তিন মাসে ৩টি ট্রেন পেল শিলচর। একে বড় ব্যাপার বলেই মনে করেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার এইচ কে জাগ্গি। তিনি বলেন, ‘‘এখানেই শেষ নয়। কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ ভারতের সঙ্গেও শিলচরকে সরাসরি যুক্ত করা হবে। বিভাগীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্তপ্রায়। একে কার্যকর করার জন্য কী কী প্রয়োজন, এখন সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
২১ নভেম্বর শিলচর থেকে ব্রডগেজে প্রথম ট্রেন চলে গুয়াহাটির উদ্দেশে। ১ ফেব্রুয়ারি চালু হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। শিলচর থেকে শিয়ালদহ। গত কাল বেলা ২টো ৪৫ মিনিটে উদ্বোধন হবে পূর্বোত্তর সম্পর্কক্রান্তি স্পেশালের। রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু শিলচর থেকে দিল্লির উদ্দেশে সেটির যাত্রা শুরুর সঙ্কেত দেবেন।
এ নিয়ে কয়েক দিন থেকেই রেলকর্মীদের মধ্যে ব্যস্ততা। মন্ত্রীর অনুষ্ঠানকে নিখুঁত করে তুলতে আজ সকালে এখানে এসেছেন জেনারেল ম্যানেজার জাগ্গি। অফিসার-কর্মী সহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলে জানতে চেয়েছেন স্থানীয় মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘এখানকার মানুষের দাবি সম্পর্কে রেল বিভাগ অবগত রয়েছে। তাই একে একে তিনটি ট্রেন দেওয়া হয়েছে। চতুর্থটি শুধু সময়ের অপেক্ষা।’’
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে পরিচ্ছন্নতার অভাবের অভিযোগ মেনে নেন তিনি। জানান, আসা-যাওয়া দুইবারই গুয়াহাটিতে ভাল করে ট্রেনটিকে সাফ-সুতরো করা হয়। সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় সেখানেই। গুয়াহাটি-শিলচর অংশে সে ধরনের ব্যবস্থা এখনও ভালভাবে তৈরি হয়নি। তবু চেষ্টা চলছে, এই দাবি করে জাগ্গি বলেন, ‘‘কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। সব মিটিয়ে দেওয়া হবে।’’
বিমানে চেপে রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু কাল শিলচর পৌঁছবেন বেলা সাড়ে বারোটায়। ২টোয় রেলস্টেশনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরু। সঙ্গে থাকবেন সাংসদ সুস্মিতা দেব ও বিধায়ক দিলীপকুমার পাল। সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর ২টো ৪৫ মিনিটে রেলমন্ত্রী পতাকা নাড়িয়ে পূর্বোত্তর সম্পর্কক্রান্তি স্পেশালের সূচনা করবেন। তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে সেই ট্রেনটিকে আজ সকাল থেকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। গাঁদা, রজনীগন্ধা সহ বিভিন্ন রকমের ফুল আনা হয়েছে। গুয়াহাটি, কামাখ্যা ও শিলচর স্টেশন থেকে ১৪ কামরা সংগ্রহ করে এর রূপদান করা হলেও বোর্ড লেগেছে একেবারে ঝা-চকচকে। তাতে লেখা ০৫৬০১-০৫৬০২ শিলচর-নিউ দিল্লি পূর্বোত্তর সম্পর্কক্রান্তি স্পেশাল। ইঞ্জিনের জন্য আলাদা বোর্ড।
স্টেশন এবং ট্রেনের সেজে ওঠা ছাড়াও আরপিএফের বিশাল সংখ্যায় উপস্থিতিও নজর কাড়ে। বলা যায়, আরপিএফের চাদরে ঢাকা পুরো স্টেশন চত্বর।
রেলমন্ত্রীর সফর ঘিরে ব্যস্ততা দেখা যায় শিলচর পুরসভা এবং এনআইটি-তেও। তাঁকে কাল সন্ধ্যা ৫টায় বঙ্গভবনে নাগরিক সংবর্ধনা জানানো হবে। পুরসদস্য অভ্রজিত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, জেলাশাসক এস বিশ্বনাথনও এতে উপস্থিত থাকবেন। পৌরোহিত্য করবেন পুরপ্রধান নীহারেন্দ্র নারায়ণ ঠাকুর। রাতে প্রভু এনআইটি-তে যাবেন।
এর আগে সার্কিট হাউসে তিনি দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন। বিজেপির জেলা সভাপতি কৌশিক রাই জানান, রেলমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দুই সাংসদ বিজয়া চক্রবর্তী এবং রমেন ডেকা শিলচর আসছেন। কাল সম্পর্কক্রান্তি স্পেশালের সঙ্গে দুটি বাণিজ্যিক মালগাড়িকেও যাত্রা শুরুর সঙ্কেত দেবেন মন্ত্রী প্রভু। একটি যাবে ত্রিপুরার জিরানিয়াতে। অন্যটি মণিপুরের জিরিবামে। বদরপুর থেকে মালগাড়ি দুটি রওয়ানা হবে। শিলচরে বসে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে রেলমন্ত্রী সেগুলিকে যাত্রাশুরুর সঙ্কেত জানাবেন। দুই রুটেই গেজ পরিবর্তনের জন্য রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্রডগেজে প্রথম মালগাড়ি চলবে বলে ওই দুই রাজ্যেও এই অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক উত্সাহ।
রেলসূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে শিলচরের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন রওয়ানা হবে ২২ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে বারোটায়। মাঝে কানপুর সেন্ট্রাল, এলাহাবাদ, কাটিহার, নিউ জলপাইগুড়ি, নিউ বঙ্গাইগাঁও, গোয়ালপাড়া টাউন, গুয়াহাটি, লামডিং, নিউ হাফলং ও বদরপুরে দাঁড়াবে। তবে ৩ মার্চ থেকে সম্পর্কক্রান্তি দিল্লির উদ্দেশে শিলচর ছাড়বে প্রতি সোমবার। সময় সেই বেলা ২টা ৪৫ মিনিট। দিল্লি থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার। জুলাইয়ে বদলে যাবে সময়ও। ৪ জুলাই থেকে প্রতি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সম্পর্কক্রান্তি শিলচর ছাড়বে। দিল্লি থেকে বৃহস্পতিবার পৌনে ১২টাতেই।