Advertisement
E-Paper

প্রচুর খাবার খেয়েও ওজন ঝরবে স্থায়ী ভাবে! এমনই এক ডায়েট মেনে চলতে পারেন, কী কী রাখবেন পাতে

প্রচুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সকলের জন্য এই ডায়েট উপযুক্ত নয়। এর কিছু সমস্যাজনক দিকও রয়েছে। তাই এই ডায়েট নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়, পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫৪
পেট ভরে খেয়েও মেদ ঝরবে।

পেট ভরে খেয়েও মেদ ঝরবে। ছবি: সংগৃহীত।

ডায়েট শুরু করতে ভয় পান অনেকেই। শুরুর পর ধরে রাখতেও সক্ষম হন না কেউ কেউ। কারণ ডায়েট মানেই প্রিয় খাবার বাদ এবং কম খাওয়া। অভ্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত এই যাপন অনেকের কাছেই কষ্টকর। ফলে স্থূলত্ব বাড়তে থাকলেও ডায়েটের দিকে ঝুঁকতে ভয় পান। সেখানেই খানিক স্বস্তি নিয়ে আসতে পারে ভলিউমেট্রিক ডায়েট। এটি এমন এক ডায়েট, যেখানে পেট ভরে খেয়েও ক্যালোরি কম গ্রহণ করা সম্ভব। আর ক্যালোরি গ্রহণ কম হলে ওজনও ঝরবে। পেনসিলভানিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞানী বারবারা জে রোলস খিদে, তৃপ্তি এবং খাবারের আচরণ নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করতে গিয়ে এই ধারণা আবিষ্কার করেন ২০০০ সালে। এই ডায়েট কী, কারা করতে পারেন, কোন কোন খাবার খাওয়া যায়, সে সব বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।

ওজন ঝরবে বিশেষ ডায়েটে।

ওজন ঝরবে বিশেষ ডায়েটে। ছবি: সংগৃহীত

কী এই ডায়েট?

এই ডায়েটের মূল কথা খুবই সহজ। কেউ সাধারণত দিনে প্রায় একই পরিমাণ খাবার খেতে অভ্যস্ত। কিন্তু সব খাবারের ক্যালোরি এক রকম নয়। তাই যদি এমন খাবার বেছে নেওয়া যায় যেগুলির ক্যালোরি কম, কিন্তু পরিমাণে বেশি, তবে পেট ভরে খেয়েও মোট ক্যালোরি গ্রহণ কম হবে। ভলিউমেট্রিক ডায়েটের মূল ভিত্তি হল, খাবারের শক্তিঘনত্ব বা ক্যালোরি-ঘনত্ব। অর্থাৎ প্রতি গ্রাম খাবারে কত ক্যালোরি আছে, সেটি দেখতে হবে। যে সব খাবারে জল এবং ফাইবার বেশি থাকে, সেগুলির ক্যালোরি-ঘনত্ব সাধারণত কম হয়। অন্য দিকে তেল, চিনি বা ভাজাভুজিতে ক্যালোরি-ঘনত্ব বেশি থাকে। শাকসব্জি, ফল বা ব্রথ স্যুপের মতো খাবারে ক্যালোরি কম হলেও পরিমাণ বেশি থাকে। কিন্তু ভাজা খাবার, মিষ্টি বা প্যাকেটজাত খাবারে অল্প পরিমাণেই অনেক ক্যালোরি থাকে। তাই এই ডায়েটে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় কম ক্যালোরি-ঘনত্বের খাবারে।

কোন কোন খাবার খাওয়া যায় এই ডায়েট করলে?

এই ডায়েটে খাবারকে সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা হয়

১. এই ভাগে খুব কম ক্যালোরি-ঘনত্বের (প্রতি গ্রামে ০.৬ কিলোক্যালোরির থেকেও কম) খাবারগুলি রয়েছে। যেমন, শাকপাতা, শসা, টম্যাটো, বিভিন্ন বেরি, মাংস সেদ্ধর জল দিয়ে বানানো স্যুপ ইত্যাদি। এই সমস্ত খাবারে জলের পরিমাণ বেশি। ফলে অনেকখানি খেলেও ওজন বাড়বে না এবং পেট দীর্ঘ ক্ষণ ভরা থাকবে।

২. পরের ভাগে রয়েছে তুলনামূলক কম ক্যালোরি-ঘনত্বের (প্রতি গ্রামে ০.৬ কিলোক্যালোরি থেকে ১.৫ কিলোক্যালোরি) খাবার। যেমন, গোটা শস্য, ডাল, কম চর্বির দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ এবং কম চর্বিযুক্ত মাংস। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এগুলির গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে।

৩. তৃতীয় ভাগে মাঝারি মাপের ক্যালোরি-ঘনত্বের (প্রতি গ্রামে ১.৬ কিলোক্যালোরি থেকে ৩.৯ কিলোক্যালোরি) খাবার থাকে। পাউরুটি, চিজ় বা কিছু মিষ্টি এই ভাগে পড়ে। এগুলি সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৪. শেষ ভাগে রয়েছে বেশি ক্যালোরি-ঘনত্বের (প্রতি গ্রামে ৪.০ কিলোক্যালোরির থেকে বেশি) খাবারগুলি। ভাজাভুজি, মাখন, তেল, চিপ্‌স বা মিষ্টির মতো খাবারগুলি পুরোপুরি বাদ না দিলেও খুব কম খাওয়া উচিত।

কী ভাবে কাজ করে এই ডায়েট?

অনন্যা জানাচ্ছেন, এই ডায়েটের নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক ধারণা। তাঁর কথায়, ‘‘যখন বেশি পরিমাণ খাবার পাকস্থলীতে যায়, তখন তা প্রসারিত হয় এবং মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পাঠায়। যে সব খাবারে জল ও ফাইবার বেশি থাকে, সেগুলি পাকস্থলীতে বেশি জায়গা নেয়, ফলে দ্রুত পেট ভরে যায়। আর ত়ৃপ্তির সংকেতও পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে।’’

কাদের জন্য এই ডায়েট নিরাপদ নয়?

প্রচুর উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সকলের জন্য এই ডায়েট উপযুক্ত নয়। এর কিছু সমস্যাজনক দিকও রয়েছে। পুষ্টিবিদের কথায় জানা যায়, সবার পক্ষে খুব বেশি পরিমাণ খাবার খাওয়া সহজ নয়। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে বা পেটফাঁপার প্রবণতা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে এমন ডায়েট। তার উপর ডায়াবিটিসের রোগীদের খাদ্যতালিকায় একাধিক ফল বারণ থাকে। এই ডায়েটে নানা ধরনের ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, সেটা তাঁদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কিন্তু ডায়াবিটিকদের জন্য সঠিক পরিকল্পনা করে দিলে সেটি উপকারী হতে পারে। যাঁরা চটজলদি ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য এই ডায়েট উপযুক্ত নয়। ধীরে ধীরে, স্থায়ী ভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ডায়েট করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফ্যাটের চাহিদা মেটে না এই ডায়েটে। তা ছাড়া যাঁরা স্তন্যপান করাচ্ছেন এবং ইটিং ডিজ়অর্ডার আছে, তাঁরা না করলেই ভাল। তাই পুষ্টিবিদ বার বার মনে করিয়ে দিলেন, এই ডায়েট নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়, পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলে নেওয়া বাধ্যতামূলক।

তবে কম ক্যালোরি ঘনত্বের খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে। কেবল প্রয়োজন সঠিক পরামর্শ।

Diet Plans Diet Tips Healthy Foods Weight Loss Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy