একটা কাজ শেষ না হতে হতেই পরের কাজ! দিনভর কাজের পরও পুরোপুরি নিস্তার নেই। বর্তমানে কর্পোরেট জগত থেকে শুরু করে বহু পেশাতেই কাজের ধরন এমন দাঁড়িয়েছে যে ঘুমোতে যাওয়ার সময়েও নিস্তার নেই। রাত থেকেই ভাবতে হয় পরের দিন কী ভাবে কোন কাজটা করতে হবে।
অফিস, ব্যস্ততা, মিটিং, ডেডলাইনের চাপে বহু কর্মীরই জীবনে দমবন্ধ অবস্থা। আর সেই চাপ সামলাতে না পারায় ব্যক্তিজীবনেও তৈরি হয় তিক্ততা। দু’দণ্ড সময় থাকে না নিজের সঙ্গে কাটানোর। তবে এই ব্যাপারে যাঁরা দক্ষ তাঁরা বলছেন, কাজের চাপ যতই থাক, তা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে সময় ম্যানেজ করে। আর তা সম্ভব সঠিক কৌশলের দ্বারা। কী ভাবে অফিস, পরিবার, ব্যক্তিগত শখ-আহ্লাদ বজায় রাখবেন?
কঠিন কাজ করুন ক্লান্তি আসার আগে
সারা দিনে নানা ধরনের কাজ থাকে। অফিসের কাজেও রকমফের থাকে। যেটা মাথা ঘামানোর কাজ কিংবা বেশি পরিশ্রমের, সেটি রাখুন সকালের জন্য। রাতভর ঘুমের পরে মস্তিষ্ক কর্মক্ষম থাকে বেশি। যত সময় এগোয়, নানা কাজের ভিড়ে শরীর-মাথা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেই ভাবেই কাজ ভাগ করে নিলে, সময়ের কাজ সময়ে করা সম্ভব।
তাৎক্ষণিক প্রত্যুত্তরে নিন কিছুটা বিরতি
মেসেজ, ইমেল সর্ব ক্ষণ আসতে থাকে। অবশ্যই তার মধ্যে কাজের জিনিসই থাকে। তবে যদি সম্ভব হয়, ইমেল দেখা বা মেসেজ দেখায় সাময়িক বিরতি নিন। হতে পারে এক ঘণ্টা পর সবগুলি দেখলেন। কাজের মাঝে বার বার হোয়াটস অ্যাপ, মেসেজ, ইমেল চেক করতে গেলে, মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। কাজের যোগসূত্র হারিয়ে যেতে পারে।
নিজের সঙ্গযাপন
সারা সপ্তাহ যত ব্যস্ততা থাক, সপ্তাহ শেষে একটি দিন থেকে কয়েকটি ঘণ্টা নিজের জন্য বার করা জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়বে। ওই সময়টুকু রাখুন নিজের জন্য, যেটা ভাল লাগে সেটাই করুন।
আরও পড়ুন:
সান্ধ্য সময় নিজেকে দিন
সারা দিন কাজ। সন্ধে কেন, রাতেও অনেক কাজ গুছিয়ে উঠতে পারেন না অনেকে। তবে নানা সমীক্ষায় বলছে, কাজের ফাঁকে বিরতি জরুরি। সন্ধ্যায় অন্তত ১০-১৫ মিনিট রাখুন নিজের জন্য। মোবাইল দেখা নয়, এই সময়ে আরাম করে চা-কফিতে চুমুক দিতে পারেন। কিছুটা সময় খোলা হাওয়ায় হেঁটেও নিতে পারেন।
নিজের ভাল থাকায় জোর
কাজের চাপে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ার পরে মাঝেমধ্যে ছুটি নিন। ইঞ্জিনে যদি তেল থাকে তবেই গাড়ি ছুটবে, তেল ফুরিয়ে যাওয়া ইঞ্জিন কিন্তু দৌড়োতে পারে না।