রাত পেরিয়ে সকাল। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। রাতভর আতঙ্কে কেটেছে স্থানীয়দেরও। এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জনকে জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেক আঘাত গুরুতর। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কত জন আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে ধন্দে পুলিশ-দমকল-উদ্ধারকারীরা।
শনিবার রাত পৌনে ৮টা নাগাদ দক্ষিণ দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের অদূরে সইদুল আজাব এলাকার একটি বহুতল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দ। তার পরেই ধুলো উড়িয়ে ধসে পড়ে বহুতলটি। কী ঘটেছিল, তা বর্ণনা করতে গিয়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে শুধু আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছিলাম। চারপাশ শুধু ধুলোর মেঘ জমে ছিল। প্রথমে আমরা বুঝে উঠতে পারিনি কী ঘটেছে। ধীরে ধীরে ধুলোর ধোঁয়াশা কাটলে চোখের সামনে দেখতে পেলাম ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে।’’ আর একজনের কথায়, ‘‘ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে বাঁচাও বাঁচাও আর্তনাদ। সঙ্গে কান্নার আওয়াজ।’’
স্থানীয়েরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর দেওয়া হয় পুলিশ, দমকলকে। জানা গিয়েছে, যে বহুতলটি ভেঙে পড়েছে সেখানে একটি কোচিং ইনস্টিটিউট, ক্যাফে, অফিস ছিল। ওই ভবনের তিনতলায় নির্মাণের কাজ চলছিল। প্রাথমিক অনুমান, সেই নির্মাণকাজের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ-প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
ওই অংশ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আটকে পড়া অনেকের আত্মীয়স্বজনেরা ঠায় অপেক্ষায়। তেমন এক মহিলা সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেন, ‘‘আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ করছি। কেউ কিছু বলতে পারছেন না। কোনও সাড়াশব্দ পাচ্ছি না।’’ গৌরব কুমার নামে এক যুবক জানান, তিনি এবং তাঁর এক বন্ধু ওই বহুতলের কোচিংয়ে পড়াশোনা করেন। মেসে খাওয়াদাওয়া করেন মাঝেমধ্যে। কিন্তু দুর্ঘটনার পর থেকে ওই বন্ধুকে ফোন করে চলেছেন সমানে। কিন্তু কোনও উত্তর পাচ্ছেন না। গৌরবের আশঙ্কা, মেসে খেতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যাননি তো তাঁর বন্ধু? আদৌ বেঁচে আছেন তো? স্থানীয়দের অনুমান, ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন।
উদ্ধারকাজের উপর কড়া নজর রাখছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। তিনি জানান, আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানের সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।