Advertisement
E-Paper

‘নেট’ ছাড়াও গবেষক-ভাতা চালুই রাখল কেন্দ্র

নেট-পাশ না করা গবেষকদের জন্য সুখবর! আপাতত ভাতা বন্ধ হচ্ছে না ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট’ (নেট) পাশ না করা গবেষকদের। এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে ওই সমস্ত গবেষকদের ভাতা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৫ ১৮:৩৭

নেট-পাশ না করা গবেষকদের জন্য সুখবর! আপাতত ভাতা বন্ধ হচ্ছে না ‘ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট’ (নেট) পাশ না করা গবেষকদের। এ ছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে ওই সমস্ত গবেষকদের ভাতা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

এ বছরের শেষেই নতুন শিক্ষানীতি শুরু করতে চায় কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল প্রথা চালু করা নিয়ে অধিকাংশ রাজ্যেরই সমর্থন পেয়েছে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু ভাতা বন্ধ করার কথা ঘোষণা করতেই চাপের মুখে পড়ে গিয়েছিল কেন্দ্র। একাধিক ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত হতে পারেনি খোদ বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও। যে কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছু হটতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। রবিবার ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কথা জানান কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় ‘নেট’ পাশ করেননি এমন গবেষকদের ফেলোশিপ ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের যুক্তি ছিল, বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ওই ভাতার বণ্টন নিয়েই সমস্যা রয়েছে। সঠিক ভাবে যথার্থ গবেষকদের কাছে সেই ভাতা পৌছয় না বলেই মন্ত্রক সূত্রের খবর। মন্ত্রকের দাবি, ভুয়ো গবেষণার কাগজ-পত্র দেখিয়ে বহু ব্যক্তি সরকারের টাকা আত্মস্যাৎ করে নিচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একমাত্র নেট উত্তীর্ণদের আগামী দিনে ভাতা দেবে ইউজিসি।

Advertisement

সরকারের ওই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সরব হয় প্রায় সবক’টি ছাত্র সংগঠন। ওই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য স্মৃতি ইরানির কাছে আবেদন জানান সিপিএমের সাংসদ তথা এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে স্মৃতির কাছে দরবার করে বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও। মন্ত্রক সূত্রের খবর, এবিভিপি-র হস্তক্ষেপের পরেই ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রক।

বর্তমানে কী ভাবে ফেলোসিপ ভাতা বণ্টন হয়?

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, নেট পাশ করা গবেষকদের ক্ষেত্রে ভাতার টাকা সররাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। কিন্তু, যাঁরা নেট পাশ করেননি তাঁদের ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার কাজ করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। অর্থাৎ যে বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর নাম সুপারিশ করেছে। এ ক্ষেত্রেই কোনও দুর্নীতি হচ্ছে বলে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সূত্রের খবর। যে কারণে এই দুর্নীতি রুখতে গিয়ে পুরো ভাতা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল কেন্দ্রকে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পরে স্মৃতি ইরানি ইউজিসিকে নির্দেশ দেন, এ বার থেকে নেট পাশ করেননি এমন গবেষকদের ক্ষেত্রেও যেন সরাসরি গবেষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

নেট পাশ করেননি কলকাতার এমন এক গবেষক বলেন, ‘‘দুর্নীতি বন্ধ করার অজুহাতে ভাতা বন্ধ করার যে পথে কেন্দ্র যাচ্ছিল তা একেবারে অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন ব্যবস্থা শুরুর কথা বললেও তা কবে থেকে চালু হয় এখন সেটাই দেখার।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy