ঘর গুছিয়ে রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন রাখাটাও জরুরি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য ঘর সাফসুতরো থাকা দরকার। আপাত দৃষ্টিতে যা পরিষ্কার বলে মনে হবে, তার মধ্যেও জমে থাকতে পারে জীবাণু ও ময়লা। ফলে এমন কিছু জিনিসের প্রতি বিশেষ নজর দিন, যা নিয়মিত পাল্টানো দরকার, অথচ বার বার আপনার চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
নিয়মিত বদলানো উচিত বাড়ির এমন ৫টি জিনিস—
প্লাস্টিকের বরফ রাখার ট্রে: ফ্রিজ়ারে থাকে বলে অনেকেই প্লাস্টিকের বরফের ট্রে-কে খুব পরিষ্কার ভাবেন। তাই সেটি পাল্টানোর কথা অধিকাংশেরই মাথায় আসে না। একেবারে ভেঙে গেলে না হয় অন্য! কিন্তু জানেন কি, অন্তত এক বছর অন্তর বদলানো উচিত প্লাস্টিকের এই ট্রে? দীর্ঘ দিনের ব্যবহারে এগুলিতে ছোট ছোট ফাটল তৈরি হয়। আর তাতে ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া, পুরনো প্লাস্টিক থেকে রাসায়নিক পদার্থ চুঁইয়ে বরফের টুকরোয় মিশে যেতে পারে। ফ্রিজ়ারের ভিতরের খাবারের গন্ধ শোষণ করে বরফের স্বাদ নষ্ট করতে পারে।
বরফ রাখার ট্রে। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
জলের বোতল: বোরোসিল, স্টিল, কাচ, তামা— প্লাস্টিকের বদলে অন্য উপাদানের বোতল ব্যবহার করছেন বলে নিশ্চিন্ত হবেন না। যে কোনও ধাতু বা উপাদানই হোক না কেন, নির্দিষ্ট সময় অন্তর জলের বোতল পাল্টানো দরকার। ৬ মাস অন্তর অন্তর পুরনো বোতল ফেলে দিন বা অন্য কাজে ব্যবহার করুন। ঘরে নিয়ে আসুন নতুন বোতল। জলের বোতল সর্বদা আর্দ্র হয়ে থাকে। ফলে জলদি ছত্রাক সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
স্নানের তোয়ালে: সপ্তাহে একাধিক বার তোয়ালে বা গামছা কেচে নিলেও তাতে জমে থাকা ময়লা যায় না অত সহজে। রোজের ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে সেটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে ওঠে। গামছার রুক্ষ গঠনের কারণে তাতে সহজেই আর্দ্রতা জমে থাকে। আর সেখানেই ছত্রাক সংক্রমণ বা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তখনই সেটি বদলে নেওয়া উচিত। বছরে এক বার বা দু’বার বদলে নেবেন।
বাজারের ব্যাগ: প্রতি দু’বছর অন্তর বাজারের ব্যাগ ফেলে নতুন কিনে নেবেন। কাঁচা মাংস, মাছ ও সব্জি রাখা হয় রোজ। ধুলোময়লা, জীবাণু জমে জমে সেই ব্যাগ আর ব্যবহার্য থাকে না। নিয়মিত ধুয়ে নিলেও এর নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে।
ঘরের চটি: ঘরের চটিতে প্রতি নিয়ত ঘাম জমতে জমতে তা দুর্গন্ধের উৎস হয়ে ওঠে। কখনও চটি ঘরে থাকে, কখনও স্নানঘরে, কখনও আবার রান্নাঘরেও। অতিরিক্ত ব্যবহার হয় বলেই একটিই ঘরের চটি বেশি দিন ব্যবহার করতে নেই। তার মধ্যেও ছত্রাক ও ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে।