Advertisement
E-Paper

অ-বিজেপি জোট নয় অসমে, চিন্তায় কংগ্রেস

বিহারে কংগ্রেসের জোট সূত্র সোনা ফলিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু অসমে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রাক-নির্বাচনী জোটের সম্ভাবনা আজ সরাসরি খারিজ করে দিলেন সেখানকার আঞ্চলিক দলের নেতা বদরুদ্দিন আজমল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:৪৭

বিহারে কংগ্রেসের জোট সূত্র সোনা ফলিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু অসমে কংগ্রেসের সঙ্গে প্রাক-নির্বাচনী জোটের সম্ভাবনা আজ সরাসরি খারিজ করে দিলেন সেখানকার আঞ্চলিক দলের নেতা বদরুদ্দিন আজমল। দিল্লিতে আজ সাংবাদিক বৈঠক করে আজমল বলেন, ‘‘ভোটের আগে বিজেপি বা কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কোনও সম্ভাবনাই নেই। অ-বিজেপি ও অ-কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে অবশ্য জোটের চেষ্টা চালাবে এআইএইউডিএফ।’’ তবে নির্বাচনের পরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের জানলা তিনি খোলা রাখবেন বলে আজ জানিয়েছেন আজমল।

সন্দেহ নেই, অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এবং জাতীয় কংগ্রেসের নেতাদের কপালে এই খবর চিন্তার ভাঁজ ফেলবে। বিহার ভোটের ঠিক পরে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, কংগ্রেস নেতারা মনে করেছিলেন পটনায় মহাজোটের সাফল্য অসমেও প্রভাব ফেলবে। সেখানেও বিজেপিকে রুখতে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর জোট হবে। অসমে ত্রিশ শতাংশেরও বেশি সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে। সে দিক থেকে বদরুদ্দিন আজমলের দল রাজ্যে বড় সংখ্যালঘু শক্তি। দক্ষিণ, মধ্য এবং পশ্চিম অসমে বাঙালি মুসলিমদের মধ্যে আজমলের মজবুত জনভিত্তি রয়েছে। লোকসভা ভোটে
অসমে কংগ্রেসের মতোই তিনটি আসন পেয়েছে তারা। কংগ্রেসের ধারণা ছিল, বিহার পরবর্তী পরিস্থিতিতে বদরুদ্দিন সহজেই জোটে রাজি হয়ে যাবেন। তিনি নিজেই আগে বলেছিলেন, বিহার ভোটের ফলাফল দেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বদরুদ্দিন এখন বেঁকে বসেছেন। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা তিনি যে আজ শুধু খারিজ করে দিয়েছেন, তা-ই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচারের জন্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠোকার হুমকিও দিয়েছেন।

তবে কংগ্রেস সূত্রে বলা হচ্ছে, বদরুদ্দিন যে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তার ইঙ্গিত আগেই পেয়েছিলেন রাহুলের রাজনৈতিক ম্যানেজাররা। তাই তরুণ গগৈয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে একা লড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল কংগ্রেস। বদরুদ্দিনের ব্যাপারে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটার পরে আগামী সপ্তাহ থেকেই অসমে প্রচারে নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাহুল। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার তাঁর অসমে যাওয়ার কথা। তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, ভোটের চার মাস বাকি থাকলেও এখন থেকে অসমে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করবেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিহার ভোটে জোট গঠনের সাফল্য রাহুল গাঁধীকে দিয়ে কংগ্রেস নেতারা এখনও তাঁর মাহাত্ম্য প্রচার করে চলেছেন ঠিকই। কিন্তু তাঁরা এ-ও জানেন, চার মাস বাদেই চার রাজ্যে নির্বাচন রাহুলের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে হিসেবের মধ্যেই নেই কংগ্রেস। আর দুই কংগ্রেস শাসিত রাজ্য অসম ও কেরলে জোর প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া চলছে। ঘরোয়া আলোচনায় কংগ্রেস নেতারা ইতিমধ্যেই স্বীকার করছেন, কেরলে এ বার তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে পড়ে রইল শুধু অসম। আর সেখানে সংখ্যালঘু ভোটের ভাগাভাগি হলে কংগ্রেস যে বিপদে পড়বে সন্দেহ নেই। সেই কারণেই বদরুদ্দিনের সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা জোট-কথা শুরু করে দিয়েছিলেন।

কিন্তু বদরুদ্দিনকে বেসুরো দেখে কংগ্রেস এখন রাজ্যস্তরে পাল্টা প্রচার শুরু করেছে। ঠিক যে ভাবে বিহারে সংখ্যালঘু নেতা আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে বিজেপির চর বলে প্রচার চালিয়ে তাঁকে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছিল মহাজোট, সেই একই সূত্র অসমে নিয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্ত সম্প্রতি দাবি করেন, বিজেপির নেতাদের সঙ্গে দুবাইতে বসে একটি রফা করেছেন বদরুদ্দিন। তিনি যাতে সব আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোট কাটেন সে জন্য বিজেপি তাঁকে দেড়শো কোটি টাকা দিয়েছে। কংগ্রেস সূত্র জানাচ্ছে, অঞ্জন দত্তের মতো ভাষা ব্যবহার না করলেও অসমে আগেভাগে প্রচারে গিয়ে রাহুলেরও চেষ্টা হবে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা। যাতে ভোট ভাগাভাগি যথাসম্ভব এড়ানো যায়।

বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁতের অভিযোগ নিয়েই মূলত মানহানির মামলা ঠোকার হুমকি দিয়েছেন আজমল। সেই সঙ্গে তিনি অবশ্য বলেন, ‘‘কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়লে উল্টে বিজেপিরই সুবিধা হয়ে যাবে। কারণ, তখন নির্বাচনে পুরোপুরি ধর্মীয় মেরুকরণ হয়ে যাবে। তার ফায়দা পেয়ে যাবে বিজেপি। এ কথাটা তরুণ গগৈও ভাল করে জানেন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy