৪৬ বছরেও ছিপছিপে চেহারা। সোহা আলি খানের ফিটনেস নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সোহা জানিয়েছেন, নিয়ম করে খাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চাতেই তিনি এত ফিট থাকেন। রোগব্যাধিও ছুঁতে পারে না তাঁকে। সমাজমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই নানা রকম ফিটনেস টিপ্স দেন সোহা। অনুরাগীদের সঙ্গে তিনি ভাগ করে নেন তাঁর ফিটনেস মন্ত্রও। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে কয়েকটি ফলের ছবি শেয়ার করে সোহা জানিয়েছেন শোয়ার আগে তাঁর নতুন অভ্যাসের কথা।
অনিদ্রার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন, আর সেই সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার টোটকা শেখালেন সোহা। মজার ছলে অভিনেত্রী বলেন, ‘‘কেউ একজন বলেছেন ঘুমের আগে কিউই, ব্লুবেরি আর চেরি খেলে নাকি ভাল ঘুম হয়…কাল জানাব সত্যিটা!’’ সোহার এই পোস্ট দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে ঘুম আনতে এই ফলগুলি কি আদৌ কার্যকর?
কিছু ফলের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে এমন যৌগ থাকে, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যেমন কিউইতে প্রচুর পরিমাণে সেরোটোনিন থাকে। এটি একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যা ঘুম-জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আর ফোলেটও থাকে, যা প্রদাহ কমাতে পারে এবং ঘুমের মান উন্নত করতেও সাহায্য করে।
চেরি বিশেষ করে টার্ট চেরি প্রাকৃতিক ভাবে মেলাটোনিনের অন্যতম উৎস। মেলাটোনিন হরমোন শরীরকে সংকেত দেয় যে এখন ঘুমোনোর সময়। অন্যদিকে, ব্লুবেরিতে মেলাটোনিন বেশি না থাকলেও এতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই স্ট্রেস অনেক সময় গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এই তিনটি ফল খেয়ে নিলেই যে অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে এমনটা নয়। মানসিক চাপ, অত্যধিক স্ক্রিন টাইম, অত্যধিক ক্যাফিনের সেবন ইত্যাদি নানা কারণেই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে হলে সামগ্রিক জীবনযাপনের পদ্ধতিতেও বদল আনতে হবে।
অতিরিক্ত ফল খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে, যা উল্টে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ডায়াবিটিস থাকলে ফলের প্রাকৃতিক শর্করার কারণে পরিমাণ মেপে খাওয়া উচিত। কিডনির সমস্যায় ভুগলে কিউইয়ের পটাশিয়াম মাত্রার দিকেও নজর রাখা দরকার। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ডায়েটে বদল আনুন।