ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে ভিগান খাদ্যাভ্যাস। স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ— উভয়ের জন্যই এই খাদ্যাভ্যাস ভাল, এমন দাবি করা হচ্ছে নানা মহলেই। প্রাণীদের থেকে পাওয়া সব রকমের উপাদান পরিত্যাগ করা হয় এই খাদ্যাভ্যাসে। মাংস তো বটেই, ডিম বা দুগ্ধজাত কোনও খাবার এই খাদ্যাভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত নয়। তারকামহলের পাশাপাশি এই ডায়েট এখন সাধারণের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়। ভিগান ডায়েটের কথা সবাই জানলেও সম্প্রতি ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সৌজন্যে সকলের নজর পড়েছে ভিগান ট্যাটু বিষয়টির উপর।
আইপিএল ২০২৬-এর আগেই শরীরে নবতম ট্যাটুটি করিয়ে ফেলেছেন বিরাট। আর সেই ট্যাটুটি তৈরির সময় ‘ভিগান ইঙ্ক’ ব্যবহার করেছেন। এ বার প্রশ্ন হল, সাধারণ ট্যাটুর সঙ্গে ভিগান ট্যাটুর পার্থক্য কোথায়?
ডায়েটের পর বিরাটের ট্যাটুও এখন ভিগান! ছবি: সংগৃহীত।
আগে ট্যাটুর কালিতে বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর শরীর থেকে প্রাপ্ত গ্লিসারিন, জিলেটিন কিংবা হাড়ের গুঁড়ো ব্যবহার করা হত। মূলত কালির রং গাঢ় করার জন্যই এইগুলির ব্যবহার করা হত। তবে এখন ভারতে ব্যবহৃত বেশির ভাগ নামী সংস্থার কালি আমদানি করা হয় আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে। আর সে সব দেশে ট্যাটুর কালিতে প্রাণিজ উপাদান ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বদলে উদ্ভিজ্জ বা সিন্থেটিক উপাদান দিয়ে তৈরি ট্যাটুর কালি তৈরি করা হয়। সেই কারণেই এমন কালি দিয়ে তৈরি ট্যাটুকে ভিগান ট্যাটু আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ভারতে এখন ভিগান ট্যাটু স্টুডিয়োর রমরমাও বাড়ছে। তবে কেবল ভিগান কালি ব্যবহার করলেই সেটি ভিগান ট্যাটু স্টুডিয়ো হয়ে যায় না। যে সব স্টুডিয়ো নিজেদের ভেগান-বান্ধব হিসেবে পরিচয় দেয়, তারা আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে আসবাবপত্র, গ্লাভস এবং আনুষঙ্গিক সামগ্রীও প্রাণিজ উপাদানমুক্ত রাখার চেষ্টা করে। ট্যাটু করার আগে ব্যবহৃত রেজ়ার (যাতে ল্যানোলিন থাকতে পারে), ট্রেসিং শিট, সাবান এবং ট্যাটু করার পরের যত্নে ব্যবহৃত ক্রিম বা আফটার-কেয়ার প্রোডাক্টেও কোনও প্রাণিজ ফ্যাট থাকা চলবে না।
দাম কেমন?
এই বিষয়টি এখন ভারতে নতুন নয়। প্রথমের দিকে বিদেশ থেকে আনা হত বলে ভিগান ট্যাটুর খরচ বেশি পড়লেও এখন সাধারণ ট্যাটুর সঙ্গে এর দামের তফাত খুব বেশি নয়।