চিপ্স থেকে চানাচুর, লজেন্স নিয়ে তাদের আগ্রহের অন্ত নেই, কিন্তু ভাত-রুটি, তরিতরকারি দেখলেই না খাওয়ার বাহানা শুরু। প্রায় প্রতি ঘরে ছোটদের খাওয়ানো নিয়ে এমন সমস্যার সম্মুখীন হন অভিভাবকেরা। কিন্তু চোখের সামনে যদি সব্জি ফলতে দেখে সে, আগ্রহী হতে পারে খাওয়া নিয়ে। তা ছাড়া, বীজ থেকে গাছ বড় হওয়ার প্রতিটি পর্ব দেখতে পেলে আগ্রহ বাড়বে সবুজে। হবে বিজ্ঞান শিক্ষাও। ছুটির দিনগুলিতে তাকে বাগান নিয়ে ব্যস্ত রাখাও যাবে, কমবে স্ক্রিনটাইম। শুরুটা হোক ফ্রেঞ্চ বিন দিয়ে। কারণ, এই মরসুমে বিন গাছ বড় করতে সমস্যা হবে না।
সঠিক বীজ জরুরি: ফ্রেঞ্চ বিন অথবা বরবটির দানা দিয়ে শুরুটা হতে পারে। গরমে বড় হবে, এমন জাতের বীজ আনতে হবে। নার্সারি থেকে ভাল মানের বীজ আনলে ফলন ভাল হবে।
টব এবং মাটি: বিন বা বরবটি গাছের জন্য ১০ ইঞ্চি টব দরকার, আর প্রয়োজন উপযুক্ত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা। দোআঁশ মাটি এবং বেলে।মাটির মিশ্রণ ভাল। গোবর সার, কোকোপিট মিশিয়ে নিন। জৈব সার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে, গাছ ভাল ভাবে বাড়বে। খুদেকে মাটি মেশানোর কাজটি দিতে পারেন। তারা কিন্তু কাদা, মাটি নিয়ে খেলতে পছন্দ করবে।
আরও পড়ুন:
বীজ বপণ: মাটি প্রস্তুতির পর খুদেকে বলুন বীজ নির্দিষ্ট দূরত্ব বসাতে। মাটি অল্প খুঁড়ে দিন। সেখানে সে একটি একটি করে বীজ বসাবে। উপর থেকে আলগা মাটি দিয়ে ঢেকে জল দিয়ে দিন। উপযুক্ত আলো-হাওয়া পেলে কয়েক দিনের মধ্যেই অঙ্কুরোদগম হবে, পাতা-কাণ্ড গজাবে।
চারা বাড়তে শুরু করলে প্রতি টবে একটি করে মোটা কাঠি পুঁতে দিন। এটি বেয়ে গাছ সোজা ভাবে বাড়বে।
জল-রোদ: চারা বড় হলে ৫-৬ ঘণ্টা সূর্যালোকের প্রয়োজন। জল দিতে হবে মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে। খুদেকে হাতে ধরে জল দেওয়া শেখান। কখন জল দিতে হবে, কখন নয়, বুঝিয়ে দিন। নিজের হাতে যত্ন করলে সন্তানেরও প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
বীজের মানের উপর নির্ভর করবে ফলন। মোটামুটি দুই থেকে আড়াই মাস লাগবে বিন হতে। সন্তানকে দিয়েই সেই বিন তুলতে দিন। তাকে রান্নাও করে দিন। বিন স্টার ফ্রাই করতে পারেন, ঝোলেও সব্জিটি দিতে পারে। নিজের গাছের সব্জির প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হবেই।