সরস্বতী পুজো মানে অলিখিত ‘প্রেম দিবস’। প্রতি দিন জিন্স-টপ পরা মেয়েরাই যেন শাড়ি পরে কেমন বড় হয়ে ওঠে। এই দিন সব নিয়ম একটু আলগা। হলুদ পাঞ্জাবি আর বাসন্তী শাড়ি পরা বন্ধু-বান্ধবীদের কাছে আসার দিন।
এমন দিনেই তো মনে ভরে সাজা যায়। সেই সাজ কি তেমন ফুটবে যদি ত্বক রুক্ষ থাকে, মুখে থাকে রোদের তাপে কালচে হয়ে যাওয়া ছোপ। অনেক রূপচর্চা শিল্পীই বলেন, দূষণ যে ভাবে বাড়ছে, তাতে এখন কম বয়স থেকেই ছেলেমেয়েদের ত্বক নিয়ে ভাবার, যত্নআত্তির দরকার হয়। তবে কিশোরবয়স্ক ছেলমেয়েদের না জেনে না বুঝে এটা-সেটা মাখা নিয়ে সতর্কও করেন চিকিৎসকেরা।
আরও পড়ুন:
সরস্বতীপুজোর আগে ত্বক ঝকঝকে করে তুলতে রাসায়নিক সমৃদ্ধ প্রসাধনী নয়, ভরসা রাখা যেতে পারে মা-ঠাকুরমাদেরই ঘরোয়া টোটকায়।
হলুদ-চন্দন
হলুদ-চন্দনের ব্যবহার নতুন নয়। হলুদে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। চন্দনেও রয়েছে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং প্রদাহনাশক উপাদান। ত্বকে ব্রণ, ফুস্কুড়ি হলে যে জ্বালাভাব হয় তা কমাতে সাহায্য করে চন্দন। ছোটখাটো সংক্রমণ সারাতেও এই উপাদান কাজের। হলুদ, মুখের কালচে ছোপ দূর করতে কার্যকর। ১ টেবিল চামচ হলুদবাটার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ চন্দনবাটা মিশিয়ে নিতে হবে। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পরে সেটি লাগিয়ে রাখতে হবে ১০-১৫ মিনিট। তার পর ধুয়ে নিলেই হবে। এই ফেসপ্যাক ব্যবহারের পর ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে।
নিম-হলুদ
মুখে ব্রণ থাকলে নিম হলুদের প্যাকও কিন্তু বিশেষ কার্যকর হতে পারে। ৪-৫টি নিমপাতা জলে ধুয়ে ভাল করে থেঁতো করে নিন। কাঁচা হলুদের সঙ্গে বেটে নিন। যোগ করুন সামান্য বেসন। জল দিয়ে মিশ্রণটি গুলে নিয়ে মুখে ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন।
অ্যালো ভেরা- হলুদ-মধু
অ্যালো ভেরা বা ঘৃতকুমারী ত্বকের যত্নে বহু দিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ত্বকের জ্বালা ভাব কমাতে এটি সাহায্য করে, ত্বক উজ্জ্বল করে। ১ টেবিল চামচ কাঁচা হলুদবাটার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ অ্যালো ভেরা জেল এবং ৫-৬ ফোঁটা মধু মিশিয়ে মাখতে হবে। মিশ্রণটি মুখে ১০-১২ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললেই হবে।
তবে যে কোনও নতুন ফেস প্যাক ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট জরুরি। প্যাক বানিয়ে হাতের কোনও অংশে আধ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখতে হবে। যদি সেখানে চুলকানি, প্রদাহ বা অস্বস্তি না হয়, বুঝতে হবে প্যাকটি ত্বকের জন্য সমস্যাজনক হবে না।