Advertisement
E-Paper

দিল্লির গোর্খাদের দার্জিলিং আনছে মোর্চা

কোনও ট্রেনে ৫০ জন। কোনওটাতে আবার একসঙ্গে ২০০ জন। ব্যাগপত্তর গুছিয়ে দিল্লি থেকে সবাই চলেছেন দার্জিলিং। রাজধানীর গরম এড়িয়ে ছুটি কাটাতে নয়। ভোট দিতে। ৯ এপ্রিল থেকে ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আসবেন ভোটাররা। ১৭ এপ্রিল দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। মোর্চার দাবি, তার আগেই দিল্লিবাসী আট হাজার গোর্খা দার্জিলিঙে পৌঁছে যাবেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০১৪ ০২:৫৬

কোনও ট্রেনে ৫০ জন। কোনওটাতে আবার একসঙ্গে ২০০ জন। ব্যাগপত্তর গুছিয়ে দিল্লি থেকে সবাই চলেছেন দার্জিলিং।

রাজধানীর গরম এড়িয়ে ছুটি কাটাতে নয়। ভোট দিতে। ৯ এপ্রিল থেকে ভোটের আগের দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আসবেন ভোটাররা। ১৭ এপ্রিল দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। মোর্চার দাবি, তার আগেই দিল্লিবাসী আট হাজার গোর্খা দার্জিলিঙে পৌঁছে যাবেন। তাঁরা সবাই ভোট দেবেন বিজেপির পক্ষে। মোর্চার দিল্লি শাখার সভাপতি মনোজ শঙ্কর বলেন, “দিল্লিতে বিভিন্ন রাজ্যের ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি গোর্খা থাকেন। সকলের নাম-ঠিকানার তালিকা তৈরি করে ফেলেছি। দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে ১০-১২ হাজারের নাম এখনও দার্জিলিঙের ভোটার তালিকায় আছে। যার মধ্যে ৮ হাজার দার্জিলিঙে ভোট দিতে যাবেন।”

উত্তর ভারতের যে সব রাজ্যে গোর্খারা রয়েছেন, তাঁদের ভোটও যাতে বিজেপির ঝুলিতেই যায়, তা-ও নিশ্চিত করতে চাইছে মোর্চা। তাই মোর্চার দিল্লি শাখার নেতারা রাজধানীর সমস্ত কেন্দ্রে প্রচারে নেমে পড়েছেন। দিল্লি থেকে তাঁরা হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, চণ্ডীগড়, পঞ্জাবেও যাচ্ছেন। সেখানকার গোর্খাদের সঙ্গে ই-মেল, এসএমএস, টেলিফোন, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হচ্ছে। গুরুঙ্গদের বার্তা একটাই। এ বার সব ভোট বিজেপিকে দিতে হবে। কারণ, বিজেপি পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করছে।

গুরুঙ্গ যা-ই বলুন, দার্জিলিং কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুরেন্দ্র সিংহ অহলুওয়ালিয়া অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তিনি আজ বলেন, “সর্বত্র বলা হচ্ছে বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় এলে গোর্খাল্যান্ড হয়ে যাবে। তা নয়, আমরা বলেছি, ক্ষমতায় এলে এই দাবি সহানুভূতির সঙ্গে দেখব।”

মোর্চা নেতৃত্ব কিন্তু মনে করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই তাঁদের গোর্খাল্যান্ডের স্বপ্ন সত্যি হবে। তাই দার্জিলিঙের পাশপাশি অন্যত্রও বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। দিল্লির গোর্খা ভবনে বৈঠক ডেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিষয়ে প্রস্তাবও নিয়েছে মোর্চার দিল্লি শাখা। দিল্লিবাসী গোর্খাদের মধ্যে যাঁরা প্রবীণ এবং বলিয়ে-কইয়ে, তাঁদের ভোটের আগে বিজেপির হয়ে প্রচারে পাঠানো হবে। ৮২ জনকে বাছাইও করা হয়েছে। তাঁরাও দার্জিলিং রওনা হচ্ছেন।

এই তৎপরতার কারণ কী? মোর্চা সূত্রের বক্তব্য, গত লোকসভা ভোটে যশোবন্ত সিংহের জয় যতটা সহজে হয়েছিল, এ বার অহলুওয়ালিয়ার জয় তত সহজ নয়। কারণ মোর্চার সমর্থনে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে। উল্টে সাংগঠনিক জোর বাড়িয়েছে তৃণমূল। ভাইচুং ভুটিয়াকে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুবাস ঘিসিঙ্গও তৃণমূলকেই সমর্থন করছেন।

এত যে দলে দলে লোক দার্জিলিঙে যাচ্ছেন, তাঁদের যাতায়াতের খরচ জোগাচ্ছে কারা? মনোজ শঙ্করের দাবি, “সকলে ব্যক্তিগত খরচেই যাচ্ছেন। নিজেদের বাড়িতেই থাকবেন। আমরা শুধু তাঁদের পৃথক গোর্খাল্যান্ডের কথা বলে উদ্বুদ্ধ করছি।” যে সব গোর্খা দিল্লিতেই ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, তাঁদেরও নিজের কেন্দ্রে বিজেপিকেই ভোট দিতে বলা হচ্ছে।

দিল্লির আশপাশের রাজ্যে কোথায় কত গোর্খা রয়েছেন, তারও তালিকা তৈরি হয়েছে। দিল্লি থেকে মোর্চা নেতারা ওই সব রাজ্যে গিয়ে গোর্খাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। তার ফাঁকেই গোর্খাল্যান্ডের কথা বলে বিজেপির পক্ষে ভোটের মন্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে কানে।

delhi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy