বাড়ছে গরম। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ঘামের সঙ্গে অবিরাম যুঝতে হয় ত্বককে। আর তাই ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে ত্বকচর্চার ধরনও পাল্টে যায়। ঋতু মাফিক ত্বকের যত্নের নতুন নতুন ট্রেন্ডের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ‘ডবল ক্লিনজ়িং’। কিন্তু সত্যিই কি এই অতিরিক্ত ধাপ দরকার, না কি শুধুই বাড়তি ঝক্কি?
গরমের সময়ে ত্বকের অবস্থা বদলে যায়। বেশি ঘাম, তেল নিঃসরণ আর ধুলোবালি মিলিয়ে ত্বকের উপর জমে যায় নানা ধরনের ময়লা, যা সহজে দূর হয় না। তাই এই সময়ে ত্বকচর্চার রুটিনেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়। শীতের সময়ে যে নিয়মে পরিচর্যা করেছেন, তার থেকে খানিক পরিমাণে আলাদা হবে। জমে থাকা ঘাম, তেল ও ধুলোময়লা বার করার জন্য বাড়তি কসরতের প্রয়োজন রয়েছে। আর সেখানেই ‘ডবল ক্লিনজ়িং’-এর উপযোগিতা বেড়ে যায়।
গরমে ত্বকের সমস্যা। ছবি: সংগৃহীত
‘ডবল ক্লিনজ়িং’ আসলে কী?
ত্বকচর্চার যে কোনও রুটিনের প্রথম ধাপ ক্লিনজ়িং। সেই ধাপই আবার দু’ভাগে ভাগ করা হয়। দু’ভাবে মুখ ও গলার ত্বক পরিষ্কার করার পদ্ধতিকেই বলা হয় ‘ডবল ক্লিনজ়িং’। প্রথমে তেল-ভিত্তিক ক্লিনজ়ার ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের তেল, সানস্ক্রিন ও মেকআপের মতো জিনিস বার করে। এর পর মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে বাকি ঘাম, ধুলো ও ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এ ভাবে দু’ধাপে মুখ ধোয়ার প্রচলন বেড়েছে। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রসাধনী বেছে নিতে হবে।
গরমের সময়ে ‘ডবল ক্লিনজ়িং’ কেন দরকারি?
গরমের সময়ে এই পদ্ধতি নিয়ে বেশি আলোচনা হয় কারণ, এই সময়ে ত্বকে তেল ও ঘাম বেশি জমে। এরই সঙ্গে সানস্ক্রিনও নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। ফলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই অবস্থায় ‘ডবল ক্লিনজ়িং’ ত্বককে ভাল ভাবে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। আর তাই এ সময়ে এই পদ্ধতি মেনে চলার পরামর্শ দেন অনেকেই। তবে সকলের জন্য এই পদ্ধতি উপকারী নয়। যাঁদের খুব শুষ্ক ত্বক, তাঁরা দু’ধাপে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বক রুক্ষ ও আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। অথবা যাঁরা ভারী মেকআপ ব্যবহার করেন না, তাঁদের প্রতি দিন ‘ডবল ক্লিনজ়িং’ করার প্রয়োজন নেই। বরং বেশি পরিষ্কার করতে গিয়ে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ফলে শুষ্কতা বা জ্বালা বাড়তে পারে।