মাসের শুরুতে বেতন হাতে এলেই হল! শুরুতে মনে হয়, এ মাসে কোনও অভাব থাকবে না। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই দেখা যায় অ্যাকাউন্ট ও পকেট প্রায় ফাঁকা। আয় কম হোক বা বেশি, কিছু সাধারণ ভুলের কারণে এই ঘটনা প্রতি মাসে ঘটতে থাকে। কিছু অভ্যাস বদলালেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। মাসের শেষ পর্যন্ত হাতে টাকা রাখতে চাইলে কিছু ভুল দ্রুত শুধরে নিতে হবে।
মাসের শেষ পর্যন্ত বেতনের টাকা থাকুক হাতে। ছবি: সংগৃহীত
নীচে এমনই কয়েকটি সাধারণ ভুলের কথা তুলে ধরা হল—
১. বাজেট না বানিয়ে খরচ শুরু করা: হাতে বেতন পেয়েই খরচ শুরু! কিন্তু কোথায় কত খরচ হচ্ছে তার কোনও হিসেব রাখেন না। ফলে মাসের শেষ দিকে গিয়ে টের পাওয়া যায় টাকা প্রায় শেষ। তাই মাসের শুরুতেই আয়-ব্যয়ের একটা পরিকল্পনা করা জরুরি। হয়, ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে, নয়তো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ফোনে বিভিন্ন অ্যাপে মাসের বাজেট করতে হবে। সেই মতো খরচ করতে হবে।
২. যখন-তখন কেনাকাটা করা: অনলাইনে বা দোকানে দেখে হঠাৎ কিছু কিনে ফেলার ইচ্ছে হয়। ছোট ছোট এই খরচগুলি মিলেই মাসের শেষে বড় অঙ্কে পৌঁছে যায়। সে সবের হিসেব করাও হয় না। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমানো তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ বদল। সত্যিই খুব দরকারি কি না, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৩. বেতন বাড়লেই জীবনযাত্রা বদলে ফেলা: অনেকের বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খরচও বেড়ে যায়। এত দিন যা অপ্রয়োজনীয় ছিল, তা হঠাৎ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। নতুন ফোন, দামি খাবার বা অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন, আরও কত কী! এই অভ্যাসে যাপনই বদলে ফেলেন অনেকে। ফলে আয় বাড়লেও সঞ্চয় বাড়ে না।
৪. সঞ্চয়ের পরিকল্পনা না থাকা: অনেকে মনে করেন মাসের শেষে যা থাকবে, তা সঞ্চয় করবেন। কিন্তু মাসশেষে খুব কমই টাকা হাতে থাকে, বা একেবারেই থাকে না। তাই বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু টাকা আলাদা করে রাখার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
৫. জরুরি তহবিল না রাখা: হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরির সমস্যা বা অন্য কোনও জরুরি খাতে খরচের প্রয়োজন পড়ে গেলে আর কুল পাওয়া যায় না। যদি আগে থেকে আলাদা টাকা না রাখা থাকে, তা হলে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন। তাই ছোট করে হলেও একটি জরুরি সঞ্চয় তৈরি করা দরকার।
আরও পড়ুন:
আয় যতই হোক, সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে মাসের শেষে টাকার টান পড়বেই। তাই খরচের হিসেব রাখা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং নিয়মিত সঞ্চয় করার অভ্যাসই আর্থিক স্বস্তির সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।