এক বিডিওর ‘সৌজন্যে’ একজোট বড়খোলার কংগ্রেস-বিজেপি। দুর্নীতির দায়ে সাসপেন্ড হওয়া বড়খলার বিডিও আনিসুজ্জামান লস্কর সাজা রুখতে আদালতের দ্বারস্থ হতেই কাছাড় জেলার বড়খলায় উত্তেজনার পারদ চড়ছে। বিডিওর বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছেন নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিরা। বিধানসভা ভোটের মুখে হাজারো বিরোধিতা থাকলেও লস্করকে হঠাতে এক সুরে কথা বলছে কংগ্রেস-বিজেপি। এমনকী, বিডিও আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে নালিশ জানানোয় কংগ্রেস বিধায়ক রুমি নাথের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিজেপি নেত্রী সবিতারানি দাস, প্রতিমা সাহু, আরতি নাথরা।
দুর্নীতির অভিযোগে বড়খলার বিডিও আনিসুজ্জামানকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব ভি বি প্যারেলাল সেই সংক্রান্ত দু’পৃষ্ঠার নির্দেশে জানান, ওই বিডিও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করেছেন বলে সর্বাঙ্গীণ মানবকল্যাণ সঙ্ঘের অভিযোগ পেয়ে কাছাড়ের জেলা উন্নয়ন কমিশনার এম কে দাসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি তদন্তে নেমে দুধপাতিলে গিয়ে দেখেন, ৫৭ লক্ষ টাকার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ক্রীড়া প্রকল্পে একদিকে পাঁচিল তৈরি করেই পুরো কাজ শেষ করার রিপোর্ট দিয়েছেন বিডিও। বিভিন্ন সামগ্রী কেনার ভুয়ো রসিদ দেখিয়ে তুলে নিয়েছেন ৪৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫৯৬ টাকা। ইন্দিরা গাঁধী আদর্শ পাকাপথ প্রকল্পেও কোনও নিয়ম মানা হয়নি। সামান্য অংশে সিমেন্ট-কংক্রিট ব্লক বসিয়ে বিডিও তুলে নিয়েছেন ৪৮ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৫০ টাকা। মাছুঘাট পঞ্চায়েতে বেশ কিছু জবকার্ড প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের নামে ইস্যু করা হয়েছে। জেলাশাসক এস বিশ্বনাথনও সরকারকে জানান, এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর পরেই আনিসুজ্জামান লস্করকে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্দেশ পেয়ে আনিসুজ্জামান লস্কর হাইকোর্টে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অভিযোগ মোটেও সত্য নয়। দোষ প্রমাণের আগে সাসপেন্ড করা অন্যায়।’’ তাই নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আদালতে আর্জি জানান তিনি।
লস্করের বিরুদ্ধে লড়তে বড়খলার আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সভাপতি, কংগ্রেস নেত্রী রীতা দে সহ ছ’জন সদস্য এবং বিজেপির বেশ কয়েকজন নেত্রী সর্বাঙ্গীণ মানব কল্যাণ সঙ্ঘের ব্যানারে মিলিত হয়েছেন। তাঁরা জানান, হাইকোর্টে আনিসুজ্জামান লস্করের মামলায় তাঁরা পক্ষভুক্ত হতে চান। সুযোগ পেলে নথিপত্র দিয়ে তাঁরাও বিডিওর দুর্নীতির প্রমাণ দেবেন।
রীতা দে দাবি করেন, তিনি আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সভাপতি হলেও আনিসুজ্জামান লস্কর তাঁকে গুরুত্ব দিতে চাননি। সিন্ডিকেট তৈরি করে সরকারি অর্থের লুটপাট করেছেন। অন্যরাও অভিযোগ করেন, জবকার্ডের কাজ করিয়ে এখনও বিডিও টাকা দিতে পারেননি।
সঙ্ঘের তরফে বিডিওর ১৬ মাসের যাবতীয় কাজকর্মের বিস্তৃত তদন্ত দাবি করা হয়।