নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র নামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বেছে বেছে মুসলিমদের নিশানা করা হচ্ছে। তাদের রাষ্ট্রহীন করে দিতে এনআরসি তালিকাকে হাতিয়ার করছে ভারত সরকার। অসমে নাগরিক পঞ্জি তৈরি নিয়ে শুক্রবার মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলল আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন(ইউএসসিআইআরএফ)।

এ বছর ৩১ অগস্ট মাসে সরকার অসমে নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করলে দেখা যায়, ১৯ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ গিয়েছে তা থেকে। তা নিয়ে শুক্রবার ‘ইস্যু ব্রিফ: ইন্ডিয়া’ নামের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে ইউএসসিআইআরএফ। তাতে বলা হয়,‘বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন। তাদের মতে, অসমের বাঙালি মুসলিমদের বঞ্চিত করতে, একটা বড় অশের মুসলিমকে রাষ্ট্রহীন করতে এবং ঘুরপথে ধর্মীয় পরিচয়কেই নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে অপরিহার্য করে তোলার কার্যসিদ্ধির জন্যই এনআরসিকে হাতিয়ার করা হয়েছে।’

নীতি বিশ্লেষক হ্যারিসন একিন্সের তদারিকতে ওই রিপোর্টটি তৈরি করেছে ইউএসসিআইআরএফ। তাতে আরও হয়, ‘ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার যে ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে, সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিতাড়ন করার এই প্রচেষ্টাই তার অন্যতম উদাহরণ। অগস্ট মাসে এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বিজেপি সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ করেছে, তাতে তাদের মুসলিম বিরোধী মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। মুসলিমদের বাদ দিয়ে হিন্দু এবং বাছাই করা কিছু সংখ্যালঘুদের সুবিধা করে দিতেই যে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরীক্ষার আয়োজন, বিজেপির ইঙ্গিতেই তা স্পষ্ট।’’

আরও পড়ুন: বিধায়ক কেনাবেচায় নেমেছে বিজেপি! অভিযোগ শিবসেনার​

আরও পড়ুন: আজ খুলছে শবরীমালা, মেয়েদের ঢোকা নিয়ে হাত তুলে নিল কেরলের বাম সরকার​

বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই যাবতীয় কাজকর্ম হচ্ছে বলে একাধিক বার জানিয়েছে মোদী সরকার।