সারা দিনের ক্লান্তি নিয়ে বাড়ি ঢুকলেন। নিজের বিছানাটার দিকে তাকিয়ে বড়ই আরাম বোধ হয়, তাই না? তোষক না হয় খানিক এবড়োখেবড়োই হল। তুলো একটু-আধটু না হয় বেরিয়েই থাকল। কিংবা এমনই পাতলা যে বিছানার বদলে কাঠই ঠেকল পিঠে। তাতে আর কী! বাড়ি ফিরে নিজের বিছানার আরাম নিয়ে কোনও সন্দেহই তৈরি হয় না।
‘পোট্যাটো বেড’ বানানোর কৌশল। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু কল্পনা করুন, আপনি বাড়ি ঢুকলেন, এমন এক বিছানা আপনার সামনে প্রস্তুত করা আছে, যা বেশ নরম, তুলতুলে এবং এবড়োখেবড়ো নয়। যা কেবল আপনার। প্রয়োজনে পাশে কারও জন্য জায়গা করে নেওয়া যেতে পারে অবশ্য।
দুই পরিস্থিতির মধ্যে দ্বিতীয়টি বেশি আরামদায়ক বলে মনে হবে অনেকের। আর তার জন্য নতুন খাটের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই বিস্তর খরচেরও। কেবল দরকার বিছানা করার নয়া কৌশল। আর সেই কৌশলই এখন ট্রেন্ডে। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘পোট্যাটো বেড’। নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা করলে বলতে হবে, এই বিছানা অনেকটা যেন বেক করা বা আলুর মতো, খোসার ভিতরে নরম হয়ে বসে থাকে যা।
ভাল ঘুমের জন্য নানা উপায় হিসেবে নতুন নতুন পন্থা প্রকাশ্যে আসছে আজকাল। ‘পোট্যাটো বেড’ সেই তালিকায় যোগ দিয়েছে। এটি মূলত এমন এক শোওয়ার ব্যবস্থা, যেখানে বালিশ ও কম্বলের স্তর দিয়ে নিজের চারপাশে একটি নরম, আরামদায়ক এক বলয় তৈরি করা হয়। এ ভাবে শরীরকে ঘিরে রাখলে তা নিরাপত্তা ও আরামের অনুভূতি দেয়। ফলে অনেকের এমন জায়গায় ঘুম ভাল হয়। আপনিও সহজেই নিজের ঘরে এমন এক বিছানা তৈরি করতে পারবেন।
কী ভাবে তৈরি করবেন ‘পোট্যাটো বেড’? জেনে নিন ধাপে ধাপে—
১. প্রথমেই ভিত তৈরি করতে হবে। খাটের তোষক হোক বা সোফা, অথবা মেঝেতে বিছানো গালিচা— যে কোনও জায়গাকে ভিত হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখন ধরা যাক, খাটের উপরই ‘পোট্যাটো বেড’ তৈরি করছেন।
২. ইলাস্টিক দেওয়া একটি বিছানার চাদর এমন ভাবে তা পাততে হবে, তা যেন টানটান না হয়। থলে বা বলয়ের আকার নিয়ে খাটের উপর থাকবে সেটি।
৩. এ বার বিভিন্ন আকারের নরম বালিশ সেই বলয়ের ভিতরে ভরে দিতে হবে। চাদরের প্রান্ত ধরে ঠেস দিয়ে রাখুন বালিশগুলি। কুশন, লম্বা বালিশ বা সফট টয়ও ব্যবহার করা যায়।
৪. তার পর বলয়ের মতো বিছানার ভিতরের নিজের শরীরের জন্য আরামদায়ক নরম কম্বল, কাঁথা ইত্যাদি ভরে দিতে হবে। এতে শরীরের চারপাশে একটি বলয়ের মতো বিষয় তৈরি হবে। ইলাস্টিক চাদরের মধ্যে তৈরি হয়ে গেল একটি নরম বিছানা।
এই বিছানা বলয়ের মতো আপনাকে ঘিরে থাকবে, বা বলা ভাল, আলিঙ্গন করে থাকবে। দেখে মনে হবে, রেশমগুটির মধ্যে আরামে শুয়ে আছে শুঁয়োপোকা। তবে এই ধরনের বিছানা সকলের জন্য স্বস্তির না-ও হতে পারে। কারণ এটিতে শোয়ার ভঙ্গি ঠিক থাকে না। তাই ঘাড়ে, কোমরে বা পায়ে ব্যথা থাকলে, সেই সমস্যা গুরুতর হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া খুব গরমের সময়ে কম্বল বা ভারী চাদর শরীর গরম করে দিতে পারে।