সমস্ত উৎকণ্ঠার অবসান হল। ব্রডগেজ লাইন ধরে লামডিং-শিলচর রুটের প্রথম মালগাড়িটি ‘নির্বিঘ্নে’ শালচাপড়ায় পৌঁছল। আর এর মধ্যে দিয়েই শুরু হল বাইরের সঙ্গে এই অঞ্চলের সরাসরি রেল যোগাযোগ। মাঝপথে পণ্য ওঠা-নামার যন্ত্রণা ছাড়াই ধূপগুড়ির আলু সরাসরি শিলচর সংলগ্ন শালচাপড়ায় পৌঁছতে সময় লাগল ন’ঘণ্টারও কম। রেল সূত্র জানিয়েছে, গেজ পরিবর্তনের পর এই প্রথম মাল-বোঝাই ট্রেন বলেই চালককে গতি বাড়াতে দেওয়া হয়নি। চলাচল স্বাভাবিক হলে সময় আরও অনেক কম লাগবে।
এই তথ্যই বরাকের মানুষের উল্লাসের কারণ। একে তো আগের মত মালপত্র নিয়ে ব্রডগেজ থেকে নেমে মিটারগেজে স্থানান্তরের প্রয়োজন নেই। এর উপর আগের মত এত সময়ও লাগবে না। প্রথম মালগাড়িটি যখন ৯ ঘণ্টার আগেই গন্তব্যে পৌঁছেছে, তখন যাত্রীবাহী গাড়ি তার অনেক আগেই পৌঁছে যাবে। রেলওয়ে সেফটি কমিশনারের পরিদর্শন অসমাপ্ত থাকলেও ৩১ মার্চের আগে রেল দফতর বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষের সব সংশয় দূর করতে চেয়েছিল। শিলচর ফুডগ্রেন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা প্রণব পালচৌধুরী জানান, “ক’দিন থেকেই রেল অফিসাররা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। প্রথম মালগাড়িটি যে তাঁরা দ্রুত চালাতে চাইছেন, সেই বিষয়টিতে গুরুত্বও দিচ্ছিলেন। তখনই আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিই। কথা বলি পশ্চিমবঙ্গের আলু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে। তাঁরাই ২ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন আলু সরবরাহ করেন।”
তবে কেফটি কমিশনারের পরিদর্শন রিপোর্ট ছাড়াই যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর ব্যাপারে রেলকর্তারা এখনও কিছুই বলছেন না। লামডিং-হাফলং পরিদর্শন শেষ হলেও বাকি রয়েছে হাফলং-শিলচর অংশ। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এই কাজ শেষ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মালগাড়ি শুরু হওয়ায় তাঁদের দাবি, পণ্যবাহী গাড়ি এখন আসা-যাওয়া করতেই থাকবে। যাত্রীবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলকর্তা জানান, এফসিআই-এর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। দু’-একদিনের মধ্যে তাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে আরও একটি মালগাড়ি শিলচরের পথে রওনা হতে পারে।