Advertisement
E-Paper

শুধু পেটে নয়, চুলেও সয়! গরমের জনপ্রিয় ঠান্ডা পানীয় মাথায় মাখলে কেশরাশি হবে রেশমের মতো ফুরফুরে

ল্যাক্টিক অ্যাসিড, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রোবায়োটিকে ভরপুর পানীয় দিয়ে কেশচর্চা করে দেখুন এই গরমে। একাধিক উপকার পাবেন। কী ভাবে প্রয়োগ করবেন জেনে নিন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ১৬:৩৮
চুলের যত্নে স্বাস্থ্যকর পানীয়।

চুলের যত্নে স্বাস্থ্যকর পানীয়। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

প্রবল তাপপ্রবাহের মাঝে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় মানেই আরাম! তার উপর, সেই পানীয় যদি হয় স্বাস্থ্যকর? তা হলে তো সোনায় সোহাগা! ছাস ঠিক তেমনই এক প্রকার পানীয়। দই দিয়ে বানানো এই ঠান্ডা পানীয় কেবল যে অন্ত্রের জন্য ভাল, তা নয়, কেশস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। এখন হয়তো অনেকেই সেই টোটকার কথা ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু এক সময়ে ঠাকুরমা-দিদিমাদের রূপচর্চার অঙ্গ ছিল ছাস। এখন আবার সেই পুরনো দেশি উপায়ই ফিরছে নতুন করে।

ছাসের উপকারিতা।

ছাসের উপকারিতা। ছবি: সংগৃহীত

ছাসে রয়েছে ল্যাক্টিক অ্যাসিড, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রোবায়োটিক। এই উপাদানগুলিই মাথার ত্বক এবং চুলের জন্য পুষ্টির জোগান দিতে পারে। ফলে সেই উপাদান দিয়েই রূপচর্চা করতে পারেন স্বল্প খরচায়। কী কী উপকার পাবেন এই টোটকায়?

প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর

ছাসে থাকা ল্যাক্টিক অ্যাসিড এক ধরনের মৃদু আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড (এএইচএ), যা মাথার ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ, অতিরিক্ত তেল বা প্রসাধনীর অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। খুব বেশি ঘর্ষণ ছাড়াই মাথার ত্বক পরিষ্কার করতে পারে, তাই বাজারজাত স্ক্রাবারের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ এটি। চুলের ফলিকলগুলির মুখ থেকে জমাট বাঁধা ময়লা দূর করতে পারে বলে সেগুলি শ্বাস নিতে পারে প্রাণ ভরে। এ ভাবেই মাথার ত্বককে পুষ্ট করে এবং স্বাস্থ্য ফেরায় ছাস।

খুশকি কমানোর জন্য কার্যকরী

পেশাদারদের মতে, মাথার ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হলে খুশকি ও চুলকানির সমস্যা বাড়তে পারে। ছাসের প্রোবায়োটিক ও ল্যাক্টিক অ্যাসিড সেই ভারসাম্য কিছুটা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে অস্বস্তি কমতে পারে এই টোটকার প্রয়োগে। মাথার ত্বকের প্রদাহ কমানোর জন্য ছাসের জুড়ি মেলা ভার।

এই পানীয় চুলে কী ভাবে ব্যবহার করবেন?

এই পানীয় চুলে কী ভাবে ব্যবহার করবেন? ছবি: সংগৃহীত

প্রাকৃতিক কন্ডিশনার

হেয়ার স্পা হোক বা নানা ধরনের ট্রিটমেন্ট, চুল কোমল করে তোলার জন্য অনেকে নানা রকম রাসায়নিক ব্যবহার করেন। তার ফলে অনেক সময়েই চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে প্রাকৃতিক কন্ডিশনার অর্থাৎ ছাস। চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে না নিয়ে কেশরাশিকে কোমল, মসৃণ করে তুলতে পারে। ছাসে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাট ও দুধের প্রোটিন চুলকে নরম করতে সাহায্য করতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত চুলের উপর একটি আবরণ তৈরি করে জট পড়ার সমস্যাও রোধ করতে পারে।

চুলের গোড়ায় পুষ্টি

ক্যালশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি ১২ ইত্যাদি নানাবিধ পুষ্টিগুণে ভরপুর ছাস। মাথায় ছাস দিয়ে মাসাজ করলে চুলের গোড়া পুষ্টি হয়। এর ফলে চুলে ভাঙন ধরার সমস্যাও কমে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময়ে চুল পড়ার সমস্যা বাড়লে অনেকে এই ধরনের দেশি উপায়ের দিকে ঝুঁকছেন।

কী ভাবে ব্যবহার করবেন এই টোটকা?

পেশাদারদের মতে, সাধারণ নুনছাড়া ছাস ঘরের তাপমাত্রায় এনে সিক্ত চুলে লাগাতে হবে। মাথায় সিঁথি কেটে কেটে ছাস ঢেলে দিন অল্প করে, তার পর আলতো হাতে মালিশ করে ১৫-৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। কেউ কেউ এর সঙ্গে কারিপাতা বা সারারাত জলে ভেজানো মেথিও মেশাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, মাথা ধোয়ার সময়ে ভুলেও অতিরিক্ত গরম জল ব্যবহার করবেন না। গরম জল দিয়ে চুল ধুলে দুধের প্রোটিন মাথায় জমে গন্ধ হতে পারে। তাই স্বাভাবিক তাপমাত্রার জলই ব্যবহার করা ভাল। শেষে গন্ধ দূর করার জন্য মৃদু শ্যাম্পুও ব্যবহার করতে পারেন।

Buttermilk Hair Care Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy