ভারত নিয়ে কি ক্রমশ মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েছে ইতালির ব্র্যান্ড প্রাডা? তা না হলে আন্তর্জাতিক মানের বিলাসদ্রব্য প্রস্তুতকারী এই সংস্থার পণ্যে বার বার ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ দেখা যাচ্ছে কেন? এর আগে তারা ভারতের কোলাপুরি চপ্পলের নকশা নকল করেছিল। সমালোচিতও হতে হয়েছিল সে জন্য। আর এ বার তারা বাজারে আনল একটি সুগন্ধি, যাতে রয়েছে খাঁটি ভারতীয় এলাচ দেওয়া চায়ের সুবাস!
শীতের কোনও অনুষ্ঠানে চায়ের গন্ধ মেখে হাজির হতে কেমন লাগবে, সে প্রশ্ন পরে। আপাতত প্রাডা-র ওই নতুন পারফিউম বা সুগন্ধি দেখে ভারতীয়েরা জানতে চাইছেন, ভবিষ্যতে কি ভারতের বিরিয়ানি, তাজমহল, বলিউড, উৎসব, এমনকি দেবতারাও দেখা দেবেন প্রাডা-র পণ্যে।
প্রাডা-র ওই নতুন সুগন্ধির বর্ণনা দিয়ে লেখা রয়েছে, এর গন্ধে কিছু উষ্ণ ভাব রয়েছে। আছে মশলার সুগন্ধ। এ ছাড়া পারফিউমের যে ‘উডি নোট’ বা সুগন্ধি কাঠের গন্ধ সুগন্ধিপ্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয়, তাও থাকবে এতে।
প্রাডা-র ওয়েবসাইটে ওই সুগন্ধির নাম, দাম এবং ছবিও দেওয়া রয়েছে। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে বোতলবন্দি সুগন্ধির রং ভারতীয়দের পছন্দের দুধ চায়ের মতোই। তফাত শুধু ঘনত্বে। কারণ, পারফিউমটি স্বচ্ছ। নতুন সুগন্ধির নাম ‘ইনফিউশন দে সন্তল চায়ে’। আর দাম? ১৯০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ১৭ হাজার ৮০ টাকা। প্রাডা-র হিসাবে ‘কম’ই বলতে হবে একে। কারণ, এর আগে ভারতের কোলাপুরি চপ্পলের নকলটির দাম তারা ধার্য করেছিল দেড় লক্ষ টাকা!
নতুন বছরেই এই নতুন সুগন্ধি বাজারে এনেছে প্রাডা। আর তা আসার সঙ্গেই সঙ্গেই নানা জনে নানা কথা বলতে শুরু করেছেন। কেউ বলেছেন পক্ষে, কেউ বিপক্ষে। যাঁরা পক্ষে কথা বলেছেন তাঁদের বক্তব্য, ‘সুগন্ধিতে যদি কফির গন্ধ থাকতে পারে, তবে চায়ের গন্ধে আপত্তি কোথায়? বিদেশি কফির থেকে কি ভারতের চা পিছিয়ে নাকি?’
তবে বিপক্ষের পাল্লাও কম ভারী নয়। নেটাগরিকদের একজন লিখেছেন, ‘‘হঠাৎ গায়ে চায়ের গন্ধ মাখতে যাব কেন!’’ আবার কেউ লিখেছেন, ‘‘চা খেতে ভালবাসি বলে কি গায়ে চা মাখতে হবে?’’ বিরিয়ানির জন্য আওয়াজ তুলেছেন অনেকেই। তাঁদের একজন বলেছেন, ‘‘আমি তো অপেক্ষা করে আছি কবে বিরিয়ানি ফ্লেভারের কিছু আনবে প্রাডা।’’ এক চা-প্রেমী আবার লিখেছেন, ‘‘চায়ের গন্ধের জন্য ১৯০ ডলার খরচ করতে যাব কেন? চায়ের দোকানের স্টোভের পাশে কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেই হয়ে যাবে।’’