সকালবেলা স্কুলের বাস ধরার তাড়া, টিফিন তৈরি আর তার মাঝেই মেয়ের স্নান—সব মিলিয়ে সময় হাতে খুব কম। অনেক সময়ে তাড়াহুড়োয় তাদের ভেজা চুলই আঁচড়ে বেঁধে দেন মায়েরা। এতে অজান্তেই ক্ষতি হয় চুলের। তা ছাড়া বাইরের ধুলোবালি, দূষণে ছোট থেকেই চুলের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ছে। কারও চুল খুবই রুক্ষ ও খসখসে, কেউ আবার খুশকির সমস্যায় নাজেহাল। তা ছাড়া চুল ঠিকমতো না শুকোনোর আগেই বাঁধলে মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণও হয়। এতে খুশকির উপদ্রব আরও বাড়ে। ছোটবেলা থেকেই যদি চুলের সঠিক যত্ন নেওয়া না হয়, তবে পরবর্তী কালে চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। তাই ব্যস্ততার মাঝেও সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে সন্তানের চুল হবে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
কী কী নিয়ম মানবেন?
খুব সকালে স্কুল থাকলে, স্নানের পর লম্বা চুল শুকোতে সমস্যা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্কুলের দিনে চুল বেঁধে স্নান করানো অভ্যেস করান।
দু’-তিন দিন অন্তর নরম, ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে দিন। চুল যদি খুব রুক্ষ আর ভঙ্গুর না হয়, তবে শুরুতেই কন্ডিশনার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বরং শ্যাম্পুর আগে ভাল করে তেল মালিশ করে দিতে পারেন চুলে। এতে চুল নরম থাকবে।
আরও পড়ুন:
নারকেল তেল অল্প গরম করে, সপ্তাহে দু’বার ১৫ মিনিট ধরে মালিশ করে দিন। ক্যাস্টর অয়েলও চুলের জন্য ভাল। এতে চুল নরম ও মসৃণ থাকবে।
ছোটদের জন্য কিছু হেয়ার প্যাক
জলপাইয়ের তেল, লেমন এসেনশিয়াল অয়েল আর দই মিশিয়ে মাখলেও চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়। ছোটদের জন্য এই প্যাক খুবই ভাল।
একটি পাকা কলা চটকে তার সঙ্গে ২ চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিতে হবে। এই প্যাক চুলে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিতে হবে। এই প্যাক সপ্তাহে দু’দিন মাখলেই চুল নরম থাকবে।
রিঠা, শিকাকাই ও আমলকি চুলের জন্য খুবই ভাল। প্রথমে পাত্রে জল নিয়ে তার মধ্যে তিনটি জিনিস ভিজিয়ে রাখুন। সারা রাত ভেজাতে পারলে ভাল হয়। পরের দিন ভেজানো রিঠা, আমলকি এবং শিকাকাইয়ের মিশ্রণ ভাল করে ফুটিয়ে নিন। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে ছেঁকে নিয়ে রিঠা, আমলকি ও শিকাকাই বেটে নিয়ে তা ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি প্রাকৃতিক শ্যাম্পুরও কাজ করবে।
চুল যদি খুব রুক্ষ হয়, তা হলে অ্যালো ভেরা জেল ও মেথি গুঁড়োর প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। টাটকা অ্যালো ভেরা জেল এবং সামান্য মেথি ভেজানো জল বা গুঁড়ো মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে ১০ মিনিট। এই প্যাকে খুশকি দূর হবে। মাথার ত্বকে র্যাশ বা যে কোনও সংক্রমণও দূর হবে।