে কর্মরত, যার মাসিক আয় প্রায় ২৫,০০০ টাকা। পাশাপাশি, বাড়িতে শিশুদের পড়িয়ে অতিরিক্ত ১৫,০০০ টাকা আয় করতেন ওই যুবক। এ ছাড়াও তাঁদের একটি মুদির দোকানও ছিল, যা থেকে ভাড়াবাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ টাকা আয় হত। যুবকের স্ত্রী দাবি করেন, এই উপার্জনের তুলনায় স্ত্রীকে প্রতি মাসে মাত্র ২,৫০০ টাকা দেওয়া অপর্যাপ্ত।

অন্য দিকে, মহিলার স্বামীর দাবি ছিল, স্ত্রী একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় শিক্ষিকা হিসাবে কাজ করতেন। প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা আয় করতেন তিনি। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই যুবক তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পুরো নথি জমা দেননি। ফলে তাঁর প্রকৃত আয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। আর যদি সত্যই ওই ব্যক্তির আয় ১০,০০০ টাকা হয়ে থাকে, তা হলে সেই আয় একজন স্নাতকের ন্যূনতম প্রাপ্য মজুরির চেয়ে অনেক কম। এর পরেই আদালত জানিয়েছে, স্বামীর আয় ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে (উত্তরপ্রদেশে একজন স্নাতকের জন্য প্রযোজ্য ন্যূনতম মজুরি মাসিক ১৩,২০০ টাকা) নির্ধারণ করা হবে এবং সেই অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণপোষণের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। আপাতত প্রতি মাসে ৩,৫০০ টাকা করে দিতে হবে তাঁর স্ত্রীকে। আগের সমস্ত বকেয়া কিস্তি আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

Delhi High Court Maintenance Marriage
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy