স্যুট-প্যান্ট-টাই। কানে দুলছে সোনালি-রুপোলি রঙের ঝুমকো দুল। ভারত নয় প্যারিসের মার্জার সরণিতে ওই সাজে ঠাঁটে ঠমকে হাঁটছেন সার সার মডেল। আর তাই নিয়েই শুরু হল বিতর্ক!
ঝুমকো পরলে আওয়াজ তো হবেই। তবে সেই আওয়াজ যে ফ্রান্স থেকে সোজা ভারতে এসে পৌঁছোবে, তা বোধ হয় ভাবতে পারেনি আমেরিকার আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা র্যাল্ফ লরেন।
প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে মডেলদের শীতকালীন পোশাকে সাজিয়ে মার্জার সরণিতে হাজির করেছিল তারা। সেখানে পশ্চিমী জ্যাকেট, কোট, ব্লেজ়ারের সঙ্গে মডেলদের কানে পরিয়েছিল রুপোলি ধাতুর বড় বড় ঝুমকো দুল। যে ঝুমকো ভারতীয় মহিলাদের সাজগোজের অঙ্গ। কানের গয়না। এমনই তার আবেদন যে, ভারতীয় সিনেমার অনেক গানেও ঝুমকোর উল্লেখ হয়েছে। আমেরিকান ফ্যাশন সংস্থা প্যারিসে মডেলদের সেই দুল পরিয়ে লিখে দিল সেগুলি ‘ভিন্টেজ জুয়েলারি’! ফলে যা হওয়ার তা-ই হল। ছবি আর বিবরণী দেখা ইস্তক হই হই করে মাঠে নেমে পড়লেন ভারতের ফ্যাশন সচেতনেরা। প্রশ্ন তুললেন, তবে কি কোলাপুরী চপ্পলের মতো ভারতীয় দুলও চুরি গেল বিদেশের ফ্যাশন ব্র্যান্ডের হাতে?
র্যালফ লরেনের মডেলের কানে ঝুমকো দুল।
এর আগে ইটালির আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘প্রাডা’ কোলাপুরী চপ্পলের নকশা বেমালুম নকল করে পরিয়েছিল নিজেদের মডেলদের। সেখানে ভারতের আদি নকশার নামোল্লেখও করার প্রয়োজন মনে করেনি তারা। সেই বিতর্ক গড়িয়েছিল বহু দূর। এ ক্ষেত্রেও ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় একই। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের ‘মহাকুম্ভ’ প্যারিস ফ্যাশন সপ্তাহে র্যাল্ফ লরেন মডেলদের পরিয়েছে রুপোলি ঝুমকো ও আরও নানা ধরনের ভারতের ঐতিহ্যবাহী নকশার দুল। অথচ সেখানে কোথাও ভারতের নামোল্লেখ নেই।
ফ্যাশন সচেতনেরা বলছেন, যে সমস্ত দুল মডেলদের পরানো হয়েছিল, তা ভারতের মতোই দক্ষিণ এশিয়ার আরও কিছু দেশে পরা হয়। নিদেনপক্ষে তারা দক্ষিণ এশীয় নকশার উল্লেখটুকু করতে পারত। কিন্তু তা না করে শুধুমাত্র ‘ভিন্টেজ’ বা পুরনো কালের নকশা বলে দায় সেরেছে তারা।
স্যুটের সঙ্গে এই ধরনেরই দুল পরেছিলেন র্যাল্ফ লরেনের মডেলরা।
যে ব্র্যান্ড এই কাজটি করেছে, তারা আমেরিকার আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্র্যান্ড। ব্র্যান্ডের মূল পোশাকশিল্পী র্যাল্ফ লরেনের নামেই ব্র্যান্ডের নামকরণ। র্যাল্ফের তৈরি বহু নামী পোশাকের সঙ্গে ভারতীয় যোগসূত্রও রয়েছে।
প্রিয়ঙ্কা চোপড়ার খ্রিস্টান মতে বিয়ের পোশাকের নকশাকার ছিলেন র্যাল্ফ। মেট গালায় প্রিয়ঙ্কা প্রথম হাজির হয়েই যে পোশাকে হইচই ফেলেছিলেন, সেই লাতে কফি রঙের লম্বা ‘ট্রেল’-এর পোশাকটিও তৈরি করেছিলেন র্যাল্ফ নিজেই। এত দিন পর্যন্ত তাঁর ভারত-যোগ নানা দেশেই প্রশংসিত হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক ঝুমকো বিতর্ক কোন দিকে যাবে, তা সময় বলবে।