Advertisement
E-Paper

‘পঙ্গু’ হয়ে চলাচলের শক্তি হারায় স্টেম কোষ, তাই কি পাকে চুল? আজব কারণ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

বয়সের আগেই চুলে পাক ধরার যে এই সমস্যা, তার সমাধানে কতই না গবেষণা হচ্ছে। তবে পাকা চুলের একেবারে গোড়ার কথাটি ধরে ফেলেছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকেরা। তাঁদের খোঁজ অবাক করার মতোই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৪
পাকা চুল আবার কালো হয়ে যাবে, গোড়ার কথাটি ধরে ফেলেছেন গবেষকেরা।

পাকা চুল আবার কালো হয়ে যাবে, গোড়ার কথাটি ধরে ফেলেছেন গবেষকেরা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চুল কেন পাকে? কেউ বলবেন ভিটামিন বা খনিজের অভাব, আবার কারও কারও মত বিষয়টা পুরোপুরি জিনগত। মা-ঠাকুরমার যদি কম বয়স থেকেই চুল পাকার ধাত থেকে থাকে, তা হলে পরবর্তী প্রজন্মেরও তা হবে। পাকা চুল নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। গবেষকেরাও কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন এর কারণ খুঁজতে। বয়স বাড়লে চুল পাকবে তা একপ্রকার স্বাবাবিক, তাই বলে কম বয়সেও চুল পেকে যাওয়া কি ভাল কথা! বয়সের আগেই চুলে পাক ধরার যে এই সমস্যা, তার সমাধানে কতই না গবেষণা হচ্ছে। তবে পাকা চুলের একেবারে গোড়ার কথাটি ধরে ফেলেছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রসম্যান স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকেরা। তাঁদের খোঁজ অবাক করার মতোই।

‘নেচার’ জার্নালে এই গবেষণার খবর প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা যা জানিয়েছেন, তা এতদিনের অনেক ধ্যানধারণাকে বদলে দিয়েছে। চুল পাকার আসল কারণ নাকি স্টেম কোষের বুড়িয়ে যাওয়া। সেই কোষ যদি চলাচল করার ক্ষমতা হারিয়ে এক জায়গায় আটকে থাকে, তা হলেই গন্ডগোল।

বিষয়টা বুঝিয়ে বলা যাক। চুলের রং ধরে রাখে মেলানোসাইট কোষ। এই কোষ আবার জন্মায় স্টেম কোষ থেকে। স্টেম কোষ সারা শরীরেই থাকে। এই স্টেম কোষ থেকেই বিভিন্ন রকম কোষের জন্ম হয়। তার মধ্যে মেলানোসাইট কোষও আছে। ত্বক, চুলের রঙের জন্য দায়ী এই কোষ। একে বলে মেলানোসাইট স্টেম কোষ। এই কোষ থেকে যে রঞ্জক তৈরি হয়, তার নাম মেলানিন। এই মেলানিনের কারণেই একমাথা কুচকুচে কালো চুল হয়। কিন্তু সমস্যাটা তৈরি হয় অন্য জায়গায়। স্টেম কোষ খুব একটা ধীরস্থির নয়। সে অনবরত চলাচল করে। এক চুলের গোড়া থেকে অন্য চুলের গোড়ায় তার অবাধ গতি। এই ঘোরাফেরার সময়েই সে নানা প্রোটিনের সংস্পর্শে আসে ও মেলানিন রঞ্জক তৈরি করে তা ছড়িয়ে দিয়ে যায় চুলের গোড়ায় গোড়ায়। গবেষকেরা ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখেছেন, স্টেম কোষ যত দিন শক্তপোক্ত থাকে, তত দিন সে মেলানিন রঞ্জক তৈরির কাজটি করে যায়। ফলে চুলও পাকে না। কিন্তু যে মুহূর্তে সে চলাচলের শক্তি হারায় ও অথর্ব হয়ে পড়ে, সে মুহূর্ত থেকেই মেলানিন তৈরির প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে বন্ধ হতে থাকে। ফলে চুলেও পাক ধরতে থাকে।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হোক বা পুষ্টির অভাবে, স্টেম কোষ যদি চুলের গোড়ার একটি নির্দিষ্ট অংশে আটকে পড়ে, তখন সে আর কোনও প্রোটিনের কাছাকাছিই আসতে পারে না। ফলে রঞ্জকও তৈরি হয় না। নতুন গজানো চুলও আর কোনও রং পায় না এবং সাদা বা ধূসর হয়ে জন্মায়।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ডার্মাটোলজি ও সেল বায়োলজি বিভাগের গবেষক রোনাল্ড ও. পেরেলম্যান জানিয়েছেন, মেলানোসাইট স্টেম কোষ শরীরের বাকি স্টেম কোষগুলির থেকে আলাদা। মেলানোসাইট স্টেম কোষের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তারা রূপ বদলাতে পারে। কিন্তু যখন তারা চুলের গোড়ায় আটকে পড়ে, তখন সেই বিশেষ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আগে মনে করা হত বয়স বাড়লে মেলানোসাইট কোষের সংখ্যা কমে গিয়ে চুল পেকে যায়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, এদের সংখ্যা কমে না, বরং তারা অথর্ব হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, কোষগুলি জীবিত থাকে ঠিকই, তবে কোনও কাজ করার শক্তি থাকে না। যদি কোনও ভাবে আটকে পড়া মেলানোসাইট স্টেম কোষগুলিকে আবার চলাচল করার শক্তি দেওয়া যায়, তা হলেই সমস্যার সমাধান হবে। ফের তারা মেলানিন তৈরি করতে শুরু করবে এবং পাকা চুল আবারও কালো হয়ে উঠবে। পঙ্গু হয়ে পড়া স্টেম কোষকে সারিয়ে তোলার উপায় কী হতে পারে, সে নিয়েই গবেষণা চলছে। কী ধরনের ওষুধ, হেয়ার সিরাম বা ইঞ্জেকশনের সাহায্যে চুলের গোড়ায় ঘাপটি মেরে থাকা মেলানোসাইট স্টেম কোষগুলিকে আবারও গতিশীল করে তোলা সম্ভব হবে, সে নিয়েই নতুন করে মাথা ঘামাচ্ছেন গবেষকেরা। উপায়ও পাওয়া যাবে বলেই আশা রাখছেন তাঁরা।

Grey Hair Grey Hair Reverse Stem cell
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy