×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ জুন ২০২১ ই-পেপার

শিশুর পাতে প্রায়ই নুডলস? অজান্তে কী ক্ষতি করছেন জানেন?

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ২৯ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:২৭
খিদে পেলে নুডলস? সচেতন হোন এখনই। ছবি: শাটারস্টক।

খিদে পেলে নুডলস? সচেতন হোন এখনই। ছবি: শাটারস্টক।

ঘর সামলে, বাইরে লড়ে নাকের জলে চোখের জলে হয়ে বাড়ি ফেরা। তারপরে বাচ্চার হাজার বায়না শোনা রোজ সম্ভব নয়। শটকার্টেই রাখতে হয় শ্যাম-কূল দুই। চটপট নুডলস বানিয়ে দেন অনেকে রাতের খাবার হিসাবে। বাচ্চা তো এমন ডিনার পেয়ে মহাখুশি। ওয়ার্ল্ড ইনস্ট্যান্ট নুডলস রিপোর্ট বলছে , প্রতি বছর সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি ইউনিট ইনস্ট্যান্ট নুডল বিক্রি হয়। সহজেই বোঝা যায় নাগরিক জীবনে ইনস্ট্যান্ট নুডল কী বিপুল ভাবে প্রবেশ করেছে। কিন্তু রোজ রোজ ডিনারে নুডলস বাচ্চার ক্ষতি করছে না তো ? নিজের অজান্তই সন্তানকে বিপদের মুখে ফেলছেন না তো?

বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞই কিন্তু ইনস্ট্যান্ট নুডলসের বিষয়ে কড়া ভাষায় ‘না’ বলছেন। তাঁদের সহজ যুক্তি, ইনস্ট্যান্ট নুডল আর পাঁচটা প্যাকেজড খাবারের মতোই। কারণ যতই নিজেদের ব্র্যান্ড সম্পর্কে লম্বা-চওড়া কথা বলুক সংস্থাগুলি, প্রিজারভেটিভ ছাড়া তা সংরক্ষণ করাই সম্ভব নয়।

চিকিৎসক সুনীল শর্মার মতে, ‘‘সবচেয়ে ভয়ের কথা হল, বিজ্ঞাপনে যাই প্রচার হোক, ইন্সট্যান্ট নুডলসে মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেটের (এমএসজি) উপস্থিতির কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমনকি থাকতে পারে ট্রেটবিউটিলহাইড্রোকুইনন (টিবিএইচকিউ)-এর মত মৌলও। এগুলি প্রতিটিই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এমএসজি-এর রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্য দিকে টিবিএইচকিউ ক্ষতি করে লিভারের।’’

Advertisement



নুডলসের রাসায়নিক ক্ষতি করছে শরীরের।

সম্পূর্ণ অন্য একটি ভয়ের দিক তুলে ধরছেন পুষ্টিবিদ মালবিকা দত্ত। তাঁর কথায়, ‘‘সুষম খাবার বলতে আমরা যা বুঝি নুডলস একেবারেই তা নয়। নুডলসে থাকে কার্বোহইড্রেট ও প্রচুর ট্রান্স ফ্যাত। শুধু কার্বোহাইড্রেট খেলে সব ঘাটতিগুলি মিটবে না। এ ছাড়া বেশির ভাগ নুডলস তৈরি হয় ময়দা দিয়ে। পুষ্টিবিদদের মতে, ময়দা হজম করা খুব সহজ নয়। অন্য দিকে ময়দা কোলেস্টরেলের সমস্যাও তৈরি করতে পারে। জানেন কি, নুডলস থেকে কী কী রোগ বাসা বাঁধতে পারে শরীরে?

সংরক্ষণে ব্যবহৃত এমএসজি-এর মতো রাসায়নিকের কারণে স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। লিভারের ক্ষতিও হতে পারে টিবিএইচকিউ-এর প্রভাবে। কোলেস্টরেল বেড়ে যেতে পারে। দেখা দিতে পারে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের সমস্যাও।

আরও পড়ুন: বেড়েই চলেছে ওজন, এই সব প্রোটিন দিয়েই রুখে দিন মেদ

তা হলে কি আজই বাদ খাদ্যতালিকা থেকে এই বস্তুটি? গালফোলা, মুখভার শিশুদের জন্যে আশার আলো দেখাচ্ছেন মালবিকাদেবী। রইল সেই টিপ্‌স।

একান্তই নুডল কিনতে হলে বাজার থেকে ময়দার নুডলের পরিবর্তে আটা নুডল কিনুন। মাসে দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে এই খাবার। তবে ইনস্ট্যান্ট নুডল বাদ দেওয়াই স্বাস্থ্যকর। সাধারণ চাউমিনের প্যাকেটও এর থেকে ভাল। কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে যাতে অন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও শিশুর শরীরে যায় তা দেখার দায়িত্ব আপনার। কাজেই নুডলটি তৈরি করুন রংবেরঙের সবজি দিয়ে। শিশুর কাছে খাবারটি আকর্ষণীয় হবে। তেল ব্যাবহারের ব্যাপারে সতর্ক হন। খুব অল্প তেলে গোটা ব্যাপারটা সারার চেষ্টা করুন।

Advertisement