Advertisement
E-Paper

অম্রুত ধরে রাখা নিয়ে সংশয়ে শিলচর

দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করছিলেন শিলচরবাসী। ‘স্মার্ট সিটি’র বদলে ‘অম্রুত’। কিন্তু শেষ অবধি ‘অম্রুত’ও কপালে সইবে কী না— তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। ‘ই-গভর্ন্যান্স’-সহ যে শর্তগুলি পূরণ করলে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের জন্য নাম লেখানো যায়— তা পূরণ করতে না পারায় ‘স্মার্ট’ হতে পারেনি শিলচর। পরে বিজেপির স্থানীয় কর্মকর্তারা ‘অম্রুত’ (অটল মিশন ফর রিজুভিনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন)-এ নাম তোলার জন্য কোমর কষে নামেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৫ ০২:৫৬

দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করছিলেন শিলচরবাসী। ‘স্মার্ট সিটি’র বদলে ‘অম্রুত’। কিন্তু শেষ অবধি ‘অম্রুত’ও কপালে সইবে কী না— তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

‘ই-গভর্ন্যান্স’-সহ যে শর্তগুলি পূরণ করলে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের জন্য নাম লেখানো যায়— তা পূরণ করতে না পারায় ‘স্মার্ট’ হতে পারেনি শিলচর। পরে বিজেপির স্থানীয় কর্মকর্তারা ‘অম্রুত’ (অটল মিশন ফর রিজুভিনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন)-এ নাম তোলার জন্য কোমর কষে নামেন। শেষ পর্যন্ত অসমের গুয়াহাটি, ডিব্রুগড়, নগাঁওয়ের সঙ্গে শিলচরকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়।

‘অম্রুত’ প্রকল্পে শহরের জল সরবরাহ, নিকাশি, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটানো হবে। ২০ বছরের পরিকল্পনা। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। দেশ জুড়ে ৫০০টি শহরকে বাছাই করে কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্বে প্রতিটি শহরের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে কেন্দ্র। অসমের চারটি শহরের জন্য এক কোটি টাকা জুলাই মাসেই রাজ্য তহবিলে জমা হয়েছে। কিন্তু শিলচর পুরসভার সমস্যা হল, প্রাথমিক পর্বের ওই টাকার জন্য প্রকল্প-রিপোর্টই জমা দিয়ে উঠতে পারেননি পুর সভাপতি নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দফতর, পূর্ত দফতর, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, স্যুয়ারেজ বোর্ড ও জলসম্পদ বিভাগের কর্তাদের নিয়ে দু’বার বৈঠক করলেও প্রয়োজনীয় তথ্যপাতি জোগাড় করা যায়নি।

‘অম্রুত’-এর জন্য আরও কয়েকটি শর্তপূরণ প্রয়োজন। যার মধ্যে প্রধান এলইডি বাল্বে শহর আলোকিত করা ও জঞ্জাল নিষ্কাশন। নীহারবাবুর জানান, গত কাল পুরবোর্ডের বৈঠকে এলইডি বাল্ব লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। নয়ডা ও বাঙ্গালোরের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তিনি জানান, এলইডি বাল্বে লাভ না-হলেও ক্ষতি হবে না। এখন বছরে ৪০ লক্ষ টাকা বিদ্যুতের বিল দিতে হয়। এলইডি বসালে বিল হবে ২০ লক্ষ টাকা। চুক্তিবদ্ধ সংস্থা নেবে ২০ লক্ষ টাকা। সাত বছর তারাই সব মেরামতি করবে, প্রয়োজনে বাল্ব বদলাবে। শহরের ২৮টি ওয়ার্ডে সাড়ে ৫ হাজার বাল্ব লাগানো হবে। ১৫ দিনের মধ্যে বিশেষ সভা ডেকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। জঞ্জাল নিষ্কাশন নিয়ে নীহারবাবু জানান, সকাল-সকাল শহর থেকে জঞ্জাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোথাও দুর্গন্ধ নেই। সংগৃহীত বর্জ্য ব্যবহার করে জৈব সার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরির জন্য দু-তিনটি সংস্থার সঙ্গে কথা চলছে।

নীহারবাবু জানান, ‘অম্রুত’ ছাড়াও তাঁরা শহরকে সাজিয়ে তোলার জন্য আরও বেশ ক’টি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে তারাপুর উকিলবাজার, কলেজ রোড বাজার ও ইটখলা বাজারে ‘মাল্টি-ইউলিটি বিল্ডিং’ তৈরি করা হবে। সেখানে বর্তমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে। থাকবে সভাকক্ষ, বিবাহভবন ইত্যাদি। উকিলবাজারের বাজারভবনে ঝাড়ুদারদের থাকার জন্য কয়েকটি ঘরও রাখা হতে পারে।

জলকর ২৫ শতাংশ কমানো এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর সংগ্রহের সিদ্ধান্তের কথাও জানান নীহারবাবু। ১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে।

তাঁর দাবি, কংগ্রেসের আমলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কর সংগ্রহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন কর সংগ্রহের জন্য চার শতাংশ কমিশনে ২৮ জন কালেক্টর নিযুক্ত করা হয়েছে। এতে রাজস্ব বেড়ে চলেছে।

নীহারবাবু বলেন, ‘‘আট মাস ধরে শিলচর পুরসভা নিজস্ব তহবিল থেকে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে যাচ্ছে। কংগ্রেসিরা বরং দিসপুরে গিয়ে পুরকর্মীদের বেতনের টাকা আদায় করে আনুন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy