Advertisement
E-Paper

নাগরিকত্ব আইন শীঘ্রই, আশ্বাস রাজনাথের

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের কোনও নিশ্চয়তা মিলল না। তবে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত ‘সংখ্যালঘু’-দের নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যাপারে কেন্দ্র যে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে, সে কথা বরাকের বিজেপি নেতাদের জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। অন্তত তেমনটাই দাবি করেছেন এই বিজেপি নেতারা।

নিজস্ব সংবাদাদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:৩২

সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের কোনও নিশ্চয়তা মিলল না। তবে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসা নির্যাতিত ‘সংখ্যালঘু’-দের নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যাপারে কেন্দ্র যে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে, সে কথা বরাকের বিজেপি নেতাদের জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। অন্তত তেমনটাই দাবি করেছেন এই বিজেপি নেতারা।

গত কাল বিজেপির রাজ্য সম্পাদক রাজদীপ রায়, করিমগঞ্জ জেলা সভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য ও ‘বিমলাংশু রায় ফাউন্ডেশন’-এর শুভদীপ রায় দিল্লিতে রাজনাথের সঙ্গে দেখা করেন। নাগরিকত্ব ইস্যুতে তিনি তাঁদের জানান, সরকার সমস্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। এ ব্যাপারেও তাঁরা কথার খেলাপ করবেন না। বিলের খসড়া তৈরি হয়ে গিয়েছে। গত অধিবেশনে বিরোধীদের হইচইয়ে কোনও কাজ হয়নি। ফলে জরুরি বহু বিষয় আটকে রয়েছে। সংসদের আগামী অধিবেশনের শুরুতে সেগুলি সেরে নিতে হবে। সুযোগ পেলে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্বের বিলটিও পেশ করার চেষ্টা হবে। নইলে পরের অধিবেশনে নিশ্চিতভাবেই তা করা হবে বলে তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করেন। কিছু দিন আগে নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কেন্দ্র। তাতে বলা হয়, ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে যে সব হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন ও পার্সি সম্প্রদায়ের মানুষ এই দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের জন্য নাগরিকত্ব আইন ও পাসপোর্ট আইন কিছুটা শিথিল করা হল। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাঁদের বিতাড়ন করা হবে না। বরং কেন্দ্র যে ওই ধরনের আশ্রিতদের নাগরিকত্ব প্রদানের কথা ভাবছে, বিজ্ঞপ্তিতে তারও উল্লেখ করা হয়। কিন্তু তা অসমের বাঙালিদের কোনও উপকারে আসেনি। বাংলাদেশ বা পাকিস্তান থেকে আসা মানুষদের কথা দূরে থাক, সন্দেহভাজনদেরও রেহাই মিলছে না। এক তরফা রায়ে যাঁরা জেলে রয়েছেন, আগের মতোই বন্দিদশায় দিন কাটছে তাঁদের। এমনকী, কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তির পরও ধরপাকড় অব্যাহত। পুলিশের বক্তব্য, রাজ্য সরকারকে বিজ্ঞপ্তি মেনে নতুন নির্দেশ পাঠাতে হবে। আইনজীবীরা বলছেন, মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য নিছক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কাজ হবে না, প্রয়োজন আইনের। রাজদীপবাবুরা সে সব কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান। তবে তার আগে বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য মোদী সরকার ও রাজনাথ সিংহকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা। তাঁরা বলেন, আইন না হলেও এই বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। অসমের বিধানসভা নির্বাচন যে দোরগোড়ায়, সে কথাও তাঁরা রাজনাথকে স্মরণ করিয়ে দেন। রাজদীপবাবু জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা নির্যাতিতদের নাগরিকত্ব প্রদান করা না হলে দলের বাঙালি ভোট আদায় কঠিন হতে পারে। টেলিফোনে রাজদীপবাবু বলেন, ‘‘রাজনাথ সিংহের সঙ্গে কথা বলে আমরা আশ্বস্ত।’’

রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন পরিষদের অধ্যক্ষ হিসাবে শপথ নিলেন হোজাইয়ের বিধায়ক অর্ধেন্দু দে। শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বলেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের সার্বিক বিকাশ ছাড়া রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আমরা ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিষদগুলির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েছি।’’

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy