দায়িত্ব নিয়েই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রধান লক্ষ্য, ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ভাল করা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, ভারত সফরে আসতে চায় তারা। পাশাপাশি চলতি বছরের শেষে ভারতকেও বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতায় এমনিই ভারতের বাংলাদেশে খেলতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বোর্ডের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করতে চায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম। বাংলাদেশের সেই প্রাক্তন অধিনায়কের ঘাড়েই আপাতত দেশের ক্রিকেটের দায়িত্ব। বাংলাদেশের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবির বর্তমান পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে। বোর্ড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১১ জনের অ্যাডহক কমিটিকে। সেই কমিটির প্রধান করা হয়েছে তামিমকে।
এনএসসির ডিরেক্টর আমিনুল এহসান বলেছেন, ‘‘তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে বিসিবির নির্বাচন হবে। আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালন পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাকে (আইসিসি) জানানো হয়েছে।’’ অ্যাডহক কমিটির সদস্যেরা নির্বাচন আয়োজন করতে পারবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে কোনও মন্তব্য করেননি এহসান। এনএসসির এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশকে আইসিসি কোনও শাস্তি দেবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন এহসান।
অ্যাডহক কমিটিতে তামিমের নেতৃত্বে কাজ করবেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদিন, আতহার আলি খান, তানজিল চৌধুরী, সলমন ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম এবং ফাহিম সিনহা। কমিটির চার জন বাংলাদেশের শাসক দলের নেতাদের স্ত্রী বা সন্তান। এ ছাড়া তানজিল, ইস্পাহানি, রফিকুল এবং ফাহিম অতীতে বিসিবির পরিচালন পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
যদিও এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অপসারিত বিসিবি সভাপতি দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ। এনএসসির সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসাবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থায় (আইসিসি) অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। যদিও সেই আবেদন ধোপে টিকবে না বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।
গত অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচন হয়েছিল। তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু ক্লাব ওই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ দায়ের করে এনএসসিতে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। তারই পদক্ষেপ হিসাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ। গত রবিবার প্রাক্তন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেয়। কমিটি মন্ত্রককে জানিয়েছে, বিসিবি কর্তারা তদন্তের কাজে সহযোগিতা করেননি। বিসিবি সভাপতি কমিটির মুখোমুখি হতে চাননি। বরং বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যা তৈরি করেছেন। তার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এনএসসির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন আমিনুল। তাঁর দাবি, তিনিই বিসিবির সভাপতি। তামিমকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের মাথায় বসানোর জন্যই এনএসসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেছেন আমিনুল। তিনি বলেছেন, ‘‘তামিমের নিয়োগ অসাংবিধানিক এবং অবৈধ।’’ আইসিসির গঠনতন্ত্রের উল্লেখ করে আমিনুল বলেছেন, ‘‘সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপ মুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমরা চাই নির্বাচিত বোর্ডকে বহাল রাখতে আইসিসি হস্তক্ষেপ করুক। আইসিসি অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখুক এবং নিশ্চিত করুক যাতে কোনও অবৈধ কমিটি কাজ করতে না পারে।’’ সরকারি বিজ্ঞপ্তির কথা মনে করিয়ে দিয়ে আমিনুল বলেছেন, হাই কোর্ট বা অন্য কোনও আদালত নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরই বিসিবি সভাপতি থাকার কথা।
এনএসসি নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড়। স্পোর্টস ডিরেক্টর মহম্মদ আমিনুল এহসান বলেছেন, ‘‘নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ, স্বচ্ছ এবং সুষ্ঠু ছিল না। ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছিল এবং ব্যাপক পদ্ধতিগত অনিয়ম ছিল। নির্বাচিত বোর্ডের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে।’’ বিসিবি সভাপতি তাঁর অধিকারের বাইরে গিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পছন্দের ব্যক্তিদের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন এহসান। যা বিসিবির সংবিধানের পরিপন্থী। এই ডামাডোলের মাঝেই নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছেন তামিম।