যদি বলা হয়, আছে এমন এক পন্থা, যেখানে বয়স বাড়লেও আসবে না বার্ধক্য, মুখে খেলা করবে প্রাণবন্ত ভাব, লেগে থাকবে দীপ্তি! তবে কি তা বিশ্বাস করবেন? বয়স বাড়লে বার্ধক্য আসবেই। তবে সেই বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখার জন্যই রয়েছে নানা কৌশল। রয়েছে রূপচর্চার নানা পন্থা।
কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, শুধু রূপচর্চা নয়, রূপ ধরে রাখার চাবিকাঠি হতে পারে একগাল হাসি। কারণ হাসি কমাতে পারে মানসিক চাপ, হাসি মন ভাল রাখতে পারে, মন খুশি করা হরমোন নিঃসরণের কারণও হতে পারে সেই হাসি। আর সেই কারণেই তারুণ্য ধরে রাখার উপায় হতে পারে প্রাণখোলা হাসি।
নির্মল হাসি যেমন মুখে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে, তেমন হাসির সঙ্গে স্নায়ুর যোগও রয়েছে। কী ভাবে?
· কেউ যখন অনাবিল ভাবে হাসেন তখন মুখের পেশি টানটান হয়ে ওঠে। রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। কোনও অস্ত্রোপচার, দামী ক্রিম ছাড়াই মুখের পেশি সতেজ হয়ে ওঠে। মুখ দেখায় অনেক বেশি সুন্দর।
আরও পড়ুন:
· মানসিক চাপের কারণে কপাল কুঁচকে থাকে, বলিরেখা পড়ে। চিন্তা-ভাবনার কারণে ঘুমের ব্যাঘাত হয়, হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট হয়। আবার কেউ যদি মন খুলে হাসেন, মস্তিষ্কে এন্ডরফিন, সেরোটোনিন-এর মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ বা সুখী হরমোনের নিঃসরণ বেশি হয়। স্ট্রেস হরমোন বলে পরিচিত কর্টিসলের নিঃসরণ কমে। ফলে হাসলে মানসিক চাপমুক্ত থাকা যায়। তার প্রতিফলন হয় চোখে-মুখেও।
· ত্বকের অন্যতম উপাদান হল কোলাজেন নামক প্রোটিন। হাসলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়, পেশির ব্যায়াম হয়। ফলে কোলাজেনের নিঃসরণ ঠিক থাকে, ত্বক সতেজ এবং সুন্দর দেখায়।
· হাসলে মন ভাল থাকে। ফলে, রক্তচাপ বশে থাকে। মন ফুরফুরে থাকায় শরীরও ভাল থাকে। তার প্রতিফলন দেখা যায় মুখেও।
তা ছাড়া হাসির সঙ্গে মুখের গড়নেরও সম্পর্ক থাকে। বয়সকালে যখন চোয়ালের হাড় ক্ষয়ে যায়, দাঁত ভেঙে যায় তখন মুখের গড়নও খানিক পাল্টে যায়। হাড় ক্ষয়ে গেলে মুখের চামড়াও আলগা হতে শুরু করে। হাসি সুন্দর করার জন্যই খেয়াল রাখা দরকার দাঁতেরও। নিয়ম করে দুই বেলা দাঁত মাজা, খাওয়ার পরে কুলকুচি করে মুখ ধোয়া জরুরি। এ ছাড়া, ভিটামিন এ, সি এবং ক্যালশিয়াম যুক্ত খাবারও দাঁত ভাল রাখতে সাহায্য করে।