রোদে বেরোলেই পুড়ছে ত্বক। মুখ থেকে ট্যান তুলতে কেউ লেবু ঘষছেন, কেউ বেসন মাখছেন, আবার কেউ রাতারাতি ফর্সা হওয়ার প্রতিশ্রুতি শুনে প্রসাধনী কিনছেন। ট্রিটমেন্টের চাহিদাও বেড়েছে বিভিন্ন সালোঁয়। সমাজমাধ্যমে ‘ডি-ট্যান’ নিয়ে অসংখ্য টোটকা ঘুরে বেড়ালেও, তার অনেকগুলিই ত্বকের উপকারের বদলে ক্ষতি করে। এমনই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন পেশাদারেরা। কী সেই ভুলগুলি?
১. ট্যান সম্পর্কে নানা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ত্বকের উপর ট্যান বসে থাকে, ঘষে ঘষে তুলে ফেললেই তা উঠে যায়। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বকে মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের উৎপাদন বেড়ে যায়। এর ফলে ত্বক কালচে বা তামাটে হয়ে যায়। তাই রাতারাতি ট্যান তুলে ফেলা সম্ভব নয়। আর সেই চেষ্টায় অনেকেই বিপজ্জনক ভুল করে বসেন। তাই স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশনের পদ্ধতি এ ক্ষেত্রে একেবারেই কাজে দেয় না। তাতে বরং ত্বকের উপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছোট ছোট জায়গায় প্রদাহ তৈরি হয়। ট্যান কমানোর বদলে বরং দাগছোপ বেড়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে।
২. ট্যান দূর করার জন্য বা রোদে বেরোনোর আগে অনেকেই লেবু ঘষে নেন ত্বকে। ধারণা, তাতে নাকি রোদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ত্বক। কিন্তু লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। সরাসরি ত্বকে লাগালে জ্বালা, শুষ্কতা, র্যাশ এমনকি সূর্যের আলোয় ত্বক আরও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। লেবুতে থাকা অ্যাসিড সূর্যের সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে ত্বকে গাঢ় দাগ ফেলে দিতে পারে।
৩. ডি-ট্যানযুক্ত প্রসাধনী যত ঘন ঘন ব্যবহার করা যায়, ততই ভাল— এমন ধারণা থেকে ত্বকে একের পর এক প্রসাধনীর ভিড় বাড়ে। আদপে বেশির ভাগ সক্রিয় উপাদানগুলির ফল প্রকাশ পেতে পেতে মাস গড়িয়ে যেতে পারে। নির্দেশিত মাত্রার চেয়ে বেশি ব্যবহার করলে প্রক্রিয়াটি মোটেও দ্রুত হয় না। বরং তাতে ত্বকে জ্বালা, অস্বস্তি বাড়তে পারে এবং নিরাময়ে দেরি হতে পারে আরও বেশি।
৪. অনেকে মনে করেন, পার্লারে এক বার ডি-ট্যান করালেই নিশ্চিন্ত। কিন্তু পেশাদারদের মতে, যদি নিয়মিত রোদে বেরোনো হয় এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা হয়, তা হলে ফের ট্যান পড়তে পারে। অর্থাৎ ডি-ট্যান ফেসিয়াল করানোর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ত্বককে রোদ থেকে রক্ষা করা। তাই বাইরে বেরোলে এবং ঘরের ভিতরেও সানস্ক্রিন মেখে থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ, সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি জানালার কাচ দিয়ে ভেদ করে ঘরের ভিতরেও প্রবেশ করতে পারে।