Advertisement
E-Paper

দীপকে মিথ্যা বলেছে জঙ্গিরা, দাবি করছে মিজোরাম সরকার

মিজোরাম থেকে ‘বিতাড়িত’ রিয়াংদের অধিকার ফেরাতেই তাদের সশস্ত্র সংগ্রামদীপ মণ্ডলকে এমনই বলেছিল অপহরণকারীরা। ব্রু এবং রিয়াং জঙ্গিদের সেই দাবি ওড়াল মিজোরাম সরকার। প্রশাসনের বক্তব্য, মিথ্যা কথা বলেছে জঙ্গিরা। বাংলাদেশের জঙ্গি শিবির থেকে মুক্তির পর দীপ জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রশ্নের জবাবে জঙ্গিরা বলেছিল, মিজোরাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া রিয়াং উপজাতির মানুষকে শরণার্থী শিবিরে থাকতে হচ্ছে।

রাজীবাক্ষ রক্ষিত

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৪ ০৩:৫৪

মিজোরাম থেকে ‘বিতাড়িত’ রিয়াংদের অধিকার ফেরাতেই তাদের সশস্ত্র সংগ্রামদীপ মণ্ডলকে এমনই বলেছিল অপহরণকারীরা।

ব্রু এবং রিয়াং জঙ্গিদের সেই দাবি ওড়াল মিজোরাম সরকার। প্রশাসনের বক্তব্য, মিথ্যা কথা বলেছে জঙ্গিরা।

বাংলাদেশের জঙ্গি শিবির থেকে মুক্তির পর দীপ জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রশ্নের জবাবে জঙ্গিরা বলেছিল, মিজোরাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া রিয়াং উপজাতির মানুষকে শরণার্থী শিবিরে থাকতে হচ্ছে। তাঁদের অধিকার ফেরত পেতেই ‘ব্রু ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট’ গড়ে লড়াই চালাচ্ছে জঙ্গিরা। রিয়াংদের জন্য স্বশাসিত পরিষদ গঠন করলে তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও রাজি। জঙ্গিদের বক্তব্য উড়িয়ে মিজোরাম সরকার জানিয়েছে, বারবার আবেদন জানানো হলেও, রাজ্যে ফিরতে নারাজ অধিকাংশ রিয়াং শরণার্থী। পাশাপাশি, আসন্ন লোকসভা ভোটেও রিয়াংদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার অনুমতি নিয়ে ক্ষুব্ধ মিজো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি।

গত বছর নভেম্বর মাসের শেষে মিজোরামের মামিত জেলা থেকে টেলিকম সংস্থার কর্মী দীপ মণ্ডলকে অপহরণ করা হয়। মুক্তিপণের বিনিময়ে ২২ মার্চ তিনি রেহাই পান। বাংলাদেশের জঙ্গলে অপহরণকারীদের ঘাঁটিতে থাকার সময় দীপকে জঙ্গিরা জানিয়েছিল, ১৯৯৭ সালে মিজোরামে গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে, গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হন ব্রু এবং রিয়াং উপজাতির মানুষ। সকলে ত্রিপুরায় পালান। তখন থেকে তাঁরা সেখানেই রয়েছেন। সে সব দিনের অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতেই জঙ্গিদের সশস্ত্র সংগ্রাম।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, অনেক দিন ধরেই ত্রিপুরার শরণার্থী শিবিরে থাকা রিয়াং বা ব্রু উপজাতির মানুষকে নিজেদের গ্রামে ফেরার আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু, নিজেদের ইচ্ছা এবং একটি গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য তাঁরা ফিরতে রাজি হচ্ছেন না।

মিজো প্রশাসনের দাবি, কয়েকটি রিয়াং পরিবার ইতিমধ্যেই রাজ্যে ফিরে এসেছেন। নিজেদের গ্রামে তাঁরা নিশ্চিন্তে, নিরাপদে রয়েছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন।

ত্রিপুরার শরণার্থী শিবিরে থাকা রিয়াংদের জন্য ভোটের সময় পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়। মিজোরামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি ওই নিয়মের বিরোধিতায় সরব হয়েছে। সংগঠনগুলির বক্তব্য, সব রকম সাহায্য ও নিরাপত্তার আশ্বাসের পরও, যাঁরা শিবিরে থাকতে চাইছেন, তাঁরা স্বেচ্ছায় রাজ্য থেকে নির্বাসিত। তাঁদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা উচিত নয়। ওই সব ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ারও দাবি উঠেছে। সংগঠনগুলির অভিযোগ, শরণার্থী শিবিরগুলি ব্রু জঙ্গি, অপরাধীদের ‘আঁতুড়ঘর’ হয়ে উঠেছে।

মিজোরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেব জানান, নির্বাচনের পর, সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করে ব্রু শরণার্থীদের মিজোরামে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হবে। তাতে সাড়া দিয়ে ফিরে আসা শরণার্থীদের জন্য শিবির তৈরি করবে সরকার। নিজেদের গ্রামে ঘর তৈরির জন্য সাহায্যও করা হবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাঁরা ফিরবেন না, তাঁদের মিজো নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে না। ওই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, স্বেচ্ছায় ত্রিপুরায় থেকে যাওয়া শরণার্থীদের নাম মিজোরামের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্যও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে আবেদন জানানো হবে।

মিজো মুখ্যমন্ত্রী লাল থানহাওলা বলেন, “শরণার্থীরা ভারতেরই নাগরিক। ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম তা-ই বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে পোস্টাল ব্যালটে রিয়াং শরণার্থীদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিল করতে উপযুক্ত মহলে আর্জি জানানো হবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy