Advertisement
E-Paper

গরমে হানা দেয় এগ্‌জ়িমা, র‌্যাশ- চুলকানিতে নাজেহাল দশা, বিপজ্জনক ত্বকের রোগটি থেকে বাঁচার উপায় কী?

মুখ বা হাতের চামড়া লাল হয়ে যাওয়া, সেখানে চুলকানি বা লালচে র‌্যাশে ভরে যাওয়ার সমস্যাকে অনেকেই ছত্রাকজনিত সংক্রমণ বলে ভুল করেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আসলে তা এগ্‌জ়িমা। বিপজ্জনক চর্মরোগটি গরমের সময়ে আরও বাড়ে। এর থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১৫:৫১
Beat the Heat and Eczema Itch, these are some Face and Body Packs for Instant Relief

গরমে এগ্‌জ়িমা থেকে বাঁচুন, কী কী মাখবেন? ফাইল চিত্র।

গরমের সময়েই ত্বকের যত সমস্যা মাথাচাড়া দেয়। ত্বকে জ্বালা, ফেটে যাওয়া, চুলকানি, ত্বক শুকিয়ে খসখসে হয়ে যাওয়া, কখনও আবার ফোস্কাও পড়ে যায়। একে বলে এগ্‌জ়িমা। চিকিৎসার পরিভাষায় যার নাম ‘অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস’। গরম ও বর্ষার সময়ে ত্বকের এমন অসুখ দেখা দেয়। আবার অ্যালার্জির কারণে অথবা বিশেষ কোনও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। তার জন্য একগাদা ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরোয়া উপায়েই ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল থাকতে পারে।

গরমে কেন বাড়ে এগ্‌জ়িমার সমস্যা?

গরম এবং রোদের তীব্রতা এগ্‌জ়িমার মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। গরমে শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বার হয়। ঘামে থাকে সোডিয়াম বা লবণ। এই লবণাক্ত ঘাম ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া ও চুলকানির কারণ হয়ে ওঠে অনেক সময়েই। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ত্বকে বা যাঁরা খুব বেশি রাসায়নিক দেওয়া প্রসাধনী ব্যবহার করে, তাঁদের এ সমস্যা বেশি হয়।

তাপমাত্রা যত বাড়ে, ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে থাকে। গরমের শুষ্ক বাতাসে ধুলোবালি এবং পরাগরেণু বেশি ওড়ে, যা এগ্‌জ়িমার চুলকানি বাড়িয়ে দেয়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি আরও এক কারণ। এ থেকে ত্বকে প্রদাহ বাড়ে। যে সব লক্ষণ দেখা যায়, সেগুলো হল, মাথার ত্বকে বা গালে র‌্যাশ। তা থেকে ছোট ছোট জলফোস্কা, হাঁটু, কনুই, ঘাড়, গলা, নিতম্বে র‌্যাশ, প্রচণ্ড চুলকানি থেকে চামড়া খসখসে এবং পুরু হয়ে যাওয়া। সারা শরীরের যে কোনও এক বা একাধিক জায়গায় প্যাচ তৈরি হতে পারে। সেখান থেকে আবার ত্বকের সংক্রমণও হতে পারে।

সুস্থ থাকতে

ঘরোয়া কিছু প্যাকে সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে তা বানাতে হবে বিশেষ উপায়ে।

ওট্‌স ও টক দইয়ের প্যাক

২ চামচ ওট্‌সের গুঁড়োর সঙ্গে ২ চামচ জল ঝরানো টক দই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এটি আক্রান্ত স্থানে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। ওট্‌সে ‘অ্যাভেনানথ্রামাইডস’ নামক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে যা ত্বকের চুলকানি ও র‌্যাশ কমাতে পারে। তা ছাড়া জলে মিশলে ওট্‌স পলিস্যাকারাইডের আঠালো স্তর তৈরি করে যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে।

কলা এবং মধুর ময়েশ্চারাইজ়িং প্যাক

অর্ধেকটা পাকা কলার সঙ্গে ১ চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। র‌্যাশের জায়গায় তা লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। কলার পটাশিয়াম এবং মধুর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ত্বককে আর্দ্র রাখে এব‌ং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

নিম পাতা ও কাঁচা হলুদের প্যাক

এক মুঠো নিম পাতা বাটা, ১ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা এবং কয়েক ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। ত্বকে র‌্যাশ ও চুলকানির জায়গায় লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের সংক্রমণ কমাবে। সোরিয়াসিসের সমস্যাতেও কার্যকরী হবে এই প্যাক।

মুসুর ডাল ও গাঁদা ফুলের প্যাক

১ চামচ মসুর ডাল বাটা, ২টি গাঁদা ফুলের পাপড়ি বাটা, আধ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, ১ চামচ টক দই ভাল করে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করে ফেলুন। আক্রান্ত ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। গাঁদা ফুলে রয়েছে 'ক্যালেন্ডুলা' যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে কাজ করে। যে কোনও রকম চর্মরোগে এই প্যাকটি লাগালে ত্বকের প্রদাহ কমবে।

eczema Summer Skin Care Tips Skin Disease
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy