Advertisement
E-Paper

‘ইয়ো ইয়ো’ ডায়েটে একেবারেই ভরসা নেই দীপিকার, কী এই ডায়েট, কেনই বা অপছন্দ সেটি?

-‘ইয়ো ইয়ো ডায়েট’ এখন চর্চায়। চটজলদি ফল পেতে নতুন প্রজন্ম ঝুঁকছে এমনই ডায়েটে। কিন্তু এতে কেন ভরসা নেই দীপিক পাড়ুকোনের মতো অভিনেত্রীর।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১০
৪০-এও নজর কাড়া সৌন্দর্য। ফিটনেসের কোন মন্ত্রে বিশ্বাসী অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন?

৪০-এও নজর কাড়া সৌন্দর্য। ফিটনেসের কোন মন্ত্রে বিশ্বাসী অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন? ছবি: সংগৃহীত।

সামনেই বিয়েবাড়ি। হাতে এক মাস সময়। শুরু হল কড়া ডায়েট, সঙ্গে শরীরচর্চা। স্বল্প সময়ে তন্বী হয়ে উঠতে হবে। আবার নায়কদের মতো পেশিবহুল চেহারা পেতেও নতুন প্রজন্মের অনেকে পরিশ্রম না করে মাস ছয়েকেই ফল পেতে চাইছেন।

এমনটা তো করেন অভিনেতা, অভিনেত্রীরাও। কখনও চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁদের ওজন বৃদ্ধি করতে হয়, কখনও মেদ ঝরিয়ে হয়ে ওঠেন ছিপছিপে। তা দেখেই কি কম সময়ে চেহারায় বদল আনতে চাইছেন?

এমন ‘ইয়ো ইয়ো ডায়েট’ নিয়েই এখন চর্চা। এটি হল এমন একটি ডায়েট, যেখানে খাদ্যতালিকায় বিপুল বদল এনে কম সময়ে ওজন বৃদ্ধি বা কমানোর লক্ষ্য স্থির করা হয়। নতুন প্রজন্ম এতে মাতলেও, তা একেবারেই অপছন্দ বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের।

বি-টাউনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি, একজন মা-ও। তাঁর সৌন্দর্যের অনুরাগীও কম নয়। তাঁর নির্মেদ চেহারা, ত্বকের জেল্লা, রূপ— অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। কিন্তু কোনও ‘শর্ট কার্ট’ বা সহজপ্রাপ্তিতে বিশ্বাসী নন দীপিকা। অতীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, ‘ক্র্যাশ ডায়েট’ নয়, বরং ফিটনেসের ধারাবাহিকতায় তিনি আস্থা রাখেন। তাঁর কথায়, অল্প সময়ে মেদ ঝরিয়ে ফেলা বা ওজন বৃদ্ধি করে চেহারার বদল— কখনও লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়।

ইয়ো-ইয়ো ডায়েটের ক্ষতিকর দিক

করিনা কপূরের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকরও অতীতে সমাজমাধ্যমে একাধিক বার পরামর্শ দিয়েছেন, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করতে। কারণ, এতে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। ওজন কমানোর পদ্ধতিও রয়েছে। তা হওয়া দরকার ধীরে সুস্থে।

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ইয়ো ইয়ো ডায়েট বা চটজলদি পেশিবহুল শরীর পাওয়া বা ওজন কমাতে গিয়ে শরীরে কুপ্রভাব পড়তে পারে। পেশিক্ষয় হতে পারে, বিপাকক্রিয়ার হার কমে যেতে পারে, এমনকি হরমোনের ভারসাম্যও বিগড়ে যেতে পারে। আবার এই ভাবে ওজন বাড়াতে গেলে মাংসপেশি মজবুত হওয়ার বদলে শরীরে বাড়তি মেদ জমতে পারে। শরীরে আচমকা মেদ জমতে থাকলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তা হলে সঠিক উপায় কী?

দীপিকা ৪০-এ পৌঁছেও যথেষ্ট ফিট। তিনি সাক্ষাৎকারেই জানিয়েছেন, চেহারার খুঁটিনাটির দিকে নজর দেওয়ার চেয়ে তিনি বরাবরই ফিট থাকাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অভিনেত্রী ‘ব্যালান্সড ডায়েট’ বা সুষম খাবার খেয়ে দীর্ঘ সময় ভাল থাকায় বিশ্বাসী। পুষ্টিবিদেরা বলেন, খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। কিন্তু তাতে যেন পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। শরীর অনুযায়ী প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন এবং খনিজের সমন্বয় থাকা দরকার।

কার্বোহাইড্রেট: দৈনন্দিন কাজের জন্য দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। সব্জি, ফল, ওট্‌স, ভাতে কার্বোহাইড্রেট মেলে।

প্রোটিন: পেশি গঠনে সাহায্য করে। শরীর সবল করে। তালিকায় রাখতে পারেন বিভিন্ন রকম ডাল, মাছ, মাংস, ডিম, সয়াবিন, পনির, টোফু।

ফ্যাট: স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে, ভিটামিন শোষণে সাহায্য করে। বিভিন্ন রকম বীজ, বাদামে ফ্যাট মেলে।

ভিটামিন এবং খনিজ: শরীর সু্স্থ রাখতে এবং শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য জরুরি। ফল, মাছ, মাংস, বিভিন্ন রকমের সব্জি তালিকায় রাখা দরকার।

জল: সুস্থ থাকতে দিনভর পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি। সুস্থ মানুষের অন্তত ৭-৮ গ্লাস জল দিনে পান করা দরকার। শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদনে জল দরকার হয়।

দীপিকা মনে করে্ন, সঠিক ডায়েট এবং শরীরচর্চাই সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। ওজন ঝরিয়ে কেউ ‘সাইজ় জিরো’-ও হতে পারেন, তবে অবশ্যই তা হতে হবে নিয়ম মেনে।

Deepika Padukone Health Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy