Advertisement
E-Paper

দাদুর পুরনো ঘড়ি বাড়িতে আছে? আলমারি খুলে খুঁজে বার করুন! কারণ, ওটাই এখন ফ্যাশন

ঠাকুরদার আমলের পরা সেই সব পুরনো ধাঁচের সাজগোজই নতুন করে ফিরছে ফ্যাশনে। আর সেই বিশেষ ধরনের ফ্যাশনের একটি নামও হয়েছে। গ্র্যান্ডপা কোর ফ্যাশন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৩
দাদুরাই কি এ যুগের ফ্যাশন আইকন?

দাদুরাই কি এ যুগের ফ্যাশন আইকন? ছবি: সংগৃহীত।

শার্টের মতো কলার দেওয়া জামা, পাঞ্জাবির সঙ্গে আত্মীয়তা আছে, কিন্তু পাঞ্জাবি নয়। চলতি নাম ‘বাংলা শার্ট’। পরলে তার হাতা কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে রাখতেন উত্তম কুমার থেকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় থেকে সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতো তারকারা। সঙ্গে পরতেন ধবধবে সাদা ধুতি আর কব্জিতে থাকত ছোট্ট গোল চ্যাপ্টা ডায়ালের ঘড়ি। এককালে বাঙালি ফ্যাশনের পুরোভাগে থাকা এই পোশাকও এককালে পুরনো হয়, ‘দাদুদের ফ্যাশন’ হিসাবে চিহ্নিত হতে থাকে তা। কিন্তু এখন আর তা বলা যাবে না। সাবেকী সেই ফ্যাশন আশ্চর্যজনক ভাবে নিজের ‘সেকেলে’ তকমা ঝেড়ে ফেলেছে। হাতা গুটনো বাংলা শার্ট এ যুগের ফ্যাশনের চেনা লব্জে হয়ে উঠেছে পাঠানি কুর্তা উইথ রোলড আপ স্লিভস। যেমনটা ‘ধুরন্ধর’ রণবীর সিংহ পরেছেন। ইঞ্চিপাড়ের সাদা ধুতি হতে পারে ভেস্তি (বিয়ের প্রীতিভোজে যা পরেছিলেন বিজয় দেবরকোন্ডা)। আর কালো চামড়ার বেল্টে ছোট ডায়ালের ঘড়ি এখন রেট্রো ঘড়ি হিসাবে জনপ্রিয়। দাদুদের পরা সেই সব পুরনো ধাঁচের সাজগোজই নতুন করে ফিরছে ফ্যাশনে। আর সেই বিশেষ ধরনের ফ্যাশনের একটি নামও দেওয়া হয়েছে। ‘গ্র্যান্ডপা কোর ফ্যাশন’।

রণবীর সিংহের কলার দেওয়া হাতা গোটানো পাঞ্জাবি।

রণবীর সিংহের কলার দেওয়া হাতা গোটানো পাঞ্জাবি। ছবি: সংগৃহীত।

কোর মানে কোনও রকম কারিকুরিহীন, জল না মেশানো, খাঁটি। যেমনটা দাদুরা পরতেন, বিলকুল তেমনটাই। আর তেমন পোশাকে মজেছে এ কালের সাম্প্রতিকতম অ্যাডাল্ট বা প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্ম জেন জ়ি। নতুন ধরনের স্টাইলের জন্য তারা ধার চাইছে দুই প্রজন্ম আগের মানুষের কাছ থেকে। খুলে বসছে দাদুর পুরনো কাঠের আলমারি, যা এত দিন বন্ধ হয়ে অবহেলায় পড়েছিল।

এ ফ্যাশনের শুরুটা মূলত বিদেশে। সেখানে যদিও পঞ্চাশ কিংবা ষাটের দশকে জন্মানো মানুষ যৌবনে এবং প্রৌঢ়ত্বে পরতেন গ্যালিস দেওয়া প্যান্ট, বেরে ক্যাপ, বেসবল ক্যাপ, ঢিলেঢালা হাফ হাতা চেক শার্ট, লিনেন কিংবা সুতির শার্টে পিনস্ট্রাইপ, প্লিট করা ব্যাগি প্যান্ট, কর্ডুরয় জ্যাকেট-প্যান্ট ইত্যাদি। অ্যাকসেসরিজ় ছিল ছোট চ্যাপ্টা মিনিমালিস্টিক ডায়ালের চওড়া চামড়ার বেল্ট কিংবা ধাতব ব্যান্ডের ঘড়ি। মোটা ভিনাইল ফ্রেমের চশমা— হয় বড় চৌকো কাচ, নয়তো ছোট্ট গোল, নাকের ডগায় আটকে থাকা। এ ছাড়া লম্বা বেল্টের চামড়ার ব্যাগ বা ঝোলা, পায়ে চামড়ার লোফার্স বা স্যান্ডাল।

বিজয় দেবরকোন্ডার রেট্রো ঘড়ি।

বিজয় দেবরকোন্ডার রেট্রো ঘড়ি। ছবি: সংগৃহীত।

মুশকিল হল, এর সব কিছু বাঙালি দাদুদের সেই সময়ের ফ্যাশনের সঙ্গে মেলে না। তবে সব কিছুই যে মেলে না, তা নয়। তাই চাইলে বাঙালি নাতিরা স্টাইলের জন্য দাদুর আলমারি খুলে বসতেই পারেন। কী কী বার করতে পারবেন সেখান থেকে?

মোটা ফ্রেমের চশমা: দাদুর মোটা কালো বা খয়েরি ফ্রেমের চশমাই এ যুগে ‘হিপস্টার’ বা ‘ইন্টেলেকচুয়াল’ ফ্যাশনের সঙ্গী। এই ফ্রেমগুলোই এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি ‘ইন’। এই ধরনের ভারী ফ্রেম মুখের আদলটাই বদলে দেয়। নিয়ে আসে গাম্ভীর্য।

মোটা ফ্রেমের ফ্যাশনে মজেছেন ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামও।

মোটা ফ্রেমের ফ্যাশনে মজেছেন ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামও। ছবি: সংগৃহীত।

ঘড়ি: সেই সময়ের ছোট গোল চ্যাপ্টা ডায়ালের অ্যানালগ ঘড়ি। স্টিল ব্যান্ড হোক বা চওড়া চামড়ার বেল্ট— কব্জিতে বাঁধা ছোট্ট ডায়াল এখনকার ‘মিনিমালিস্টিক’ ফ্যাশনের জন্য আদর্শ, স্মার্টওয়াচের ভিড়ে ওই পুরনো কাঁটাওয়ালা ঘড়িই এখন আভিজাত্যের কথা বলে। সম্প্রতি দক্ষিণী নায়ক বিজয়ও বিয়ের সাজে অমন ঘড়ি পরেছিলেন।

ছোট ডায়ালের সাধারণ কাঁটা দেওয়া বাহুল্য বর্জিত অ্যানালগ ঘড়ির কদর বাড়ছে ক্রমেই।

ছোট ডায়ালের সাধারণ কাঁটা দেওয়া বাহুল্য বর্জিত অ্যানালগ ঘড়ির কদর বাড়ছে ক্রমেই। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলা শার্ট : দাদুদের সেই বাংলা শার্টকেও নিজের মতো করে স্টাইল করতে পারেন। ধুতির সঙ্গে কিংবা ঈষৎ ঢোলা জিনসের সঙ্গেও পরা যেতে পারে। আবার পটীয়ালা প্যান্টের সঙ্গেও স্টাইল করা যেতে পারে।

ডান দিকে, বাংলা শার্ট আর ধুতি পরে উত্তমকুমার। বাঁয়ে হুবহু একই ধরনের শার্ট পরেছেন বরুণ ধবন। পটীয়ালা প্যান্টের সঙ্গে।

ডান দিকে, বাংলা শার্ট আর ধুতি পরে উত্তমকুমার। বাঁয়ে হুবহু একই ধরনের শার্ট পরেছেন বরুণ ধবন। পটীয়ালা প্যান্টের সঙ্গে। ছবি: সংগৃহীত।

ধুতি: ধবধবে সাদা সরু পাড়ের সুতির ধুতি। বিয়েবাড়ি হোক বা উৎসব বা অনুষ্ঠানে ধুতি পরে ইচ্ছে মতো সাজা যায়। ধুতি ফ্যাশনে ফিরেছে অনেক দিনই। এখন বাঙালিরা দক্ষিণী কেতায় ধুতিকে ‘ভেস্তি’র মতো করেও পরছেন। তাতে ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে নজরে পড়া যায়।

ছবিতে ধুতিকে পরা হয়েছে ভেস্তির মতো করে। অর্থাৎ কাছা ঘোরানো হয়নি। স্রেফ কুঁচি সামনে গুঁজে রাখা হয়েছে।

ছবিতে ধুতিকে পরা হয়েছে ভেস্তির মতো করে। অর্থাৎ কাছা ঘোরানো হয়নি। স্রেফ কুঁচি সামনে গুঁজে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

সুতির হাওয়াই শার্ট বা ফতুয়া: হালকা রঙের চেক বা ছোট প্রিন্টের ঢিলেঢালা সুতির হাওয়াই শার্ট অথবা সুতির চার পকেট দেওয়া ফতুয়া। বিকেলে দাদুদের আড্ডা দেওয়ার পোশাক। এখন ওই ধরনের ‘রিল্যাক্সড ফিট’ শার্টই ক্যাজু়য়াল ফ্যাশনে সবচেয়ে বেশি পছন্দের।

ফতুয়াকে সামান্য নকশা করে বাজারে আনছে বিভিন্ন বুটিক।

ফতুয়াকে সামান্য নকশা করে বাজারে আনছে বিভিন্ন বুটিক। ছবি: কে ক্ষেত্র।

প্লিট দেওয়া প্যান্ট: কোমরের কাছে কুঁচি দেওয়া বা প্লিটেড হাই-ওয়েস্ট ট্রাউজার্স। এখনকার টাইট ফিটিং প্যান্টের একঘেয়েমি কাটাতে এই ব্যাগি প্যান্ট আবার ফিরছে ফ্যাশনে। এ বছর প্যারিস ফ্যাশন উইকে বহু নামী ব্র্যান্ডই মডেলদের সাজিয়েছেন ওই ধরনের ঢিলেঢালা উঁচু কোমরের প্লিটেড প্যান্টে। এর সঙ্গে ইন করা শার্ট বা ফিটেড পোলোনেক টি-শার্ট পরলে ষাটের দশকের রোম্যান্টিক নায়কদের মতো দেখাবে।

ষাটের দশকের প্লিট দেওয়া প্যান্টের ফ্যাশন ফিরেছে আবার।

ষাটের দশকের প্লিট দেওয়া প্যান্টের ফ্যাশন ফিরেছে আবার। ছবি: সংগৃহীত।

লম্বা ঝুলের চামড়ার ব্যাগ: কাঁধে ঝোলানোর চওড়া চামড়ার বেল্ট। আর তার সঙ্গে জুড়ে থাকা চ্যাপ্টা আকৃতির বড় চামড়ার ব্যাগ অথবা ক্যানভাসের ঝোলা। টোট ব্যাগ যখন পুরুষের ফ্যাশনে হইচই ফেলেছে, তখন কাঁধে এমন একটা ব্যাগ নিয়ে বেরোলে আপনার ভিন্টেজ লুকের তারিফ না করে পারবেন না বন্ধুরা।

তালতলার চটি নয় তবে একই আদলের গোড়ালি খোলা দাদুদের মতো জুতো হল মিউল।

তালতলার চটি নয় তবে একই আদলের গোড়ালি খোলা দাদুদের মতো জুতো হল মিউল। ছবি: সংগৃহীত।

চামড়ার চটি বা লোফার: জুতো সচরাচর থাকে না। তবু দাদুদের মতো ফ্যাশন যদি করতেই হয় তবে পুরনো দিনের মতো চামড়ার পা গলানো চটি, যেমন এক কালে তালতলার চটি বা বিদ্যাসাগরী চটি বা হত, তেমন এক জোড়া রাখতে পারেন সংগ্রহে। ঢিলে প্যান্ট আর সুতির শার্টের সঙ্গে ক্যাজু়য়াল ফ্যাশন হিসাবে এই চটি দারুন ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করবে। ইদানীং সরু ফিতে দেওয়া কোলাপুরি চপ্পলও বিচ ওয়্যার হিসাবে জনপ্রিয় হয়েছে। তাই তেমন চটিও রাখতে পারেন সংগ্রহে।

আসলে ফ্যাশনের দুনিয়াটাও পৃথিবীর মতোই গোল। সেখানে ফিরে ফিরে আসতে থাকে পুরনো স্টাইল, পুরনো পছন্দ। তবে ‘গ্র্যান্ডপা কোর’ শুধু পুরনো ফ্যাশনের ফিরে আসা নয়। বরং নানা ব্যস্ততায় দিকভ্রান্ত এক প্রজন্মের থমকে দাঁড়িয়ে প্রাচীনের কাছে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টাও।

Grandpa Core fashion Grandpa fashion gen z fashion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy