Advertisement
E-Paper

অবরোধ হঠাতে পুলিশের লাঠি, রণক্ষেত্র পাঁচগ্রাম

পাঁচগ্রাম কাগজকলে উৎপাদন শুরুর দাবিতে রেল ও সড়ক অবরোধ ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাইলাকান্দি। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে ইটবৃষ্টি করে জনতা।

অমিত দাস

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫৫
পাঁচগ্রামে রেললাইন অবরোধ। বৃহস্পতিবার—নিজস্ব চিত্র।

পাঁচগ্রামে রেললাইন অবরোধ। বৃহস্পতিবার—নিজস্ব চিত্র।

পাঁচগ্রাম কাগজকলে উৎপাদন শুরুর দাবিতে রেল ও সড়ক অবরোধ ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাইলাকান্দি। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে ইটবৃষ্টি করে জনতা। রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নেয় পাঁচগ্রামের জাতীয় সড়ক। সংঘর্ষে হাইলাকান্দির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-সহ ৭ পুলিশকর্মী, কয়েক জন সাংবাদিক ও জনাচল্লিশেক মানুষ জখম হন।

ঘটনার সূত্রপাত আজ ভোরে। হাইলাকান্দির সংযুক্ত কর্মী সংগঠনের মঞ্চ পাঁচগ্রামের কাগজকলের উন্নয়নের দাবিতে ১২ ঘণ্টা রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছিল। ভোরে ব্রডগেজে শিলচর- গুয়াহাটি ট্রেনটি পাঁচগ্রামে পৌঁছলে সেটি আটকে দেন আন্দোলনকারীরা। এ নিয়ে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হলেও, সমাধানসূত্র মেলেনি। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের হঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। ছোঁড়া হয় কাঁদানে গ্যাস। অভিযোগ, রেল পুলিশ ও সিআরপি জওয়ানরাও লাঠিচার্জ শুরু করে। লাঠির আঘাতে কয়েক জন আন্দোলনকারীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষও জখম হন। পুলিশ প্রথমে লাঠি চালিয়ে রেল লাইন থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়। কর্মী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানবেন্দ্র চক্রবর্তী ও সুজিত সেনগুপ্ত-সহ কয়েক জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতারও করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ গুয়াহাটি থেকে শিলচরগামী ট্রেন পাঁচগ্রামে পৌঁছলে ফের রেল লাইনে বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। হাইলাকান্দি প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। রেল পুলিশের তরফে ওসি কনকচন্দ্র নাথ ওই জমায়েতকে বেআইনি ঘোষণা করে অবরোধ প্রত্যাহার করতে বলেন। এর পরই রেল পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ অবরোধকারীদের লাইন থেকে সরাতে শুরু করে। রুখে দাঁড়ান আন্দোলনকারীরা। শুরু হয় ইটবৃষ্টি। অভিযোগ, পথচলতি কয়েক জনকেও বেধড়ক মারধর করে নিরাপত্তা বাহিনী। রাস্তার পাশে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল, সাইকেলও লাঠি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের উপরও লাঠিচার্জ করা হয়। কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে জনতাকে কাগজকলের সামনের রাস্তা থেকে হঠিয়ে দেয় পুলিশ।লাঠির আঘাতে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির হাইলাকান্দি জেলা সভাপতি সরিফউদ্দিন মাজারভুঁইঞা, সম্পাদক জহিরউদ্দিন লস্কর, সাংবাদিক রাজেশ দাস, রমিজউদ্দিন-সহ জনাচল্লিশেক মানুষ আহত হন। আন্দোলনকারীদের ইটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজমোহন রায়-সহ ৮ জন নিরাপত্তাকর্মীও জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন করিমউদ্দিন বড়ভুঁইঞা, নিতাই দে, সমর দেবনাথ, কাজু রবিদাস, সঞ্জু দাস, অক্ষয় দাস, সিআরপি জোয়ান অনিল যাদব।

হাইলাকান্দির পুলিশ সুপার রাজেন সিংহ ও জেলাশাসক মলয় বরা ঘটনাস্থলে যান। এএসপি রাজমোহন রায় বলেন, ‘‘ইটবৃষ্টি রুখতেই বাধ্য হয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে।’’

হাইলাকান্দি জেলা কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরউদ্দিন লস্কর বলেন, ‘‘পুলিশ নিরীহ আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে লাঠি চালিয়েছে। অনেকে গুরুতর জখম হয়েছেন।’’ ঘটনার জেরে মন্ত্রী সিদ্দেক আহমেদ, সাংসদ রাধেশ্যাম বিশ্বাস ও হাইলাকান্দি পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা বৈঠক করেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা নাগরিক সভা ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিন দিনের মধ্যেই ওই সভা হবে।

এ দিন গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন অসম গণ পরিষদের মেহনাজ সইদ, আফতাবউদ্দিন লস্কর, মেহেবুবুল হাসান, জহিরউদ্দিন লস্কর। হাইলাকান্দির সার্কেল অফিসার সরফরাজ হক জানান, ৩০ জন আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবরোধ চলাকালীন শিলচরের সাংসদ সুস্মিতা দেব পাঁচগ্রামে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy