ঘর-বাড়ি রং করার জন্য যে ধরনের রঙের কৌটো ব্যবহার করা হয়,তার সঙ্গে হুবহু মিল। ঠিক তেমনই আকার, ঢাকনা, মায় লোহার সরু হ্যান্ডেলটিও এক রকমের। তফাত এটুকুই যে, জিনিসটি রঙের বালতি নয়। প্রায় ২ লক্ষ টাকা দামের একটি চামড়ার ব্যাগ।
বিলাসী ফ্যাশন সংস্থা লুই ভিতোঁ ওই ব্যাগ তৈরি করেছিল ২০২১ সালে। সেই ব্যাগ আবার আলোচনায় ফিরে এল বলিউডের এক গায়িকা কণিকা কপূরের দৌলতে!
বলিউডি বেশ কিছু হিট গান ‘চিটিয়া কলাইয়া’, ‘জুগনি জি’, ‘বেবি ডল’-এর গায়িকা কণিকা। সম্প্রতি তাঁর হাতে দেখা গল লুই ভিতোঁর ওই ব্যাগ। আর তার পর থেকেই ইন্টারনেটে হইচই পড়ে গিয়েছে ওই ব্যাগ নিয়ে। কারণ, জানা গিয়েছে লুই ভিতোঁর ওই সীমিত সংস্করণ ব্যাগের দাম ১৯৮০ পাউন্ড। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকার সমান।
‘মহার্ঘ’ ব্যাগ হাতে গায়িকা কনিকা কপূর।
ব্যাগটি এখন আর তৈরি করে না ফরাসি বিলাস-পণ্য সংস্থা। তবে লুই ভিতোঁর সংগ্রহে এই ব্যাগের গুরুত্ব অসীম। কারণ, এই ব্যাগের নকশাকার ছিলেন আন্তর্জাতিক ওই ফ্যাশন সংস্থার আর্টিস্টিক ডিরেক্টর ভার্জিল আবলো। যিনি মাত্র ৪১ বছর বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২০২১ সালের নভেম্বরে। সংস্থা ব্যাগটি প্রকাশ্যে আনে আবলোর মৃত্যুর পরে। তাঁর মরণোত্তর সংগ্রহ হিসাবে।
আবলো ওই ব্যাগ তৈরি করেছিলেন পুরুষদের জন্য। ২০২২ সালের শীত এবং বসন্তের সংগ্রহ হিসাবে। নীল, লাল, হলুদ, সবুজ, বেগনি এবং কমলা এই ছয় রঙে তৈরি হয়েছিল ব্যাগ। রঙের কৌটোর ভিতরে এবং বাইরে যে ভাবে রং দেখা যায়, সে ভাবেই ব্যাগেরও বাইরে এবং ভিতরের আবরণে থাকত রং। তার উপর আবছা ফুটে থাকত লুই ভিতোঁর চেনা মনোগ্রাম। আর বড় বড় হরফে লেখা ‘এক্সেটেরিয়র পেন্ট’।
লুই ভিতোঁর ওই ব্যাগ সেই সময়ে যেমন সাড়া ফেলেছিল ফ্যাশন জগতে, তেমনই ব্যাগের নকশা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন অনেকে। চার বছর পরে কণিকার ব্যাগ দেখেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া এসেছে নেটমাধ্যমে।
এক ভিডিয়োয় কণিকাকে তাঁর মহার্ঘ ব্যাগটি দেখাতে দেখা যাচ্ছে। ঢাকনা খুললে চোখে পড়ছে, ভিতরে রয়েছে নগদ টাকা, লিপস্টিক এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনের কিছু ছোটখাটো জিনিসপত্র। সেই ভিডিয়ো দেখেই নানা মন্তব্য করেছেন নেটাগরিকেরা।
কেউ লিখেছেন, ‘‘ছোটবেলার টিফিন কৌটোর কথা মনে করে গেল!’’ কেউ বা লিখেছেন, ‘‘মনে হচ্ছে, কৌটো নাড়িয়ে পয়সা তুলতে এসেছেন।’’ বছর চারেক আগেও ওই ব্যাগ দেখে এক নেটাগরিক কটাক্ষ করে লিখেছিলেন, ‘‘তা হলে তো যে কোনও জিনিসই ফ্যাশন হতে পারে। আমি আমার রান্নাঘরের কলের মুখটা সঙ্গে নিয়ে ঘুরব এ বার থেকে।’’