দূষণ, ধুলো-ধোঁয়া, অযত্নকেই চুল ঝরার কারণ হিসাবে দায়ী করা হয়। কারও আবার নেপথ্যে থাকে হরমোনের গন্ডগোলও। কিন্তু শোয়ার ভুলেও যে চুল ঝরতে পারে, তা হয়তো অনেকে ভাবতেই পারেন না।
ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, বালিশের কভার, শোয়ার ভঙ্গিমা, ঘুমের মাত্রা— এই সব কিছুর সঙ্গে চুলের ভাল বা খারাপ থাকা সম্পর্কযুক্ত। বালিশের ঢাকনাটি যদি খড়খড়ে হয়, ঘষা লেগে চুল ঝরতে পারে। আবার ঘুম কম হলেও হতে পারে হরমোনের গন্ডগোল। তারই প্রভাব পড়ে চুলে।
মাথায় রাখবেন কী?
· সাটিন বা সিল্কের বালিশের কভারে চুল তেমন ঘষা খায় না। কারণ, এগুলি হল একেবারে মসৃণ। তবে যদি বিছানার চাদর বা বালিশের কভারে সুতোর নকশা থাকে, খড়খড় হয়, তাতে চুলে ঘষা লাগবে।
· কোন ভঙ্গিমায় শোয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। বড় চুল থাকলে তা হালকা করে বেঁধে নেওয়া ভাল, এতে ঘষা লাগে কম। সোজা হয়ে শুলে চুলে ঘষা লাগবে কম। তবে পাশ ফিরে শুলে চুলের সামনের ছোট অংশগুলিতে ঘষা খাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
· স্নান করে অনেকে ভেজা চুলে শুয়ে পড়েন। অনেকে আবার ঘামে ভেজা চুলেও ঘুমোতে যান। দুই-ই চুলের জন্য ক্ষতিকর। চুল ভিজে থাকলে মাথার ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই চুল ভাল করে শুকিয়ে ঘুমোতে যাওয়া ভাল।
· অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। ঘুম কম হলে কর্টিসলের মাত্রা বাড়তে পারে। একে স্ট্রেস হরমোন বলা হয়। হরমোনের হেরফের চুল ঝরার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একই সঙ্গে ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা গুরুত্ব দিচ্ছেন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার উপরে। মাসাজ় চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। চুল ভাল থাকে এতে। ডিম, মাছ, বাদাম, সব্জি, ফলের মতো খাবারও ঘন কেশের জন্য জরুরি।