বিধানসভা থেকে ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও শিক্ষকরা সেই অর্থ এখনও পাননি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার কথা সেটা নিয়ে তোড়জোড় শুরু হলেও এখনও হাতে পাননি এক টাকাও। অভিযোগ, হেল্থ স্কিমের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষকেরা। তাই এ বারে কার্যত দেখে নেওয়ার সুরে শিক্ষকেরা জানিয়ে দিলেন, এর প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, বঞ্চিতদের তালিকায় শিক্ষকেরা সবার উপরে। সেটা মহার্ঘ ভাতা হোক বা অন্য কোনও সুবিধা। এ ভাবে শিক্ষক সমাজের মধ্যে সরকারের প্রতি যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে সেটা সরকারের পক্ষে মোটেই ভাল নয়। বিধানসভায় বাজেটে যে ভাতা পাশ হয়েছে সেটা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। মে মাসের বেতনে সেই বর্ধিত ৪ শতাংশ ভাতা যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু এখনও তার কোনও নির্দেশিকা প্রকাশিত না হওয়ায় আশাহত শিক্ষকেরা।
এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রতি মাসের ২ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত পোর্টালের মাধ্যমে বেতনের তথ্য তুলে (সাবমিট) দিতে হয়। সরকারের তরফ থেকে কোনও নির্দেশিকা প্রকাশিত হয় কি না সেটা দেখার জন্য এতদিন বিভিন্ন স্কুলের প্রধানরা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ৯ এপ্রিল পর্যন্ত কোনও নির্দেশিকা না আসায় মহার্ঘ ভাতার ভবিষ্যত নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। এর পরে কি আর পোর্টালে বেতন সাবমিট সম্ভব নয়? উত্তরে এক শিক্ষক জানান, দফতর থেকে যদি ফের পোর্টাল খুলে দেওয়া হয় তবেই সম্ভব। মে মাসের বেতনে আদৌ ওই ভাতা যুক্ত হবে কি না তা নিয়েই সন্দিহান শিক্ষকদের একাংশ।
অ্যাডভান্স়ড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস- এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, ‘‘সমস্ত সরকারি কাজ আমাদের দিয়ে করানো হচ্ছে। কিন্তু হেলথ স্কিম হোক বা মহার্ঘ ভাতা, সবেতেই আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। এ ভাবে চূড়ান্ত বঞ্চনার শিকার হচ্ছে গোটা শিক্ষক সমাজ।’’ শিক্ষকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের তহবিলে কি যথেষ্ট অর্থ নেই? নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘বিধানসভায় ঘোষণার প্রায় দু’ মাস পরেও এই বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হল না, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের। অতীতে এ রকম কখনও হয়নি।’’
তবে শিক্ষকদের একাংশ আবার হুমকির সুরেও সরকারকে তাঁদের ক্ষোভের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাজেটের দিন ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং তা এপ্রিল থেকেই লাগু হবে বলেছিলেন। কিন্তু দেড় মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও এখনও নবান্ন থেকে অর্ডার বের হয়নি। লক্ষ লক্ষ শিক্ষক, কর্মচারী সরকারের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন। এ মাসের বেতন বিল সাবমিট করেননি এখনও। আশা করি আজ-কালের মধ্যে অর্ডার বেরিয়ে যাবে। সরকারকে এটা মনে রাখতে হবে আর মাত্র সাত দিন পরেই পোস্টাল ব্যালটে ভোট। সেখানে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।’’
তবে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতমকুমার হালদার বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা বলেন সেটা করেন। ইতিমধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও সকলে পেয়ে যাবেন। নির্বাচনের কারণে আধিকারিকেরা ব্যস্ত থাকায় প্রক্রিয়াতে দেরি হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে যাঁরা এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছেন তাঁদের অনুরোধ করব বিরত থাকুন।’’