ভ্যাপসা গরমে আপনি সারা ক্ষণ রুমাল দিয়ে ঘাম মুছতে ব্যস্ত? ও দিকে মুখে ঘাম তৈরির ট্রেন্ড চলছে যে! ঘামে মেকআপ নষ্ট হওয়ার ধারণাকে নস্যাৎ করে চলে এল ঘর্মাক্ত মেকআপের সাজ। মেকআপের উপর থেকে ঘাম বা তৈলাক্ত ভাব দূর করার জন্য যে ব্লটিং পেপার বা পাউডার ভরে রেখেছেন ব্যাগে, এখন আর তা কাজে লাগবে না। ট্রেন্ড বলছে, ওই ঘামই হবে মেকআপের মুখ্য চরিত্র। অর্থাৎ খলনায়কই এ বার হয়ে উঠছে নায়ক।
এক সময়ে গরমে মুখে ঘাম দেখা দিলেই সাজ নিয়ে অস্বস্তি বাড়ত অধিকাংশের। মেকআপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়, তেলচিটে ভাব বা চকচকে মুখ— সবই যেন এড়িয়ে চলার বিষয় ছিল। কিন্তু সেই চিত্রটাই বদলেছে সম্প্রতি। সমাজমাধ্যমে সাজগোজের নতুন প্রবণতা হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে ঘর্মাক্ত সাজ, যেখানে মুখ দেখে মনে হবে হালকা ঘামে ভেজা। চকচকে, সিক্ত, উজ্জ্বল ত্বকই এখন অনেকের কাছে গরমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় রূপ।
ঘেমেনেয়ে একশা হলে তবেই না সাজ সম্পূর্ণ হল! ছবি: সংগৃহীত
এই প্রবণতার মূল লক্ষ্য হল ত্বককে অত্যন্ত স্বাভাবিক, সতেজ ও আর্দ্র দেখানো। শিশিরে ভেজা ঔজ্জ্বল্যকেই গুরুত্ব দিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন মেকআপ। তবে তার থেকেও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে এই সাজ। শিশির নয়, ঘামে ভেজা ত্বকের ছাপ চাই সাজে। এই নতুন প্রবণতা আসলে নিখুঁত, ম্যাট ফিনিশ লুকের ধারণা থেকে সরে এসে আরও স্বাভাবিক ও জীবন্ত ত্বককে উদ্যাপন করার চেষ্টা।
এই ধরনের সাজে সাধারণত এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, যাতে মুখে স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও আলো ঝলমলে ভাব ফুটে ওঠে। ক্রিম ব্লাশ, হাইলাইটার, গ্লো সিরাম, হাইড্রেটিং প্রাইমার, টিন্টেড ময়েশ্চারাইজ়ার ইত্যাদির ব্যবহার বেড়েছে। হালকা ময়েশ্চারাইজ়ারের উপর তরল হাইলাইটার ব্যবহার করছেন কেউ কেউ। কেউ আবার মুখে ফেস মিস্ট স্প্রে করে সিক্ত ভাব আনছেন। ভারী পাউডারের বদলে ক্রিমভিত্তিক প্রসাধনী বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকেই এমন ভাবে সাজছেন, যাতে মনে হয়, সদ্য হাঁটাহাঁটি করে এসেছেন বা শারীরচর্চা করে এসেছেন।
কিন্তু এই মেকআপ সকলের জন্য উপযুক্ত নয়। চর্মরোগ চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের ত্বক অত্যন্ত তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভারী পণ্য ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়তে পারে। কারণ, এতে রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে ব্রণ বা ফুস্কুড়ি হতে পারে। গরমের সময়ে যত হালকা সাজবেন, ততই ভাল। নয়তো, ঘাম, ধুলো ও ভারী প্রসাধনী একসঙ্গে মিলেমিশে ত্বকে সমস্যা তৈরি করতে পারে।