Advertisement
E-Paper

শক্তি বাড়াতেই জোর সঙ্গিহীন কারাটদের

বিকল্প সরকার নয়। এ বারে বিকল্প নীতি। যার নির্যাস: চাচা, আপন ভোট বাঁচা। পাঁচ বছর আগে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমে পড়েছিলেন প্রকাশ কারাট। ডাক দিয়েছিলেন বিজেপি ও কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় ফ্রন্টের সরকার গঠনের। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ভোটবাক্সে মুখ থুবড়ে পড়ে। যাঁদের নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তাঁরাও অনেকে ফল প্রকাশের পরে ইউপিএ-কে সমর্থন করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৪ ০৩:২৬
হাতিয়ার মাউজ। দলের ওয়েবসাইট চালু করছেন কারাট-দম্পতি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে। ছবি: রাজেশ কুমার।

হাতিয়ার মাউজ। দলের ওয়েবসাইট চালু করছেন কারাট-দম্পতি। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে। ছবি: রাজেশ কুমার।

বিকল্প সরকার নয়। এ বারে বিকল্প নীতি। যার নির্যাস: চাচা, আপন ভোট বাঁচা।

পাঁচ বছর আগে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমে পড়েছিলেন প্রকাশ কারাট। ডাক দিয়েছিলেন বিজেপি ও কংগ্রেসের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় ফ্রন্টের সরকার গঠনের। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ভোটবাক্সে মুখ থুবড়ে পড়ে। যাঁদের নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, তাঁরাও অনেকে ফল প্রকাশের পরে ইউপিএ-কে সমর্থন করেন। এ বারও তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা শুরুতেই গলা জলে। এই পরিস্থিতিতে আপাতত আপন প্রাণ বাঁচানোর কথাই ভেবেছেন প্রকাশ কারাট, সীতারাম ইয়েচুরিরা। বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে দলের নেতাদের উপলব্ধি, বামেদের লোকসভায় যথেষ্ট আসন থাকলে তবেই অন্য দলগুলি বামেদের সঙ্গে থাকবে। তা না হলে বামেরাই জাতীয় রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। এ দিন তাই ইস্তাহারে বিকল্প জোট সরকার গঠনের বদলে বিকল্প নীতির কথাই বলেছে সিপিএম।

আজ ইস্তাহার প্রকাশ করে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাটের বক্তব্য, কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে যাতে একটি বিকল্প খাড়া করা যায়, সে জন্য সিপিএম ও অন্য বাম দলগুলি ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করবে। কিন্তু সরকার গঠন বা সেই জোটের কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন, সে প্রশ্ন নির্বাচনের পরেই আসবে। কারাট বলেন, “আমরা লোকসভায় সিপিএম ও বামেদের শক্তি বাড়ানোর জন্য ডাক দিচ্ছি। এর ভিত্তিতেই ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বিকল্পের ভিত মজবুত হবে।” শক্তি বাড়াতে তাই বামেরা যত বেশি সম্ভব আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ বার। কারাট বলেন, “এখনও পর্যন্ত লোকসভা নির্বাচনের ইতিহাসে বাম দলগুলি সব থেকে বেশি আসনে প্রার্থী দেবে।” কিন্তু দেশ জুড়ে প্রার্থী দেওয়া হলেও তাঁরা যে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও ত্রিপুরার বাইরে যে খুব বেশি আসন জেতার আশা করছেন না, তা-ও মানছেন কারাট। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বামেদের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি মুখ খুলতে চাননি। কারাটের সাবধানী মন্তব্য, “সবে তো প্রচার শুরু হয়েছে।”

Advertisement

সিপিএম সূত্রের বক্তব্য, বামেরা এ বার লোকসভা ভোটে ভাল ফল করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে বলেই জয়ললিতা, নবীন পট্টনায়ক, প্রফুল্ল মহন্তরা বামেদের বিকল্প জোটে থাকা নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন। ভোটের পর ঝুলিতে যথেষ্ট আসন থাকলে তবেই বামেদের কেন্দ্র করে বিকল্প জোট তৈরি হতে পারে। অ-কংগ্রেসি, অ-বিজেপি সরকার গঠন হলেও সিপিএম তথা বামেদের যথেষ্ট শক্তি থাকা প্রয়োজন। তা না হলে কমিউনিস্টদের বিকল্প নীতি অন্য দলগুলি মানতে চাইবে না। অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বামেদের মতো ফেডেরাল ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কারাটের মন্তব্য, “বামেদের বাদ দিয়ে কোনও ফেডেরাল ফ্রন্ট সফল হবে না।” তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও শব্দ খরচ করেননি কারাট-ইয়েচুরিরা। কারাটের মন্তব্য, “এটা তো জাতীয় নির্বাচন!”

তবে পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বারের লোকসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে জমির প্রশ্নে জোর দিয়েছে সিপিএম। কৃষকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণ, ভূমি সংস্কারের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা, জমির ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে সাচার কমিটি ও রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার দাবি তোলা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারি, দুর্নীতি রুখতে ইউপিএ-সরকারের ব্যর্থতার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপির বিভাজন নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। তবে রাহুল গাঁধীর বিষয়ে ইস্তাহারে সিপিএম নীরব। কারাটের ব্যাখ্যা, “রাহুলকে তো কংগ্রেসই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করেনি। আমরা কেন ওঁকে নিয়ে কথা বলব!”

তবে তাঁর তৃতীয় ফ্রন্টের প্রচেষ্টা যে শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে, আজ তা মানতে চাননি কারাট। তামিলনাড়ুতে জয়ললিতার সঙ্গে সিপিএম-সিপিআইয়ের নির্বাচনী আঁতাঁত না হলেও তার সঙ্গে তৃতীয় ফ্রন্টের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই কারাটের দাবি। তাঁর যুক্তি, বিকল্প জোটের ১১টি দল নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতায় যাবে, এমন কোনও পূর্ব শর্ত ছিল না। কারাট বলেন, “১১টি দলের প্রথম বৈঠকে ৯টি দল উপস্থিত ছিল। দু’টি দল না থাকলেও তাঁরা আমাদের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে। প্রত্যেকটি দল নিজেদের এলাকায় জোর দিয়ে প্রচার করবে। নিজেদের আসন বাড়ানোর চেষ্টা করবে। তার পরে নির্বাচনের পরেই এই জোট পাকাপাকি চেহারা নিতে পারে।”

paraksh karat
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy