Advertisement
E-Paper

কেশচর্চার জগতে সিরামের দাপট! হেয়ার ক্রিম কি যুগের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে?

হেয়ার ক্রিম, সিরাম, বাটার, লিভ-ইন কন্ডিশনার, সবই আলাদা উদ্দেশ্যে তৈরি। সিরামের জনপ্রিয়তার মাঝে ক্রিম ব্যবহার কি অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৬
কোন ধরনের চুলের জন্য ক্রিম উপকারী?

কোন ধরনের চুলের জন্য ক্রিম উপকারী? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ত্বক ও কেশ পরিচর্যার বাজার এখন বিভ্রান্তিতে ভরা। লিভ-ইন কন্ডিশনার, হেয়ার সিরাম, হেয়ার মাস্ক, হেয়ার ক্রিম, হেয়ার বাটার— এত কিছুর ভিড়ে হেয়ার সিরাম এখন যেন পেশার মধ্যগগনে। শ্যাম্পু করা বা না করা চুলে সিরাম মেখে বেরিয়ে পড়ার একটা চল শুরু হয়েছে। কিন্তু এক সময়ে হেয়ার ক্রিম মাখার রেওয়াজ ছিল। ঝক্কিও ছিল কম। শ্যাম্পুর বাধ্যবাধকতা নেই, মাস্ক মেখে অপেক্ষা করার দায়বদ্ধতা নেই। কিন্তু ক্রিমের চেয়ে সিরামের জনপ্রিয়তা কেন বেশি? সত্যিই কি ক্রিমের আর প্রয়োজন নেই? না কি দু’টিই এক জিনিস, শুধু বোতল আলাদা?

আসলে হেয়ার ক্রিম, সিরাম, বাটার, লিভ-ইন কন্ডিশনার, সবই আলাদা উদ্দেশ্যে তৈরি। একে অন্যের বিকল্প নয় সব সময়ে।

হেয়ার ক্রিম মূলত পুষ্টি আর চুলের নিয়ন্ত্রণের জন্য। চুল যদি ঘন, শুষ্ক, রুক্ষ বা কোঁকড়া হয়, তা হলে মাথা ধোয়ার পর হালকা ভেজা চুলে অল্প হেয়ার ক্রিম মাখলে চুলের আর্দ্রতা বাড়ে। সারা দিন ধরে চুলের গোড়া হাইড্রেটেড এবং সুরক্ষিত থাকে। তাই হাত-মুখের মতো চুলের ক্রিমও ময়েশ্চারাইজ়ারের মতো কাজ করে। এতে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের তেল, শিয়া বাটার আর প্রোটিন থাকে। ফলে চুল ভারী লাগে একটু। কিন্তু বাঁধ মানতে বাধ্য হয় চুল। পাশাপাশি জট পড়ার সমস্যা কমে, কোঁকড়ানো চুল তার গঠন ধরে রাখতে পারে, ব্লো ড্রাই বা স্টাইলিংও সহজ হয়। অনেক সময় হালকা হিট প্রোটেকশনের কাজও করে। তাই বলা হয়, কোঁকড়া চুলে সিরাম মাখার চেয়ে ক্রিম বা কার্ল ক্রিম (এই নামেই বেশি পরিচিত এখন) ব্যবহার করলে বেশি উপকার মেলে। একাধিক নামজাদা সংস্থা ক্রিম বিক্রি করে। অনেক ক্ষেত্রে ট্রিটমেন্ট করা চুলেও ব্যবহৃত হয় ক্রিম।

হেয়ার ক্রিম মূলত পুষ্টি আর চুলের নিয়ন্ত্রণের জন্য।

হেয়ার ক্রিম মূলত পুষ্টি আর চুলের নিয়ন্ত্রণের জন্য। ছবি: সংগৃহীত

অন্য দিকে, হেয়ার সিরাম মূলত চুলের উপরিভাগে কাজ করে। এতে গ্লিসারিন, সিলিকনের মতো উপাদান থাকে, যা চুলের কিউটিকল মসৃণ করে দেয়। ফলাফল? চুলে তাৎক্ষণিক ঔজ্জ্বল্য আসে, জট কম পড়ে। কিন্তু সিরাম সাধারণত গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায় না। সিরামকে সাজের অঙ্গ হিসেবে দেখা যেতে পারে, পরিচর্যার নয়। বাইরে যাওয়ার আগে চুলকে পালিশ করা লুক দিতে সিরামের জুড়ি মেলা ভার। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জলীয় ভারসাম্য। চুলকে আর্দ্র করা আর আর্দ্রতাকে ধরে রাখা, এই দু’টি বিষয় এক নয়। হেয়ার ক্রিম চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম, বিশেষ করে যদি বাতাস শুষ্ক হয়। এ দিকে, সিরাম চুলের বাইরের স্তরকে সুরক্ষা দেয়। তাই চুল মসৃণ দেখায় সাময়িক ভাবে।

এবার প্রশ্ন উঠবে, তা হলে হেয়ার ক্রিমের জনপ্রিয়তা কমেছে কেন? ক্রিম আসলে সব চুলের জন্য নয়। যদি আপনার চুল পাতলা, তৈলাক্ত হয়, তা হলে ভারী হেয়ার ক্রিম লাগালে চুল বসে যেতে পারে। মনে হতে পারে, তেল চুপচুপ করছে মাথা। সেই ক্ষেত্রে হালকা সিরামই কাজে আসে। কিন্তু যদি চুলে রং করা থাকে, বার বার স্ট্রেট বা কার্ল করা হয়, রোদের তাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলে শুধু সিরাম দিয়ে কাজ হবে না। তখন হেয়ার ক্রিমের মতো পুষ্টিদায়ক পণ্যের প্রয়োজন পড়ে।

অনেকেই লিভ-ইন কন্ডিশনারের সঙ্গে চুলের ক্রিমকে গুলিয়ে ফেলেন। চুলকে আর্দ্র, নরম ও জটবিহীন রাখার জন্য এটি ব্যবহার করা হয় শ্যাম্পুর পরে। কিন্তু এর ঘনত্ব ক্রিমের চেয়ে বেশ কম। আর কোঁকড়া চুলে লিভ-ইন কন্ডিশনারের বদলে ক্রিম মেখে লাভ বেশি বলে মনে করেন অনেক রূপচর্চাশিল্পীই। তবে বাজারে সব হেয়ার ক্রিম এক রকমের নয়। কোনওটিতে বেশি তেল, কোনওটিতে প্রোটিন। তাই নিজের চুলের ধরন না জেনে শুধু ট্রেন্ড দেখে কিনলে উপকৃত না-ও হতে পারেন।

হেয়ার ক্রিম অপ্রয়োজনীয় নয়, আবার সবার জন্য বাধ্যতামূলকও নয়। আপনার চুল যদি শুষ্ক, জট পাকানো হয়, তা হলে হেয়ার ক্রিম ব্যবহার করে দেখতে পারেন। সিরাম ও লিভ-ইন কন্ডিশনারের পরিবর্তে বেশি উপকার মিলতে পারে বলে ধারণা অনেকের।

Hair Cream Hair Serum Hair Conditioner
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy