পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের ছয় হাজার কর্মীকে অবশেষে স্থায়ী করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রীর দফতর বিবৃতি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের একটি জটিলতা কাটার পর্ব শুরু হল। কৃষক-বন্ধু হিসেবে কাজ করেন এই কেন্দ্রের কর্মীরা।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ ছ’টি রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশ দফা কর্মসূচির কাজ নতুন ভাবে শুরু করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই কর্মসূচির কাজ শুরুই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। এই কর্মসূচি পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছিল এই সংস্থার সাড়ে ছয় হাজার অস্থায়ী কর্মীকে নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের কাছে তাঁদের স্থায়ী করার দাবি জানাচ্ছিলেন কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের কর্মীরা। এত জন কর্মীকে স্থায়ী করা নিয়ে এত দিন ধন্দে ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও জানান। নরেন্দ্র মোদীর মধ্যস্থতায় কেন্দ্র অবশেষে কর্মীদের স্থায়ী করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল।
লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই জগদীশ ভগবতী ও অরবিন্দ পানাগাড়িয়ার মতো অর্থনীতিবিদরা নরেন্দ্র মোদী-অরুণ জেটলিদের পরামর্শ দিচ্ছেন— ভর্তুকি নির্ভর অর্থনীতির মানসিকতা পাল্টাতে হবে। বাজার অর্থনীতি প্রণয়নে নতুন সরকারের কোনও আপস করা চলবে না। কিন্তু এক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে মোদী সরকার বিলক্ষণ বুঝতে পারছে— ভারতের মতো গরিব ও জনবহুল দেশে বাজার অর্থনীতিকে কঠোর ভাবে কার্যকর করা সহজ ব্যাপার নয়। বরং ধাপে ধারে এগোনোই বাঞ্ছনীয়। নীতি আয়োগের স্থায়ী সদস্য বিবেক দেবরায়ও এখন মধ্যম পন্থা নিয়ে চলার কথা বলছেন। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের এই সাড়ে ছয় হাজার কর্মীকে স্থায়ী করার পক্ষেই সায় দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্য কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের কর্ণধার তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১১ অগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা জানান। পর দিনই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কেন্দ্রীয় কৃষিসচিবকে চিঠি দয়ে ওই সাড়ে ছ’হাজার কর্মীকে স্থায়ী করার বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে কৃষি মন্ত্রককেও। তরুণবাবু জানিয়েছেন, ‘‘এর ফলে গ্রাম-বাংলার কৃষির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে রাজ্যের মনোভাবও ইতিবাচক।’’