ওজন কমাতে গিয়ে চুল পড়া খুব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে মাথা থেকে মুঠো মুঠো চুল উঠতে শুরু করলে তা দুশ্চিন্তারও বিষয়। এমতাবস্থায় যথাযথ কারণটি জানা থাকলে দুশ্চিন্তা যেমন কমবে, তেমনই প্রতিকারের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হবে।
শরীরের ওজন ঝরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পড়ার এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টেলোজেন এফলুভিয়াম বলা হয়। হঠাৎ করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলে, শরীর যখন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, তখন সে চুল বা নখের মতো ‘অপ্রয়োজনীয়’ অংশের পুষ্টি কমিয়ে হৃৎপিণ্ড বা মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। সেখান থেকেই সমস্যার শুরু।
প্রধান কারণ কী কী?
প্রোটিনের অভাব: চুলের মূল উপাদান হলো কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। ওজন কমানোর ডায়েটে যদি মাছ, মাংস, ডিম বা ডাল পর্যাপ্ত না থাকে, তবে চুল দ্রুত পাতলা হতে শুরু করে।
ক্যালরির ঘাটতি: হঠাৎ করে খুব কম ক্যালরি খাওয়া শুরু করলে শরীর শকের মধ্যে চলে যায়। শক্তির অভাবে চুলের ফলিকলগুলো বিশ্রামের পর্যায়ে চলে যায় এবং চুল পড়া বেড়ে যায়।
আয়রন ও বায়োটিনের অভাব: ডায়েটে আয়রন বা বায়োটিনের অভাব থাকলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে, যা সরাসরি চুল পড়ার জন্য দায়ী।
হঠাৎ ওজন হ্রাস: খুব দ্রুত ওজন কমলে (মাসে ৫-৬ কেজির বেশি) শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার প্রভাব চুলে পড়ে।
মানসিক ও শারীরিক চাপ: কঠোর ডায়েট অনেক সময় শরীরে কর্টিসল বাড়িয়ে দেয়, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
সমাধান হিসেবে যা করতে পারেন
১. প্রোটিন খান: ডায়েটে পর্যাপ্ত ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংস বা পনির রাখুন।
২. মাল্টিভিটামিন: চিকিৎসকের পরামর্শে বায়োটিন, জিংক বা আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন।
৩. ধীরগতিতে ওজন কমান: মাসে ২-৩ কেজি কমানোর লক্ষ্য রাখা শরীরের জন্য নিরাপদ।
৪. জল পান: শরীর হাইড্রেটেড থাকলে চুলের গোড়া মজবুত থাকে।