Advertisement
E-Paper

যন্ত্রণায় চোখ দিয়ে জল পড়বে না, র‍্যাশ বেরোবে না! ওয়াক্সিংয়ে এসেছে নতুন প্রযুক্তি, নয়া ট্রেন্ড

নানাবিধ ওয়াক্সিং-এর জন্ম হয়েছে রূপচর্চা জগতে। নিজের শরীরের জন্য নিজের পছন্দ মতো পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। সেই কারণেই ওয়াক্সিংয়ের জগতেও এসেছে একের পর এক নতুন প্রযুক্তি, নতুন উপাদান, নতুন ট্রেন্ড।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৮:৫৭
ওয়াক্সিংয়ের নানা রূপ।

ওয়াক্সিংয়ের নানা রূপ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শরীরভেদে বা ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী বদলে যাচ্ছে ওয়াক্সিংয়ের চাহিদা। কারও দাবি কেবল রোম অপসারণ, কেউ বা ত্বকচর্চাকেও এর সঙ্গে জুড়ে নিতে চাইছেন, কেউ আবার পণ্যের উপাদান দেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর বাজার সেই চাহিদা বুঝেই বদলে ফেলছে ওয়াক্সিংয়ের পুরনো সংজ্ঞাও। চিরাচরিত ওয়াক্সিংয়ের পাশাপাশি রকমারি বিকল্প তৈরি হয়েছে। রূপসচেতনেরা নিজেদের ত্বক, চাহিদা, প্রয়োজন, পছন্দ বুঝে বেছে নিচ্ছেন সেখান থেকেই। ওয়াক্সিংয়ের জগতে নতুন একাধিক ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। সেগুলিই দেখে নেওয়া যাক।

এক সময়ে গরম স্ট্রিপ ওয়াক্সই ছিল ভরসা। মোম গলিয়ে দেহের নানা অংশে মেখে কাপড়ের টুকরো সেঁটে একটানে লোম তুলে ফেলা হত। এখনও হয়। যন্ত্রণার চোটে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লেও সহ্য করতে হত। রূপচর্চা বলে কথা। কিন্তু ‘কষ্ট ছাড়া কেষ্ট মেলে না’র ধারণা এখন প্রাচীন হয়ে গিয়েছে। এখন তার জায়গায় এসেছে হার্ড ওয়াক্স, সুগারিং, চকোলেট ওয়াক্স, ফিল্ম ওয়াক্স, হাইপোঅ্যালার্জেনিক ওয়াক্স, এমনকি ভিগান ওয়াক্সও। এগুলি তৈরি হয়েছে একটিই কারণে, কম ব্যথা, কম র‍্যাশ, আর বেশি কার্যকারিতার উদ্দেশ্যে।

রোমহীন ত্বক পেতে এখন যন্ত্রণা সহ্য না করলেও চলে। আর তাই তো নানাবিধ ওয়াক্সিং-এর জন্ম হয়েছে রূপচর্চা জগতে। নতুন প্রজন্মের কাছে ওয়াক্সিং আর কেবল মাত্র রোমহীন ত্বক পাওয়ার পন্থা নয়, ত্বকচর্চা, গ্রুমিং, এমনকি আরামেরও অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই বদলটা এখন লিঙ্গনির্বিশেষে। পুরুষ, নারী, নন-বাইনারি, প্রত্যেকেই নিজের শরীরের জন্য নিজের পছন্দ মতো পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। সেই কারণেই ওয়াক্সিংয়ের জগতেও এসেছে একের পর এক নতুন প্রযুক্তি, নতুন উপাদান, নতুন ট্রেন্ড।

হার্ড ওয়াক্সিং

চিরাচরিত ওয়াক্সিং ওরফে স্ট্রিপ ওয়াক্সিং, সফ্‌ট ওয়াক্সিংয়ের পর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে হার্ড ওয়াক্স। এটিও গরম অবস্থায় পুরু করে ত্বকে লাগানো হয়, কিন্তু রোম তুলতে কাপড়ের স্ট্রিপের প্রয়োজন পড়ে না। ঠান্ডা হয়ে গেলে ওয়াক্স নিজেই শক্ত হয়ে যায়, তার পর সেটিকে টেনে তোলা হয়। এর সুবিধা হল, এটি মূলত রোমের সঙ্গে আটকে থাকে, ত্বকের সংস্পর্শে আসে না। ফলে ত্বকের উপর অত্যাচার কম হয়। বাহুমূল, নাকের ছিদ্র, বিকিনি লাইন, মুখমণ্ডল বা গোপনাঙ্গে ব্যথা ও জ্বালা তুলনায় কম হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হার্ড ওয়াক্সেও নতুনত্ব এসেছে। উচ্চ তাপমাত্রার ব্যবহার না করলেও চলে। ফলে ত্বক পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও কম।

সুগার ওয়াক্সিং

কেবল নামে নয়, কাজেও চিনির ব্যবহার রয়েছে। এই ওয়াক্সিংয়ে মোট ৩টি উপাদানের দরকার, চিনি, লেবু ও জল। এই তিন উপকরণ ভাল করে ফুটিয়ে এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। সেটি ত্বকে মাখা হয়। এ ক্ষেত্রে রোমের বৃদ্ধি যে দিকে, তার বিপরীতে টেনে টেনে তোলা হয়। ফলে যে রোমগুলি উপরের দিকে না বেড়ে পিছনের দিকে বেঁকে যায় বা ত্বকের ভিতরে আড়াআড়ি ভাবে ঢুকে যায়, সেগুলি উৎখাত করা সহজ হয়ে ওঠে। যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁরা এই পদ্ধতির প্রয়োগ বেশি করেন।

ফিল্ম ওয়াক্সিং

এই মুহূর্তে ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে ফিল্ম ওয়াক্স। এটিকে হার্ড ওয়াক্সেরই উন্নত সংস্করণ বলা চলে। ত্বকে খুব পাতলা করে লাগানো যায়, কিন্তু টানার সময়ে ভেঙে যায় না বলে হার্ড ওয়াক্সের চেয়ে ফিল্মে মন মজেছে অনেকের। বিশেষ করে মুখমণ্ডল, ভ্রু বা ছোট জায়গায় এর ব্যবহার বাড়ছে। অনেক সালোঁ এখন পলিমার দিয়ে তৈরি ফিল্ম ওয়াক্স ব্যবহার করছে, যা দিয়ে এক বারেই ত্বক বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে ব্যথাও কম হয়।

চকোলেট ওয়াক্সিং

বিলাসবহুল ওয়াক্সিংগুলির অন্যতম এই চকোলেট ওয়াক্সিং। কোকো, বাদাম তেল, গ্লিসারিনের মতো উপাদান দিয়ে তৈরি বলে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ়ও করে। যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের জন্য উপযুক্ত। এটিও এক ধরনের হার্ড ওয়াক্সই বটে, কিন্তু এর তাপমাত্রা অতিরিক্ত থাকে না বলে ত্বক কম অত্যাচারের শিকার হয়।

ফ্রুট ওয়াক্সিং বা ফল দিয়ে ওয়াক্সিং

ফল দিয়ে বানানো ওয়াক্সিংয়ের চাহিদা বেড়েছে শহরে শহরে। পেঁপে, বেরি বা অ্যালো ভেরার নির্যাস দিয়ে তৈরি বলে যে কোনও ত্বকে প্রয়োগ করা যায়। এগুলি ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর। ফলে কেবল রোম তোলার জন্য নয়, ত্বকচর্চার জন্যও ফ্রুট ওয়াক্সিংয়ের কদর বেড়েছে। তবে অন্যান্য ওয়াক্সিংয়ের চেয়ে বেশি দামি এই পদ্ধতি।

কোল্ড ওয়াক্সিং

রোম তোলার বা ওয়াক্সিংয়ের এক মাত্র বিকল্প, যেখানে উচ্চ তাপমাত্রার প্রয়োগ কোনও ধাপেই হয় না। আগে থেকে তৈরি মোমের প্রলেপযুক্ত স্ট্রিপ বা কাপড় সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা হয়। সেটি টেনে টেনেই রোম তোলা হয় ত্বক থেকে। তবে কর্কশ রোমের জন্য এই পন্থা আদপে কার্যকরী নয়। সফরকালে এমন পণ্য ব্যাগে নিয়ে ঘোরা যায়। সহজে যত্র-তত্র ব্যবহার করা যায় রোম তোলার জন্য।

ভিগান ওয়াক্সিং

শরীরের অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য অনেকেই ভিগান ওয়াক্সিংকেই বেছে নিচ্ছেন। বিশ্ব জুড়ে এখন ভিগান হওয়ার ঝোঁক বেড়েছে। তাই খাদ্যাভ্যাস থেকে পণ্য ব্যবহার, সব নিয়েই বিশেষ ভাবে সচেতন হচ্ছেন কেউ কেউ। যে খাবারে, যে পণ্যে কোনও রকম প্রাণিজ উপাদান নেই, সেগুলিই তাঁরা ব্যবহার করেন। তাই দেহের রোম তোলার প্রক্রিয়াতেও ভিগান পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। আর গ্ল্যামার জগতও এই অবকাশে ভিগান ওয়াক্সিং আবিষ্কার করে ফেলেছে। প্রচলিত ওয়াক্সে সাধারণত মৌমাছির মোম (বিজ়ওয়াক্স) বা ল্যানোলিন ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ভিগান ওয়াক্স সম্পূর্ণ উদ্ভিজ্জ উপাদান দিয়ে তৈরি।

এ সব ছাড়াও এমন অনেক ওয়াক্স বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যা হাইপোঅ্যালার্জেনিক, অর্থাৎ ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে না। যাঁদের ত্বক সহজেই লালচে হয়ে যায় বা র‍্যাশ ওঠে, তাঁদের জন্য এই ধরনের ওয়াক্সকেই নিরাপদ বলা হচ্ছে।

Waxing Wax
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy