বর্ষায় চুলের দেখভালে কোনও ঘাটতি থেকে গেলে পুজোর সময় চুলের যত্নের পাল্লা ভারী হতে থাকে। এমনিতেই বর্ষায় বাতাসের আর্দ্রতার কারণে চুলের গোড়া আলগা হয়ে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। তার উপর মাথার ত্বকে বৃষ্টির জল পরলে তা চুলের পক্ষে ক্ষতিকর। যেহেতু বর্ষা কাটতেই পুজোর মরসুম শুরু তাই বর্ষায় চুলের ক্ষতি না আটকাতে পারলে পুজোয় চুলের হারানো জেল্লা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

চুলের আর্দ্র ভাব কাটাতে কিছু বাড়তি সতর্কতা তাই বর্ষা থেকেই নিতে শুরু করতে হবে। চুলের ধরন সবার এক নয়। এক এক রকম চুলের যত্নের উপায় তাই আলাদা প্রকৃতির হয়। তৈলাক্ত চুলের জন্য যে উপায়ে আস্থা রাখা যায়, শুষ্ক চুলের বেলায় সে উপায়ে ভরসা রাখা যায় না।

বর্ষায় হট অয়েল ট্রিটমেন্ট চুলের যত্নের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কিন্তু চুলের ধরন অনুযায়ী এই যত্ন বদলে যায়। জানেন কি, আপনার চুলে কোন ধরনের হট অয়েল ট্রিটমেন্ট জরুরি? সহজ এই যত্ন বাড়িতেই করতে পারবেন প্রতি দিন। বিশেষ করে চুলে রং করা থাকলে এই হট অয়েল মাসাজ চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। তবে সে ক্ষেত্রে চুল ধোওয়ার জন্য চুলের রং ধরে রাখবে এমন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন: ডায়েটে নেই একটুও স্ট্রবেরি? অজান্তেই এ সব ক্ষতি করছেন

ট্রেকিংয়ে গিয়ে এ সব মেনে চলুন, অসুবিধা সরে পাহাড়ি ভ্রমণ সুখের হবে

বর্ষায় হট অয়েল ট্রিটমেন্ট চুলের যত্নের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শুষ্ক চুল: শুষ্ক চুলে সপ্তাহে তিন দিন নারকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে গরম করে নিন। ওই মিশ্রণ চুলে ও মাথার ত্বকে আলতো মাসাজ করে লাগিয়ে নিন। এর পর শাওয়ার ক্যাপ পরে শুয়ে পড়ুন। সারা রাত ধরে তেল বসতে দিন মাথার ত্বকে। সকালে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনিং করে নিন চুল।

স্বাভাবিক চুল: চুল খুব শুষ্ক বা তেলা কোনওটাই না হয়ে মাঝারি ধরনের হলে আলাদা করে সাপ্তাহিক নিয়মে অয়েল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন পড়ে না। তবে চুলকে ঝলমলে আর সুস্থ রাখতে মাসে দু’ বার হট অয়েল ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। সে ক্ষেত্রেও নারকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েলে ভরসা রাখুন।

তৈলাক্ত চুল: তেলতেলে চুলে আবার তেল মাখার কথা শুনে অবাক লাগতে পারে। তবে মাসে এক বার আমন্ড তেল ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে গরম করে এই ধরনের চুলে মাসাজ করলে চুলের আখেরে লাভ হয়। তবে সে ক্ষেত্রে সারা রাত ধরে চুলকে তেলে মুড়ে না রেখে আধ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলেই যথেষ্ট।