ঋতুস্রাব চলাকালীন ব্যায়াম করা উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন অনেকেই। প্রশিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ঋতুস্রাবের সময়ে তলপেটের প্রচণ্ড যন্ত্রণায় ভোগেন অনেক মহিলাই। ঋতুস্রাব অনিয়মিতও হয় অনেকের। এই সমস্যা দূর করতে মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধ নয়, বরং ভরসা রাখা যেতে পারে যোগাসনে। রজোনিবৃত্তি পর্বের যাবতীয় সমস্যা দূর করতেও এ আসন উপযোগী। আসনটি অভ্যাস করা যেতে পারে দুই পর্বে। প্রথমটি উপবিষ্ট কোণাসন ও পরে সেই ভঙ্গি থেকেই পরিবর্ত কোণাসন।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর দু’পা সামনের দিকে ছড়িয়ে পিঠ সোজা রেখে বসুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) এ বার দুই পা দু’পাশে যতদূর সম্ভব প্রসারিত করুত।
৩) দুই পা প্রসারিত করার পরে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের আঙুল ধরতে হবে।
৪) এর পর ধীরে ধীরে মাথা ঝুঁকিয়ে মাটিতে স্পর্শ করুন।
৫) ২০ সেকেন্ড ওই ভঙ্গিতে থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
আরও পড়ুন:
৬) এ বার দুই পা দু’দিকে ছড়ানো অবস্থাতেই দুই হাত মাথার উপরে তুলুন।
৭) শ্বাস নিতে নিতে নিতে হাত তোলা অবস্থাতেই শরীরের উপরিভাগ প্রথমে বাঁ দিকে হেলিয়ে দিন। দুই হাত দিয়ে বাঁ পায়ের আঙুল ধরতে হবে।
৮) একই ভাবে শরীর ডান দিকে ঝুঁকিয়ে ডান পায়ের আঙুল ধরতে হবে।
উপকারিতা:
পায়ের কাফ মাসল, হ্যামস্ট্রিং, নিতম্বের পেশি শক্তপোক্ত হবে।
পেলভিক এলাকার পেশির ব্যায়াম হবে।
নিয়মিত অভ্যাসে মেরুদণ্ডের জোর বাড়বে।
কোমর, তলপেটের মেদ ঝরবে।
মহিলাদের ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা দূর হবে।
রজোনিবৃত্তি পর্ব চলাকালীন হরমোনজনিত যাবতীয় সমস্যা কমবে।
মানসিক চাপ কমবে, উদ্বেগ দূর হবে।
মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দূর হবে।
কারা করবেন না
পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে আসনটি করা যাবে না।
হাঁটুতে ব্যথা থাকলে বা অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করা যাবে না।
হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হলে এই আসন করা উচিত হবে না।