গরমের দিনে ফ্যান চললেও অনেক সময়ে ঘর ঠান্ডা হয় না। ফ্যানকেই তখন কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। তবে দোষী ফ্যান নয়, বরং হাওয়ার খেলার উপরেই সব নির্ভর করছে। ফ্যান কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপরেও বিষয়টি খানিক পরিমাণে নির্ভরশীল। শুধু ফ্যান চালালেই হবে না, তাকে সঠিক জায়গায় বসানো এবং ঘরে বাতাস চলাচলের কৌশলই মূল চাবিকাঠি।
বাতাস চলাচলের কৌশলের নামই ‘ক্রস ভেন্টিলেশন’। সহজ কথায়, ঘরের এক দিক দিয়ে বাতাসের প্রবেশ, অন্য দিকে দিয়ে বাতাসের প্রস্থান। ঠিক এমনই প্রবাহ তৈরি করতে পারলে ঘরের গরম আবহাওয়া আরামপ্রদ হতে শুরু করবে। মূলত বাতাসের চাপের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়েই ঘরের ভিতরে হাওয়া চলাচলের বন্দোবস্ত করা হয়। এর ফলে ঘরের গুমোট ভাব কমানো যায় সহজে।
অনেকেই টেবিল বা কেবিন ফ্যান শুধু নিজের দিকে তাক করে রাখেন। তাতে আদপে ঘরের আবহাওয়া শীতল হয় না। সাময়িক স্বস্তি মিললেও ঘরের গরম বাতাস একই জায়গায় ঘুরতে থাকে। বরং ফ্যানকে জানালার দিকে মুখ করে বসালে সেটি ঘরের গরম বাতাস বাইরে ঠেলে দিতে পারে। তবে ঘরের গরম বাতাস বাইরে বার করার সময়ে সেই শূন্যস্থান নতুন বাতাসে ভরে উঠবে। আর সেই কারণে ঘরে আরও একটি জানালা বা দরজা খোলা রাখতে হবে, যাতে বাইরে থেকে তুলনামূলক ঠান্ডা বাতাস ঘরে ঢুকতে পারে। সেই দুই দরজা বা জানালা মুখোমুখি হলে সবচেয়ে ভাল।
একটি ফ্যান নয়, বরং দু’টি ফ্যান ব্যবহার করলে এই প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়। একটি ফ্যান বাইরে মুখ করে গরম বাতাস বার করবে, আর অন্যটি ভিতরের দিকে তুলনামূলক ভাবে ঠান্ডা বাতাস টানবে। এই ভাবে একটি ‘এয়ার লুপ’ তৈরি করতে হবে ঘরের ভিতরে। গরম বাতাস উপরে ওঠে, তাই একটি উঁচু জানালায় এগজ়স্ট ফ্যান দিয়ে গরম বাতাস বার করুন এবং অন্য একটি নিচু জানালা দিয়ে ঠান্ডা বাতাস ভিতরে আনুন।
ভোরবেলা বা সন্ধ্যায় যখন বাইরের বাতাস তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে, তখন জানালা পুরো খুলে দিলে এই পদ্ধতি সবচেয়ে ভাল কাজ করে। দুপুরের তীব্র গরমে জানালা খোলা রাখলে উল্টে গরম বাতাসই ঘরে ঢুকে পড়তে পারে।