কল্পনা করুন, পোশাক পছন্দ না হলে যে ভাবে তা পাল্টে নেন, সে ভাবেই পাল্টানো যাচ্ছে চেহারা। ঠোঁট মোটা করা দরকার? বা টিকলো নাক চাই? অথবা মুখের গড়ন খানিক সরু করবেন? কিংবা এমন বন্দোবস্ত করা হোক, যাতে বয়স বাড়লেও চামড়া ঝুলে যাবে না। নিজের চেহারা পছন্দ না হলে আর চিন্তার প্রয়োজন নেই। টাকা খরচ করলেই বদলে ফেলা সম্ভব। এ আর এমন কী কঠিন কাজ! মুখের পেশিতে বোটালিনাম টক্সিন নামে নিউরোটক্সিক প্রোটিন প্রয়োগ করে পেশির সঙ্গে স্নায়ুর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। ফলে পেশির সঞ্চালন অনেকখানি কমে আসবে। ব্যস, ত্বকে আর ভাঁজ পড়বে না, ত্বক টানটান থাকবে, মুখের ধরনধারণ পাল্টে যাবে।
এমনই ভাবে জলভাত হয়ে গিয়েছে বোটক্সের মতো ত্বকের নানা রকম ট্রিটমেন্ট।
বোটক্স আর কেবল তারকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ত্বকের বিবিধ ট্রিটমেন্ট এখন জনসাধারণের একাংশের নাগালে। যৌবনের চৌকাঠ পেরোনোর পর নিজের চেহারার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না অনেকে। তাই কৃত্রিম উপায়ে ত্বক টানটান করার পথে হাঁটেন। কেউ আবার পর্দায় নিজেকে ‘নিখুঁত’ দেখানোর জন্য মুখে ছুরিকাঁচি চালানোর মতো পথের আশ্রয় নেন। এই প্রবণতার বাড়বৃদ্ধি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে যে, কোনও অভিনেত্রী বোটক্স না করালেও তাঁর কথা বিশ্বাস করা হয় না।
বোটক্সের মতো ত্বকের নানা রকম ট্রিটমেন্টের কদর বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত।
বলিউডে যেমন অনুষ্কা শর্মা, প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, মৌনী রায়ের মতো তারকারা নাক-মুখ বদলানোর পর সে কথা স্বীকারও করেছেন, আবার এমন অনেক অভিনেত্রী তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই ভাবে টলিউডের একাধিক অভিনেত্রীও নিজেদের মুখমণ্ডল বদলে ফেলেছেন ট্রিটমেন্টের সাহায্যে। কিন্তু স্বীকার করেননি।
চেহারা বদলে ফেলার এই আকর্ষণ নিয়ে সম্প্রতি আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে কথা বললেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। যিনি কখনও বোটক্স করাননি, কৃত্রিম উপায়ে নিজেকে বদলে ফেলার চেষ্টা করাননি। বরং বোটক্সের ধারণার বিরুদ্ধে সরব তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ছোট ছোট খুঁত নিয়েই তো মানুষ সুন্দর হয়। প্রতিটি মানুষ নিজের মতো করে সুন্দর। সৌন্দর্যের যে একটা মাপকাঠি তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে আমি সহমত নই। যেখানে বলা হয়, গায়ের রং, চোখ, নাক, ঠোঁট, থুতনি, ভ্রু নির্দিষ্ট রকমের হলে, তবেই নাকি তা সুন্দর। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই ধারণাকে ঠিক বলে মনে করি না।’’
কখনও বোটক্স করাননি কোয়েল। ছবি: সংগৃহীত।
‘নিখুঁত’-এর সংজ্ঞাই যেখানে স্পষ্ট নয়, সেই নিখুঁত হওয়ার দিকে ছোটার কোনও অর্থ খুঁজে পান না কোয়েল। তবে যাঁরা বোটক্স করাতে চান, বা করিয়েছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে চান না তিনি। কারণ কোয়েলের মতে, ‘‘নিজেদের শরীর এবং মুখ নিয়ে কে কী করবেন, সেটা তাঁদের ব্যাপার। আমি তা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না।’’
আরও পড়ুন:
বোটক্সের মতোই নখ সাজানোর চর্চা জনপ্রিয় হয়েছে এ যুগে। আসল নখের উপর মসৃণ, রঙিন, সমান করে কাটা নখ বসানো হয়। রাস্তার ধারে, পার্লারে, এমনকি শপিং মলেও এখন নেল আর্টের স্টল তৈরি হয়েছে। একজন নায়িকা হয়ে সে ট্রেন্ডেও পা মেলানো হয় না কোয়েলের। মা হওয়ার পর সন্তানদের কথা ভেবে কৃত্রিম নখ বসাতে নারাজ নায়িকা। তবে এক সময়ে নখ সাজানোর শখ ছিল তাঁর। তখন নেল আর্ট করিয়েছেন একাধিক বার। কিন্তু ইদানীং যে ভাবে নখ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা শুরু হয়েছে, তার থেকে নিজেকে আপাতত সরিয়েই রেখেছেন নায়িকা।