শপিং মলে মেকআপ ও প্রসাধনীর দোকান বাড়ছে দিন দিন। বিকল্পের সংখ্যাও এত বেশি থাকে যে, প্রলোভন সামলানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সে সব দোকান থেকে একখানি লিপস্টিক বা কাজল অথবা ফাউন্ডেশন বা নেলপলিশ কেনা হয়েই যায়। পকেটে টান পড়ার পাশাপাশি এ সমস্ত ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। আর তা হল, সংক্রমণ।
শপিং মলে গিয়ে নতুন লিপস্টিক বা ফাউন্ডেশন কেনার আগে অনেকেই পরখ করে দেখতে চান। দোকানেও সুন্দর করে সাজানো থাকে এই ‘টেস্টার’গুলি। খরিদ্দারের মনে হয়— বাহ্! বেশ ভাল বন্দোবস্ত। পরীক্ষা করে তবেই কিনতে পারব। অথচ এই ব্যবহারই অজান্তে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। কারণটিও বেশ সহজ। ‘মেকআপ টেস্টার’ আসলে একসঙ্গে বহু জনে ব্যবহার করেন। ফলে এতে খুব সহজেই ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক, এমনকি ক্ষতিকর জীবাণুও জমতে পারে। বিশেষ করে যে সব প্রসাধনী সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে, সেগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যেমন লিপস্টিক, মাস্কারা, ফাউন্ডেশন ইত্যাদি।
যতই পরিষ্কার হাতে ব্যবহার করুন না কেন, তার আগে কে কী ভাবে ব্যবহার করেছেন, তা জানা যায় না। অনেকেই সরাসরি মুখে লাগান, ফলে সেই জীবাণু পরের ব্যবহারকারীর শরীরে সহজেই ঢুকে যেতে পারে। আর এই জীবাণুগুলি একাধিক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। আর্দ্র জায়গায় এই ব্যাক্টেরিয়া বেশি পরিমাণে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ধরা যাক, ক্রিমি লিপস্টিক অথবা ভিজে মাস্কারা সে দিক থেকে উপযুক্ত। ওই একই জিনিস পর পর একাধিক জন ব্যবহার করলেন। সকলেরই ত্বকে সেই জীবাণু প্রবেশ করল। চোখ, ঠোঁট বা মুখের ত্বক শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশগুলির মধ্যে পড়ে। এই জায়গাগুলি দিয়ে জীবাণু খুব দ্রুত শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই এখানে ঝুঁকি আরও বেশি।
এই ধরনের প্রসাধনীতে ই-কোলাই এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাসের মতো ব্যাক্টেরিয়াও থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এমনকি ঠোঁটের সংক্রমণ বা ত্বকের সমস্যাও হতে পারে। বাইরে থেকে ‘টেস্টার’গুলিকে পরিষ্কার মনে হলেও এগুলি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলিকে নিয়মিত স্যানিটাইজ়ও করা হয় না। তাই শুধু চোখের দেখাতেই সেগুলিকে নিরাপদ মনে করা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন:
যদি খুব প্রয়োজন হয়, তা হলে সরাসরি মুখে ব্যবহার না করে হাতে বা কব্জিতে পরীক্ষা করা উচিত। কিংবা ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার জিনিস চেয়ে নিতে পারেন। অথবা খানিকটা অংশ উপর থেকে ফেলে দিয়ে তার পর ব্যবহার করা যায়। তবে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল, এই ধরনের ‘টেস্টার’ এড়িয়ে চলা।