মনমোহন-হাসিনা ২০১১ সালে যে প্রোটোকলে সই করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই বিলোনিয়ায় মুহুরির চর বিনিময়ের দাবি জানাল ত্রিপুরা সরকার।
রাজ্যের রাজস্বমন্ত্রী বাদল চৌধুরী আজ বলেন, ‘‘দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরের পাশে মুহুরির চর বিনিময় নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে এই সমস্যা দ্রুত মেটাতে চাইছে রাজ্য সরকার।’’
২০১১ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে দু’দেশের ছিটমহল ও ‘অ্যাডভার্স পজেশন ল্যান্ড’গুলি বিনিময় নিয়ে একটি প্রোটোকল স্বাক্ষর হয়।
রাজ্য সরকারের দাবি, ওই প্রোটোকল অনুযায়ীই মুহুরির চর বিনিময় করা হোক। রাজ্য সরকারের অগোচরে দু’দেশের প্রতিনিধিরা বিলোনিয়া শহরকে কেন্দ্র করে মুহুরি নদীর চরে যে ভাবে সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজটি করেছেন, তাতেই সমস্যাটা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বাদলবাবু।
বাদলবাবুর প্রশ্ন, ‘‘ত্রিপুরা রাজ্যের বিষয় হওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বিলোনিয়া শহর-লাগোয়া মুহুরির চরে সীমানা চিহ্নিত করেছেন। এটা কী করে সম্ভব?’’ তাঁর দাবি, ২০১১ সালের প্রোটোকল না মেনেই দু’দেশের প্রতিনিধিরা এই কাজ করছেন, আর তাতেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বাদলবাবু জানান, বিষয়টি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে ত্রিপুরা সরকার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রকই চিঠির কোনও জবাব দেয়নি বলে মন্ত্রী জানান।
বাদলবাবু বলেন, ‘‘মনমোহন-হাসিনা প্রোটোকল অনুযায়ী, বিলোনিয়ায় মুহুরি নদীর মাঝ বরাবর আন্তর্জাতিক সীমান্ত তৈরি হওয়ার কথা। প্রোটোকল বাস্তবায়িত করতে হলে বিলোনিয়া শহরের ৩৬ একর জমিও বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। ত্রিপুরা সরকার এ বিষয়ে রাজি। ব্যক্তিগত মালিকানার প্রায় ১৫ একর জমিও বাংলাদেশকে দিতে হবে। জমির মালিকরা জমি দিতে রাজিও হয়েছেন। তার জন্য ৪০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার সেটা দিয়ে দিলে কোনও সমস্যাই থাকবে না।’’